সারাদেশ | The Daily Ittefaq

মহাসড়কে যানজট নিরসনে ফেনীতে রেলওয়ে ওভারপাসের ঢাকামুখী লেন চালু

মহাসড়কে যানজট নিরসনে ফেনীতে রেলওয়ে ওভারপাসের ঢাকামুখী লেন চালু
পরশুরাম সংবাদদাতা১৫ মে, ২০১৮ ইং ২১:৩৬ মিঃ
মহাসড়কে যানজট নিরসনে ফেনীতে রেলওয়ে ওভারপাসের ঢাকামুখী লেন চালু
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের যানজট নিরসনে অবশেষে মঙ্গলবার দুপুরে খুলে দেওয়া হলো ফেনীর ফতেহপুরে নির্মাণাধীন চার লেন বিশিষ্ট রেলওয়ে ওভারপাসের ঢাকামুখী লেন। যার পরিপ্রেক্ষিতে ফেনীর অংশে যানজটের অনেকাংশের পরিসমাপ্তি ঘটবে। ফলে মহাসড়কটি ব্যবহারকারীদের ভোগান্তি কমবে, ত্বরাণ্বিত হবে বাণিজ্য। এই উড়াল সেতুর একাংশ চালু হওয়ায় চালক ও যাত্রী সাধারণ অত্যন্ত আনন্দিত এবং খুশি।
 
ওভারপাসের এক লেন খুলে দেয়ার সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ার-ইন চিফ মেজর জেনারেল ছিদ্দিকুর রহমান সরকার, ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন বিগ্রেডের মহাপরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল রেজাউল মজিদ, অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল জাকারিয়া হোসেন, প্রকল্প পরিচালক লে. কর্নেল মো. রোমিও নওরিন খান, নির্মাণ প্রতিষ্ঠান আল আমিন কনস্টট্রাকশনের চেয়ারম্যান কবির আহমদ ভূঁইয়া।
 
পরিবহন নেতা, চালক, যাত্রী, এলাকাবাসী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। ফতেহপুর ওভারপাসটির এক লেন খুলে দেয়ায় ফলে মহাসড়কটিতে যানজট কমবে। চলাচলকারীদের ভোগান্তি কমবে, পড়তে হবে না সীমাহীন দুর্ভোগে। ত্বরাণ্বিত হবে ব্যবসা-বাণিজ্য, গতি পাবে দেশের অর্থনৈতিক ‘লাইফ লাইন’, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক।
 
উল্লেখ্য, ফতেহপুর রেলওয়ে ওভারপাসের দৈর্ঘ ৮৬.৭৯ মিটার, অ্যাপ্রোচ রোডের দৈর্ঘ্য ৭৫৫ মিটার, এর মধ্যে ঢাকার দিকে ৩৪৭ মিটার, চট্টগ্রামের দিকে ৪০৮ মিটার, রাস্তার প্রস্থ দুই দিকে ১০.৮ মিটার, সর্বমোট গার্ডার ৩০টি, পিয়ার ৮টি, পাইল ৪৯০ টি, বিদ্যমান ভুমি হতে গার্ডারের তলদেশের উচ্চতা ৯.৭৩ মিটার। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ১শ ৫ কোটি ৭ লাখ টাকা।
 
সেনাবাহিনী ওভারপাসটির নির্মাণকাজের দায়িত্ব নেয়ার পর তাদের অক্লান্ত পরিশ্রম, নিষ্ঠা ও দায়িত্ববোধের কারণে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে একাংশের কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ে খুলে দিয়ে সেনাবাহিনী তাদের কথা রেখেছে। বাকি অংশটিও তারা অল্প সময়ের মধ্যে খুলে দিতে পারবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন।
 
গত সপ্তাহের বৃহস্পতিবার থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম জাতীয় মহাসড়কের ফতেহপুর ওভারপাস নির্মাণে দীর্ঘসূত্রিতার কারণে দীর্ঘ যানজটের ভোগান্তিতে পড়েন এই পথের যাত্রীরা। ফেনীর অংশে ২৮ কিলোমিটারসহ চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড ও কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম পর্যন্ত প্রায় ১০৫ কিলোমিটার পর্যন্ত তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়ে যাত্রী সাধারণ। হাজার হাজার ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান আটকা পড়ে। এতে কাঁচামালসহ পণ্যবাহী দ্রব্যসামগ্রী নষ্ট হয়ে যায়। চালকদের দুর্ভোগের সীমা ছিল না। তারা ৩ থেকে ৪ দিন রাস্তায় অনাহারে অর্ধাহারে মানবেতর জীবন-যাপন করেছিলেন। আসন্ন রমজানকে কেন্দ্র করে এটি আরো প্রকট হওয়ার কথা ছিল। ঢাকামুখী অংশ খুলে দেয়ার কারণে যাত্রী সাধারণ ও সংশ্লিষ্টরা রেহাই পাবে অসহনীয় জট থেকে।
 
যানজট নিরসনে মহাসড়কের এ অংশে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের অধীনে ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারীতে শিপু বিপিএল নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওভারপাস নির্মাণ কাজ শুরু করে। কার্যাদেশ পাওয়ার তিন বছরে মাত্র ৩০ শতাংশ কাজও শেষ করতে পারেনি তারা। ঠিকাদারের গাফিলতি ও স্থানীয় চাঁদাবাজদের কারণে এক পর্যায়ে ওই ঠিকাদার কাজ ছেড়ে পালিয়ে যায়।
 
পরে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে আল আমিন কনস্ট্রাকশন নামে আরেকটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ২০১৭ সালের এপ্রিল মাসে কাজটি দেওয়া হয়। গত বছরের এপ্রিল থেকে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ওভারপাসটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়।
 
ইত্তেফাক/কেআই
 
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৩৩
যোহর১১:৫২
আসর৪:১৩
মাগরিব৫:৫৭
এশা৭:১০
সূর্যোদয় - ৫:৪৭সূর্যাস্ত - ০৫:৫২