সারাদেশ | The Daily Ittefaq

কেসিসি নির্বাচন: আনুষ্ঠানিক প্রচারণায় নামছেন প্রার্থীরা

কেসিসি নির্বাচন: আনুষ্ঠানিক প্রচারণায় নামছেন প্রার্থীরা
এনামুল হক, খুলনা অফিস২৩ এপ্রিল, ২০১৮ ইং ২০:০৫ মিঃ
কেসিসি নির্বাচন: আনুষ্ঠানিক প্রচারণায় নামছেন প্রার্থীরা
এতোদিন বাগযুদ্ধের পর অবশেষে মঙ্গলবার থেকে খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) নির্বাচনের আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচার-প্রচারণা শুরু হয়েছে। আগামী ১৫ মে খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
 
খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে পাঁচজন মেয়র প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের তালুকদার আব্দুল খালেক, বিএনপির নজরুল ইসলাম মঞ্জু, জাতীয় পার্টির (জাপা) এস এম শফিকুর রহমান (এস এম মুশফিকুর রহমান) ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাওলানা মুজাম্মিল হক এবং সিপিবি ও বাসদের নেতৃত্বাধীন পাঁচদলের এসএম মিজানুর রহমান বাবু।
 
দীর্ঘ সাড়ে ১০ বছরেরও বেশি সময় পর খুলনা মহানগরীতে নৌকা ও ধানের শীষ প্রতীকের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখতে উন্মুখ হয়ে আছে সাধারণ মানুষ। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দুই হেভিওয়েট প্রার্থী নিয়ে নগরীতে আলোচনার শেষ নেই।
 
গত ৮ এপ্রিল দেশের প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বি রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মেয়র প্রার্থী চূড়ান্ত হওয়ার পর থেকেই খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি হয়। গত ১২ এপ্রিল মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার পর থেকেই আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক ও বিএনপির মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু নিজেদের ঘর গোছানোর পাশাপাশি একে অপরের বিরুদ্ধে হলফনামায় তথ্য গোপনের অভিযোগসহ নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগ করতে থাকেন। যা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতুহলের সৃষ্টি হয়।
 
ইতিমধ্যে দুই মেয়র প্রার্থীকে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক ও বিএনপির মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে লিখিতভাবে ব্যাখ্যা দেয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে চিঠি দেয়া হয়। যার ব্যাখ্যা সোমবার দুই প্রার্থীর পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনকে দেয়া হয়েছে।
 
নির্বাচনে ভোট ডাকাতির আশঙ্কা মঞ্জুর
কেসিসি নির্বাচনে ভোট ডাকাতির আশঙ্কা করেছে বিএনপির মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম। সোমবার দুপুরে দলীয় কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ আশঙ্কার কথা ব্যক্ত করে সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সেনা বাহিনী মোতায়েন করার দাবি জানান।
 
তিনি বলেন, সিটি নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করার জন্য আমরা নির্বাচন কমিশনে ৯দফা দাবি জানিয়েছিলাম; যার একটিও পূরণ করা হয়নি। তাছাড়া দলীয় পুলিশ প্রশাসন দিয়ে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব হবে না।
 
নজরুল ইসলাম মঞ্জু ভোটের পরিবেশ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শেখ পরিবারের সদস্যরা তৎপর হয়ে উঠেছেন। তারা গভীর রাতে ঊর্ধ্বতন পুলিশ ও সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করায় সবাই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। রাতের বৈঠকের নির্দেশনার পরই পুলিশের ভূমিকা পাল্টে গেছে।
 
ইতিমধ্যে ১৫, ২৪, ৩০ ও ৩১ নম্বর ওয়ার্ডসহ বিভিন্ন এলাকায় দলীয় নেতাকর্মীদের বাড়িতে গিয়ে তল্লাশি চালিয়েছে পুলিশ। হয়রানি করছে। একই সঙ্গে ক্ষমতাসীন দলের ক্যাডাররা ২৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুকের বাড়িসহ অনেকের বাড়িতে গিয়ে হামলা, ভাঙচুর ও হুমকি প্রদর্শন করেছে।
 
