সারাদেশ | The Daily Ittefaq

ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে মিনিবাস চলাচলে নেই নিয়মনীতি

ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে মিনিবাস চলাচলে নেই নিয়মনীতি
তুহিন খান১৭ এপ্রিল, ২০১৮ ইং ১৯:০০ মিঃ
ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে মিনিবাস চলাচলে নেই নিয়মনীতি
ফাইল ছবি
ঢাকা-মানিকগঞ্জ, নবীনগর-কালিয়াকৈর ও গুলিস্থান-ধামরাই রুটে মিনিবাস চলাচলের নির্দিষ্ট কোন নিয়মনীতি নেই। অধিকাংশ যাত্রীই চালক ও হেলপারের স্বেচ্ছাচারিতায় অতিষ্ঠ হয়ে অধিক টাকা খরচ করে অন্য সার্ভিসে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছেন। ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক ছাড়াও অন্যান্য সংযোগ সড়কে পরিবহন শ্রমিকদের হাতে যাত্রী নাজেহালের ঘটনা এখন নিত্যদিনের ঘটনা। এ সকল রুটে কয়েক দফায় গাড়ি ভাড়া বাড়লেও যাত্রী সেবা বৃদ্ধি পায়নি একটুও। এছাড়া এ সড়কে অনুমোদন বিহীন একাধিক পরিবহন বাস সার্ভিস চলাচল করছে বলেও একাধিক অভিযোগ পাওয়া গেছে। 
 
গুলিস্থান-ধামরাই, ঢাকা-মানিকগঞ্জ, নবীনগর-কালিয়াকৈর সড়কপথের অধিকাংশ গাড়ি লক্কর-জক্কর অবস্থায় চলাচল করছে। অনেক মিনিবাসই ভাঙ্গাচোরা ও প্রায় অচল। অনেক গাড়ির ছাদ থেকে মরিচা ও বৃষ্টির পানি পড়ে যাত্রীদের পোশাক নষ্ট হচ্ছে। জানালার গ্লাস ভাঙ্গাসহ কিছু গাড়ির ভাঙ্গা ফ্রন্ট গ্লাস জোড়াতালী দিয়েই ব্যবহার করা হচ্ছে। অধিকাংশ মিনিবাসের আসন এত চাপা যে, পা সোজা করে বসা তো দূরের কথা-ঠিকমতা পা রাখার জায়গাই নেই। এসব গাড়িতে রুট পারমিটে উল্লেখিত আসনের চেয়ে ৫ থেকে ১০টি আসন বেশী স্থাপন করা হয়েছে। অনেক বাসের সিটের কাভারগুলো নোংরা ও দুর্গন্ধময়। যা থেকে ভ্যাপশা দুর্গন্ধ বের হয়। 
 
যত্রতত্র বাস থামিয়ে যাত্রীদের উঠানামা বা নিজেদের খেয়াল-খুশিমত নির্দিষ্ট গন্তব্যে না যেয়ে ড্রাইভার-হেলপারের ইচ্ছামত রাস্তার মাঝপথে গাড়ি থামিয়ে দিয়ে বাস বিকল হওয়ার অজুহাত তুলে যাত্রীদের হয়রানি করা নিত্যদিনের ঘটনা। প্রায় সব বাসেই অতিরিক্ত যাত্রী উঠানোর ফলে অনেককেই দাঁড়িয়ে গন্তব্য যেতে হয়। বাসে প্রতিবন্ধী ও নারীদের জন্য নির্দিষ্ট সিট বরাদ্ধ থাকলেও তার সঠিক ব্যবহারে চেকার, হেলপার ও ড্রাইভারের কোন মাথাব্যাথা নেই। সিটিং সার্ভিসে অতিরিক্ত যাত্রী উঠানো হলেও চেকার তার চেকিং বুকে যাত্রীর পরিমাণ কম উল্লেখ করে। আর এর বিনিময়ে প্রতি স্টপে চেকারকে ১০ টাকা করে বকশিস দেয় বাসের হেলপার। ফলে নামে সিটিং সার্ভিস হলেও বাস্তবে যাত্রীদের ভোগান্তি এবং হয়রানির শিকার হয়ে প্রতিনিয়ত প্রতারিত হতে হচ্ছে। আর কেউ এর প্রতিবাদ করলেই আর রক্ষা নেই তার, অশ্রাব্য গালিগালাজ এমনকি শারীরিক নির্যাতনেরও শিকার হতে হয়। ঢাকা থেকে ফেরার পথে বা ধামরাই থেকে ঢাকা যাওয়ার পথে এসব সার্ভিসের সব বাসই লোকাল হয়ে যায়। অথচ ভাড়া নেওয়া হয় বিরতিহীনের। 
 
সম্প্রতি এ রুটে চলাচলরত “বৈশাখী এক্সপ্রেস” নামের একটি পরিবহনের বিরুদ্ধে বিনা অনুমোদনে চলাচলের অভিযোগ আনে “বৈশাখী পরিবহন লিঃ’’ নামের অপর একটি যাত্রী পরিবহন সার্ভিস। এছাড়া বৈশাখী পরিবহন লি. এর নামের সাথে মিল রেখে ‘বৈশাখী এক্সপ্রেস’ নামের নিবন্ধবিহীন বাস চালাচল করায় ‘বৈশাখী পরিবহনের পরিচালক এসএম কবীর সাভার থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। 
 
অভিযোগ রয়েছে, যাত্রী উঠানোর জন্য নির্দিষ্ট সময় পার হয়ে গেলেও দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় পরিবহনগুলোকে। কিন্তু যাত্রী নামানোর সময় এর বিপরীত চিত্র দেখা যায়। অনেক সময় গাড়ির গতি না কমিয়েই রাস্তার মাঝখানে ঠেলে যাত্রীদের নামিয়ে দেওয়া হয়। এতে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। 
 
রফিকুল ইসলাম নামের এক যাত্রী অভিযোগ করে বলেন, ‘সিটিং সার্ভিস’ নামে চলাচল করলেও প্রতিটি স্ট্যান্ডেই তারা অতিরিক্ত যাত্রী ওঠায়। ফলে অতিরিক্ত যাত্রী তোলায় সৃষ্ট ভিড়ের কারণে বাসে বিড়ম্বনার শিকার হতে হয় নারী, শিশুসহ অন্য যাত্রীদের। বাসের চালক হেলপারদের বিষয়টি বললেও তারা কোন কর্ণপাত করে না। পরিবহন সেবা নিশ্চিতে এ অঞ্চলের যাত্রীসাধারণ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। 
 
ইত্তেফাক/এমআই
 
 
 
 
 
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
১৯ এপ্রিল, ২০১৮ ইং
ফজর৪:১৫
যোহর১১:৫৮
আসর৪:৩১
মাগরিব৬:২৪
এশা৭:৪০
সূর্যোদয় - ৫:৩৩সূর্যাস্ত - ০৬:১৯