সারাদেশ | The Daily Ittefaq

হেলাল উদ্দিন ভূঁইয়ার কুমিল্লার বাড়িতে শোকের মাতম

হেলাল উদ্দিন ভূঁইয়ার কুমিল্লার বাড়িতে শোকের মাতম
কুমিল্লা প্রতিনিধি১৮ জুন, ২০১৮ ইং ১৬:০১ মিঃ
হেলাল উদ্দিন ভূঁইয়ার কুমিল্লার বাড়িতে শোকের মাতম
২০০৪ সালের ১ এপ্রিল রাতে চট্টগ্রামে দশ ট্রাক অস্ত্র উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয়া ট্রাফিক পুলিশের তৎকালীন সার্জেন্ট এবং বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দর এলাকার ট্রাফিক পুলিশের পেট্রোল ইন্সপেক্টর (পিআই) হেলাল উদ্দিন ভূঁইয়া সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। রবিবার দুপুর পৌনে ২টার দিকে ফেনীর রামপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর সন্ধ্যায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার কেরণখাল ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের আমীর আলী ভূইয়া মাস্টারের ছেলে। ফেনী জেলা পুলিশ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
 
এদিকে পিআই হেলালের মৃত্যুর খবরে তার পরিবার ও স্বজনদের মাঝে চলছে শোকের মাতম। এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া নেমে আসে। তবে তার পরিবারের লোকজন এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড উল্লেখ করে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
 
ফেনী জেলা ট্রাফিক পুলিশের ইন্সপেক্টর মীর গোলাম ফারুক জানান, চট্টগ্রাম বন্দর এলাকার ট্রাফিক পুলিশের ইন্সপেক্টর হেলাল উদ্দিন ভূঁইয়া তার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার চান্দিনা থেকে রবিবার নিজে প্রাইভেটকার (চট্ট-মেট্রো-গ-১১-৫১৪১) চালিয়ে চট্টগ্রামে কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে দুপুর পৌনে ২টার দিকে ফেনী জেলার রামপুর এলাকায় পৌঁছুলে তার গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি গাছের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা লাগে। এতে ওই প্রাইভেটকারের সামনের অংশ দুমড়ে মুচড়ে যায় এবং তিনি গুরুতর আহত হন।
 
তাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর সন্ধ্যা ৬টার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সোমবার ওই হাসপাতালে তার মরদেহের ময়নাতদন্ত হয়। ঘাতক গাড়িটি উদ্ধার করা হয়েছে বলে গোলাম ফারুক জানিয়েছেন। 
 
পিআই হেলাল উদ্দিন ভূঁইয়ার পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ওই ঘটনার পর তৎকালীন সরকার তাকে হয়রানীমূলক বদলীসহ মানসিকভাবে নির্যাতন করেছিল। ওই সময় তাকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হতো বলে তারা দাবি করেন। তার পরিবার ও স্বজনদের দাবি, এটি সড়ক দুর্ঘটনা নয়, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তারা সরকারের নিকট এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন। 
 
সোমবার বিকাল ৩টায় চান্দিনা থানার ওসি মুহাম্মদ শামছুল ইসলাম জানান, সকালে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে নিহতের ময়নাতদন্ত করার পর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাদ আসর গ্রামের বাড়িতে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করার কথা রয়েছে।
 
তার পরিবারের বরাত দিয়ে স্থানীয় কেরণখাল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. হারুন অর রশিদ জানান, হেলাল উদ্দিন ভূঁইয়া অত্যন্ত শান্ত স্বভাবের ছিলেন। তার মৃত্যুতে আমরা শোকাহত। এ দুর্ঘটনার সঙ্গে অন্য কোনো বিষয় আছে কি-না তা তদন্ত করে বের করার জন্য তিনি দাবি জানিয়েছেন।
  
উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম ইউরিয়া সার কারখানার ঘাটে ২০০৪ সালের ১ এপ্রিল রাতে দশ ট্রাক অস্ত্র খালাসের সময় ঘটনাস্থলে প্রথম উপস্থিত হন তৎকালীন সার্জেন্ট ও কয়লার ডিপো ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হেলাল উদ্দীন ভূঁইয়া। পরে তার মাধ্যমে খবর পেয়ে অন্যান্য সিনিয়র কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান। এ ঘটনায় কর্ণফুলী থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহাদুর রহমান বাদী হয়ে চোলাচালান ও অস্ত্র আইনে পৃথক ২টি মামলা দায়ের করেন। 
 
২০১৪ সালের ৩০ জানুয়ারি এ মামলায় আদালত সাবেক শিল্পমন্ত্রী ও জামায়াত নেতা মতিউর রহমান নিজামী এবং বিএনপি নেতা ও সাবেক স্বরাস্ট্রমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ১৪ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও পাঁচ লাখ টাকা করে জরিমানা এবং অস্ত্র আইনের মামলায় তাদের সবাইকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন আদালত।
 
ইত্তেফাক/নূহু
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৩৪
যোহর১১:৫১
আসর৪:১১
মাগরিব৫:৫৪
এশা৭:০৭
সূর্যোদয় - ৫:৪৮সূর্যাস্ত - ০৫:৪৯