সারাদেশ | The Daily Ittefaq

ঐতিহাসিক শোলাকিয়ায় ঈদের নামাজ শুরু সকাল ১০টায়

ঐতিহাসিক শোলাকিয়ায় ঈদের নামাজ শুরু সকাল ১০টায়
দিনাজপুরে দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম ঈদ জামাতের প্রস্তুতি সম্পন্ন
ইত্তেফাক ডেস্ক১৫ জুন, ২০১৮ ইং ০২:৩৪ মিঃ
ঐতিহাসিক শোলাকিয়ায় ঈদের নামাজ শুরু সকাল ১০টায়

দেশের সর্ববৃহত্ ঈদুল ফিতরের নামাজের জন্য জেলা শহরের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহের প্রস্তুতি সম্পন্ন। এবছর এই ঈদগাহে ঈদুল ফিতরের ১৯১তম জামাত সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হবে। অন্যান্য বছর এই জামাতে আনুমানিক তিন লাখ লোক নামাজ আদায় করেন। ২০১৬ সালে ঈদুল ফিতরের নামাজ শুরুর ঘণ্টাখানেক আগে ঈদগাহের বাইরে জঙ্গি হামলার ঘটনাকে মাথায় রেখে এবছরও গ্রহণ করা হয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। উক্ত হামলায় দুইজন পুলিশ কনস্টেবল, এক গৃহবধূ ও এক জঙ্গি নিহত হন। এ বছর আগে থেকেই ঈদগাহ ও এর আশপাশের এলাকাকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। ঈদের দিন ঈদগাহসহ পুরো এলাকাকে ১০টি সেক্টরে ভাগ করে চার স্তরে নিরাপত্তা প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এই প্রথমবারের মতো ঈদুল ফিতরের জামাতের নিরাপত্তায় যুক্ত হচ্ছে ড্রোন। তিনটি ড্রোন ক্যামেরার মাধ্যমে ঈদগাহ ও এর আশপাশের এলাকা নিবিড় পর্যবেক্ষণের আওতায় আনা হবে। এদিকে দিনাজপুরের গোর-এ শহীদ বড় ময়দানে দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম ঈদ জামাতের আয়োজন করা হয়েছে।

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি সুবীর বসাক জানান, ইতোমধ্যে মাঠের মধ্যে কাতারের জন্য লাইন টানা, মিম্বর এবং দেয়ালে চুনকামের কাজও শেষ হয়েছে। মাঠের আগাছা সাফ এবং মাঠের মধ্যে ছোট ছোট গর্তে জমে থাকা পানি অপসারণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। মাঝে মাঝে হাল্কা বর্ষণে মাঠের প্রস্তুতির কাজ কিছুটা ব্যাহত হয়েছে। স্থায়ী ওজুখানা ছাড়াও মুসল্লিদের জন্য সংলগ্ন পুকুরগুলোর ওপর মাচা বেঁধে অস্থায়ী ওজুখানার বন্দোবস্ত করা হয়েছে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ মাঠের চারদিক জুড়ে অস্থায়ী নলকূপ স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

 পুলিশ সুপার মোঃ মাশরুকুর রহমান খালেদ জানান, ঈদগাহে নামাজ পড়তে আসা মুসল্লিদের নিরাপত্তার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে জেলা পুলিশ প্রশাসন। ঈদের দিন মাঠে চার স্তর বিশিষ্ট নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হবে এবং নিরাপত্তার দায়িত্বে মাঠে ও মাঠের বাইরে পুলিশ ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের প্রায় ১১০০ সদস্য দায়িত্ব পালন করবে। প্রবেশ পথে আর্চওয়ে থাকবে। মাঠে ও মাঠের বাইরে পর্যাপ্ত সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। বিভিন্ন চেকপোস্টে ও বিভিন্ন গেইট দিয়ে মুসল্লিরা প্রবেশ করার সময় মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে তল্লাশি করা হবে। জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী জানান, দূর-দূরান্ত থেকে আগত মুসল্লিদের থাকার ব্যবস্থা এবং তাদের ইফতার ও সেহরির ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