প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, এই নির্বাচন যদি অবাধ সুষ্ঠু না হয়; এই নির্বাচনে যদি ভোট ডাকাতি হয়, এটিই হবে সরকারের গলার কাটা। দেশের একটি জাতীয় নির্বাচনের অপেক্ষায় ১৬ কোটি মানুষ এবং সারাবিশ্ব। চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য একটি অংশগ্রহণমূলক অবাধ, সুষ্ঠু নিরপেক্ষ গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দেখতে চায়। এমনকি ভারতও বলেছে অংশগ্রহণমূলক নিরপেক্ষ নির্বাচন। তাই এই নির্বাচনে যদি ভোট ডাকাতি হয়; তাহলে বাংলাদেশে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হবে না। কারণ সরকার যে ভোট ডাকাত, আওয়ামী লীগ যে আগামী নির্বাচনে ভোট ডাকাতি করবে সেটি প্রমাণিত হবে।
 
একই সাথে নির্বাচন কমিশনের কোমর যে শক্ত; যেটি এই নির্বাচনের মধ্যদিয়ে প্রমাণিত হবে। এখানে যদি ভোট ডাকাতি হয়, তাহলে বিএনপি কর্মীরা ঘরে বসে থাকবে না। বিএনপি কর্মীরা প্রস্তুতি নিয়েছে ভোট ডাকাতি প্রতিরোধের। ভোটারদের সঙ্গে নিয়ে সেই ডাকাতদের প্রতিরোধ করা হবে। আমরা কোনভাবেই ভোট ডাকাতি করার সুযোগ দেব না; এমনভাবেই বিএনপি তৈরি হচ্ছে।
 
তালুকদার খালেকের নির্বাচনী ওয়েবসাইট উদ্বোধন
আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক আজ সোমবার তার নির্বাচনী ওয়েবসাইট চালু করবেন। বেলা ১১টায় স্থানীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ ওয়েব সাইট চালু করবেন। মহানগর আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক মুন্সী মাহবুব আলম সোহাগ বলেন, তালুকদার আব্দুল খালেকের নির্বাচনী ওয়েব সাইটে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণাসহ সব ধরনের তথ্য থাকবে।
 
ভিজিল্যান্স টিমের সভা
কেসিসি নির্বাচন উপলক্ষে ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিমের সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা  মো. ইউনুচ আলীর সভাপতিত্বে তার সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
 
সূত্র জানায়, কেসিসি নির্বাচনে অংশগ্রহণকারীরা নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা লঙ্ঘন করছেন কিনা তা পর্যবেক্ষণ করা এই টিমের উদ্দেশ্য। আচরণ বিধিমালা পর্যবেক্ষণের জন্য ইতোমধ্যে সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাসহ সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে চারটি টিম গঠন করা হয়েছে। এই চারটি টিম ভাগ হয়ে নগরীর ৩১টি ওয়ার্ড পর্যবেক্ষণ করবে। আগামী বুধবার থেকে অনুষ্ঠানিকভাবে এ পর্যবেক্ষণ টিম মাঠে কার্যক্রম শুরু করবে।
 
পর্যবেক্ষণ টিম সংশ্লিষ্ট সিটি কর্পোরেশন এলাকায় নির্বাচনী আচরণ বিধি ভঙ্গ হচ্ছে কি না অথবা ভঙ্গ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে কিনা তা সরেজমিনে পরিদর্শন করবে। নির্বাচনী প্রচারণা ও নির্বাচনী ব্যয় বাবদ নির্বাচন বিধিমালার নির্ধারিত সীমার অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে কি না বা অন্যান্য বিধিবিধান যথাযথভাবে পালন হচ্ছে কিনা তা দেখবে। আচরণ বিধিমালা ভঙ্গের কোন বিষয় নজরে আসা মাত্রই বিধি অনুসারে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। অন্যান্য নির্বাচনী বিধি-নিষেধ ভঙ্গের ক্ষেত্রে মামলা দায়েরের ব্যবস্থা গ্রহণ এবং উপযুক্ত ক্ষেত্রে ফৌজদারী আদালতেও অভিযোগ দায়ে করবে। এছাড়া স্থানীয় পরিস্থিতির উপর তিন দিন অন্তর অন্তর পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন রিটার্নিং অফিসারের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনে প্রেরণ করবে।
 
ইত্তেফাক/আরকেজি
 
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২০ অক্টোবর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৪২
যোহর১১:৪৪
আসর৩:৫১
মাগরিব৫:৩২
এশা৬:৪৪
সূর্যোদয় - ৫:৫৮সূর্যাস্ত - ০৫:২৭