সারাদেশ | The Daily Ittefaq

৪৮ বছরেও মেলেনি স্বীকৃতি, ভিক্ষা করে সংসার চলে মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাকের

৪৮ বছরেও মেলেনি স্বীকৃতি, ভিক্ষা করে সংসার চলে মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাকের
মাগুরা প্রতিনিধি২৩ মে, ২০১৮ ইং ১৬:৪২ মিঃ
৪৮ বছরেও মেলেনি স্বীকৃতি, ভিক্ষা করে সংসার চলে মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাকের

মাগুরায় ভিক্ষা করে সংসার চলে মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাকের। মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় নাম না ওঠায় ভাতা না পেয়ে এইভাবে তার জীবন চলে। মাগুরা সদর উপজেলার নিজনান্দয়ালী গ্রামের পশ্চিমপাড়ায় বসবাস করেন মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক শেখ। তার পিতার নাম মৃত খুরোন শেখ। মাতা মৃত নেছারন বেগম। তার জন্ম ১৯৪৭ সালে। তিনি এক ছেলে ও এক মেয়ের জনক। একমাত্র ছেলে চানাচুর ভাজা বিক্রি করেন। মেয়ের বিয়ে হয়েছে বাড়ির পাশে।

আব্দুর রাজ্জাক শেখ জানান, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতের বনগাঁ কাঠালবাগান এলাকায় প্রশিক্ষণ গ্রহন শেষে ঝিনাইদহের শৈলকুপায় যুদ্ধকালীন কমান্ডার রহমত আলী মন্টুর নেতৃত্বে শৈলকুপার আলফাপুর, কুমিরাদাহ, আবাইপুর ও বাগনি এলাকায় সম্মুখ যুদ্ধে অংশ নেন। এ সময় তার সহযোদ্ধা নজরুল ইসলাম শহীদ হন।

স্বাধীনতার পর এতদিন পার হলেও তার নাম মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় ওঠেনি এবং রাষ্টীয় কোন ভাতা না পাওয়ায় অভাবের কারনে ভিক্ষা করে তার সংসার চলে। সারাদিন ঘুরে দুই থেকে তিনশত টাকা আয় করেন। তা দিয়ে তার সংসার চলে। সম্প্রতি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে তাকে দুটি খাট ও বিছানাপত্র দেওয়া হয়েছে।

আব্দুর রাজ্জাক শেখ আরও জানান, তৎকালীন মুক্তিযোদ্ধা সংসদের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ আব্দুল আহাদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত তার মুক্তিযোদ্ধার পরিচয় পত্র রয়েছে। সেখানে তার কার্ড নম্বর ১১০৪৭। তিনি দীর্ঘদিন মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত ও রাষ্ট্রীয় ভাতার জন্য আবেদন করলেও আজো তার কপালে কোন ভাতা জোটেনি।


মাগুরা জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার-১ এ এস এম আব্দুর রহমান, জেলা ইউনিট কমান্ডের প্রচার কমান্ডার হুমায়ুন কবির ও মাগুরা সদর উপজেলার আঠাখাদা ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বিমল বিশ্বাস বলেন, আব্দুর রাজ্জাক মুক্তিযোদ্ধা কি না আমরা জানি না। কারণ, মাগুরায় সে কোন আবেদন করেননি এবং মাগুরার তালিকায় তার নাম নেই।

ঝিনাইদহের শৈলকুপার মুক্তিযোদ্ধা, যুদ্ধকালীন কমান্ডার রহমত আলী মন্টু বলেন, আব্দুর রাজ্জাক শেখ আমার সঙ্গে দুই মাসের বেশি সময় যুদ্ধ করেছেন এজন্য আমি তাকে মুক্তিযোদ্ধা প্রত্যয়ন পত্র দিয়েছি। শৈলকুপা থেকে অনলাইনের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে অন্তভুক্তির আবেদন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

ইত্তেফাক/নূহু

এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৩২
যোহর১১:৫২
আসর৪:১৪
মাগরিব৫:৫৮
এশা৭:১১
সূর্যোদয় - ৫:৪৭সূর্যাস্ত - ০৫:৫৩