 মুসল্লিদের আসা-যাওয়ার সুবিধার্থে ঈদের দিন বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ‘শোলাকিয়া স্পেশাল’ নামে দু’টি বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। একটি ট্রেন ময়মনসিংহ থেকে ভোর ৫-৪৫ মিনিটে ছেড়ে যাবে এবং কিশোরগঞ্জ এসে পৌঁছবে ৮টা ৪৫ মিনিটে। অপর ট্রেনটি ভৈরব থেকে ছেড়ে আসবে ভোর ৬টায় এবং কিশোরগঞ্জ এসে পৌঁছবে সকাল ৮টায়। নামাজ শেষে উভয় ট্রেন স্ব স্ব গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে বেলা ১২টায়। তবে দূর-দূরান্তের মুসল্লিরা ইতোমধ্যেই শহরে আসতে শুরু করেছে। তারা আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে, হোটেলে কিংবা শহর ও আশপাশের বিভিন্ন মসজিদে এসে উঠেছে। বেসরকারি টিভি চ্যানেল আই প্রতি বছরের ন্যায় সকাল পৌনে দশটা থেকে ঈদ জামাতের অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচার করবে।

ঈদগাহে উপস্থিত রেওয়াজ অনুযায়ী মুসল্লিদের প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য সতর্ক সংকেত হিসেবে পাঁচ মিনিট পূর্বে ৩টি, তিন মিনিট আগে ২টি ও এক মিনিট আগে ১টি বন্দুকের গুলি ছোড়া হবে। জামাতে ইমামতি ও খুতবা পাঠ করবেন বাংলাদেশ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সাবেক পরিচালক, বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ ও ইসলাহুল মুসলিমিন পরিষদের চেয়ারম্যান মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসউদ। বিকল্প ইমাম হিসেবে নির্ধারিত করে রাখা হয়েছে জেলা শহরের বড়বাজার জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা মোঃ সোয়াইব ও মারকাস মসজিদের ইমাম মাওলানা হিফজুর রহমানকে।

দিনাজপুরে দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম

ঈদের জামাতের প্রস্তুতি

দিনাজপুর থেকে স্টাফ রিপোর্টার মতিউর রহমান জানান, দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম ঈদের জামাতের আয়োজন করা হয়েছে দিনাজপুর গোর-এ শহীদ বড় ময়দানে।

পবিত্র ঈদ-উল ফিতরের নামাজ উপলক্ষে দিনাজপুর শহরের গোর-এ শহীদ বড় ময়দানে দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম ঈদের জামাতের আয়োজনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। সকাল ৯টায় প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে। ২০১৬ সালের ঈদ-উল ফিতর নামাজে প্রায় ৩ লক্ষাধিক ও ২০১৭ সালের প্রধান জামাতে ৫ লক্ষাধিক মুসল্লির সমাবেশ ঘটে। জেলা প্রশাসন ও পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, এবারের ঈদ-উল ফিতরের প্রধান জামাতে ৮ লক্ষাধিক মুসল্লির উপস্থিতি আশা করা হচ্ছে। এই লক্ষ্যে ১ মাস ধরে জেলার ১৩টি উপজেলাসহ পার্শ্ববর্তী ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, নীলফামারী ও গাইবান্ধা জেলার বিভিন্ন পর্যায়ে সভা করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ইমাম, খতিব, আলেম, মাশায়েখদের নিয়ে একাধিকবার ঈদের জামাতের প্রস্তুতির ব্যাপারে সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ঈদের জামাতে নিরাপত্তা বিধানের দায়িত্ব পালন করবে র্যাব, পুলিশ, আনসার এবং সাদা পোশাকের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ঈদের জামাত অনুষ্ঠানে ঈদগাহের ভূমি সমতলসহ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, মাইক, পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশনের যাবতীয় ব্যবস্থা সম্পন্ন করা হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে বৃহত্তম ঈদগাহর উদ্যোক্তা ও পরিকল্পনাকারী জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম, জেলা প্রশাসক ড. আ ন ম আবদুছ ছবুর, পুলিশ সুপার মোঃ হামিদুল আলম, র্যাবের স্থানীয় ক্যাম্প কমান্ডার মেজর তালুকদার নাজমুছ সাকিবসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ঈদগাহ ময়দান পরিদর্শন করেন।

ইত্তেফাক/নূহু

এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২২ জুন, ২০১৮ ইং
ফজর৩:৪৩
যোহর১২:০০
আসর৪:৪১
মাগরিব৬:৫১
এশা৮:১৬
সূর্যোদয় - ৫:১১সূর্যাস্ত - ০৬:৪৬