সারাদেশ | The Daily Ittefaq

'৪০ নারীকে রাতে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যেত'

'৪০ নারীকে রাতে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যেত'
'৪০ নারীকে রাতে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যেত'
পরিবারে সচ্ছলতা আনতে এক মাস আগে চাকরি নিয়ে সৌদি আরব গিয়েছিলেন মাজেদা বেগম। কিন্তু তার ভাগ্যে চাকরির পরিবর্তে জুটেছে নির্যাতন। সৌদি আরবে নিয়ে একটি চক্র তাকে আটকে রেখে মুক্তিপণের দাবিতে বিভিন্ন নির্যাতন চালাত বলে জানিয়েছেন মাজেদা।
 
গতকাল বৃহস্পতিবার সৌদি ফেরত মাজেদা বেগমরে সঙ্গে কথা হলে তিনি রোমহর্ষক নির্যাতনের কথা জানান। তার বাড়ি টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার বানিয়ারছিট গ্রামে। কিন্তু তিনি নানা ভয়ে নিজের বাড়িতে না ওঠে উপজেলার হলুদিয়াচালা গ্রামের ভগ্নীপতি আশ্রাফ আলীর বাড়িতে উঠেছেন। আজ শুক্রবার বিকেলে ওই বাড়িতে গিয়ে কথা হয় মাজেদার সঙ্গে। তিনি জানান, গতকাল সকাল ৯টায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামেন। দুপুর আড়াইটায় তিনি ভগ্নীপতির বাড়িতে পৌঁছান।
 
মাজেদা বেগম বলেন, 'আমাকে সৌদির রিয়াদের একটি ঘরে আটকে রেখে পাশবিক নির্যাতনসহ বিভিন্নভাবে নির্যাতন চালানো হতো।' তিনি আরও বলেন, 'আমার সঙ্গে আরও ৪০ জন নারী ছিলেন। তাদের রাতে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হতো। অনেক সময় পর ওই রাতেই আবার ঘরে এনে মারধর করা হতো। সেখানে একবেলা শুধু লবণ দিয়ে খাবার দিত। আমি আর কাউকে বিদেশ যেতে দেব না।' তিনি তার সঙ্গে থাকা ওই নারীদের রক্ষারও দাবি জানান। মাজেদা বেগমকে ঢাকার একটি এজেন্সির মাধ্যমে সৌদি আরবে পাঠায় টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার বানিয়ারছিট গ্রামের স্থানীয় দালাল সাইফুল ইসলাম। তিনি একই এলাকার মহর আলীর ছেলে ও সাবেক ইউপি সদস্য।
 
মাজেদা বেগমের মেয়ে শম্পা আক্তার বলেন, 'সৌদি পাঠানোর প্রায় ১৫দিন পরেও তার মা মাজেদা বেগমের কোনও খবর পাচ্ছিল না তারা। হঠাৎ একদিন বাড়িতে মাজেদা বেগম ফোন দিয়ে কাঁদতে কাঁদতে বলেন, 'আমাকে দেশে ফেরত নিয়ে যাও। আমাকে রিয়াদ শহরের একটি ঘরে আটকে রেখে মারধর করছে ওরা। তিনি সেসময় আরও জানিয়েছিলেন, বেশ কয়েকজন নারীকেও এখানে একসঙ্গে আটকে রেখে নির্যাতন করা হচ্ছে।' শম্পা আক্তার বলেন, 'সাইফুল দালাল আমার মাকে সৌদি পাঠায়। সেখানে যাওয়া বাবদ ৬০ হাজার টাকা দেওয়ার কথা ছিল। ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে সাইফুল দালালকে নগদ ৩৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়। বাকি টাকা বেতন থেকে কেটে নেয়ার কথা ছিল। মাকে সৌদি নিয়ে সাইফুল দালালের লোকজন আটকে রাখে। মাকে দেশে ফেরত আনতে এক লাখ ৬০ হাজার টাকাও দাবি করেছিল সাইফুল।'
 
সম্পা আক্তার বলেন, ‘কয়েকদিন আগে সাইফুল তাদের বি.এ অ্যাসোসিয়েটসে আমাদের নিয়ে যায়। সেখানেও এক লাখ ৬০ হাজার টাকা দাবি করা হয়।' স্থানীয় ইউপি সদস্য কিসমত আলী জানান, মাজেদার পরিবারটি অত্যন্ত দরিদ্র। মাজেদার স্বামী দিনমজুর খাটতো এখন অসুস্থ। শুনেছি মাজেদা বেগমকে সৌদিতে আটকে রেখে নির্যাতন চালানো হচ্ছে।
 
তবে, অভিযুক্ত স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলাম মুক্তিপণ হিসেবে এক লাখ ৬০ হাজার টাকা চাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করলেও মাজেদার ওপর সৌদিতে নির্যাতনের কথা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, 'ঢাকার নয়াপল্টনের বি.এ অ্যাসোসিয়েটসের মাধ্যমে মাজেদা বেগমকে সৌদি আরবে পাঠানো হয়েছে। জেনেছি সেখানে তাকে নির্যাতন চালানো হয়েছে।' মাজেদা বেগমকে তার চেষ্টায় সৌদি থেকে দেশে ফেরত আনা হয়েছে বলে সাইফুল জানান।
 
এ ব্যাপারে সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এস এম তুহীন বলেন, 'এ বিষয়ে নির্যাতনের শিকার ওই নারী অভিযোগ দিলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।'
 
ইত্তেফাক/এসএস
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
১৯ অক্টোবর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৪২
যোহর১১:৪৪
আসর৩:৫২
মাগরিব৫:৩৩
এশা৬:৪৪
সূর্যোদয় - ৫:৫৭সূর্যাস্ত - ০৫:২৮