সারাদেশ | The Daily Ittefaq

শত শত গাছ মরে যাচ্ছে

শত শত গাছ মরে যাচ্ছে
হাকিমপুর (দিনাজপুর) সংবাদদাতা২০ এপ্রিল, ২০১৮ ইং ১৭:২৮ মিঃ
শত শত গাছ মরে যাচ্ছে
হাকিমপুর উপজেলার প্রায় ২৭টি গ্রামীণ সড়কের দুই পাশে লাগানো শিশু গাছগুলি শুকিয়ে মরে যাচ্ছে। লাখ লাখ টাকার এসব মূল্যবান গাছ মরে গেলেও নিলামে বিক্রি করা হচ্ছে না।
 
ফলে সুযোগ বুঝে রাতের আঁধারে কেটে নিয়ে যাচ্ছে চোরেরা। এতে আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তিন শতাধিক উপকারভোগী। আবার এসব মরা গাছের নিচ দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে পথচারীদের।
 
উপজেলা বন কর্মকর্তা ও জয়পুরহাট ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট কাউন্সিলের (এনডিসি) কার্যালয়ের তথ্য মতে, ১৯৯৬-৯৭ অর্থবছরে সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির আওতায় জয়পুরহাট ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট কাউন্সিল (এনডিসি) হাকিমপুর পৌরসভার ছাতনি, জালালপুর এলাকাসহ উপজেলার আলীহাট ইউনিয়নের সাদুড়িয়া, ভাটরা, হরিহরপুর, ইটাই বাওনা, বাঁশমুড়ি, জাংগই, পালসা, ইসবপুর, বোয়ালদাড় ইউনিয়নের খাট্টাউছনা, বিশাপাড়া, বৈগ্রাম, পাইকপাড়া এবং খট্টামাধবপাড়া ইউনিয়নের নন্দিপুর, সাতকুড়ি, মংলাবাজার, বলরামপুর, ঘনেশ্যামপুর, ডাঙ্গাপাড়া, ঢেলুপাড়া, চৌধুরী ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের ৩৬ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়কের দুই পাশে ৩৬ হাজার শিশুসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রোপন করেছিল। এসব গ্রামের ৩শ উপকারভোগীর মাধ্যমে ১০ বছর মেয়াদে এই গাছগুলি রোপন করা হয়।
 
জয়পুরহাট ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট কাউন্সিলের (এনডিসি) ব্যবস্থাপক আফজাল হোসেন জানান, ২০১০ ও ২০১১ সালে উপজেলা এবং জেলা পরিবেশ ও বন উন্নয়ন কমিটি থেকে গাছগুলি বিক্রির অনুমোদন নেয়া হয়েছিল। সেই সময় নানা কারণে নিলামে বিক্রি করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি পুনরায় বিক্রির ব্যবস্থা নেয়ার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে ২০১৬ সালের ২২ মে আবেদন করা হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। তবে ১০-১২ বছর আগেই গাছগুলি মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে। আর এই সুযোগে রাতের আঁধারে লাখ লাখ টাকার এসব জীবিত ও মরা গাছগুলি চুরি হচ্ছে। এতে করে উপকারভোগীসহ সংশ্লিষ্টরা তাদের প্রাপ্য অর্থ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
 
আলীহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম রসুল বাবু জানান, চুক্তি অনুযায়ী মেয়াদ শেষে গাছ বিক্রির অংশের মোট অর্থ থেকে এনডিসি এনজিও পাবে ২০ভাগ, সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ পাবে ২০ভাগ এবং প্রতি উপকারভোগী পাবেন ৬০ভাগ টাকা।
 
গাছগুলি শুকিয়ে মরে গেছে। এতে লোকজন ঝুঁকি নিয়ে সড়ক দিয়ে চলাচল করছে। গাছগুলি ঝড়-বৃষ্টিতে জমিতে পড়ে ফসলের ক্ষতি হচ্ছে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত গাছগুলি নিলামে বিক্রির উদ্যোগ নিলে উপকারভোগীরা উপকৃত হতেন।
 
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোসা. শুকরিয়া পারভীন বলেন, গাছগুলি নিলামে বিক্রি করে উপকারভোগীসহ সংশ্লিষ্টরা তাদের অর্থ পাবে সেটা আমিও চাই। ২০১০ ও ২০১১ সালে উপজেলা এবং জেলা পরিবেশ ও বন উন্নয়ন কমিটি সভায় গাছ বিক্রির অনুমোদন দেয়া হয়েছিল। কিন্তু ওই এনজিও যথা সময়ে তা উদ্যোগ নেয়নি। বিষয়টি এখন আর আমার কাছে নাই।
 
উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আকরাম হোসেন জানান, আবার নতুন করে আবেদন করা হলে উপকারভোগীদের আর্থিক বিষয়টি বিবেচনা করে গাছগুলি নিলামে বিক্রির ব্যাপারে উদ্যোগ নেয়া হবে।
 
ইত্তেফাক/আরকেজি
 
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২৮ মে, ২০১৮ ইং
ফজর৩:৪৬
যোহর১১:৫৬
আসর৪:৩৫
মাগরিব৬:৪৩
এশা৮:০৫
সূর্যোদয় - ৫:১১সূর্যাস্ত - ০৬:৩৮