সারাদেশ | The Daily Ittefaq

৯০ বছর বয়সেও থামেনি রাজ্জাক মিয়ার জীবিকা নির্বাহের সংগ্রাম

৯০ বছর বয়সেও থামেনি রাজ্জাক মিয়ার জীবিকা নির্বাহের সংগ্রাম
মুরাদনগর (কুমিল্লা) সংবাদদাতা০৩ জুলাই, ২০১৮ ইং ১৪:১৭ মিঃ
৯০ বছর বয়সেও থামেনি রাজ্জাক মিয়ার জীবিকা নির্বাহের সংগ্রাম
 
মাথায় বোঝা আর হাতে ব্যাগ নিয়ে হেটে এসে সবজি বিক্রি করে জীবিকানির্বাহ করেন ৯০ বছর বয়সী বৃদ্ধ আব্দুর রাজ্জাক। প্রতিদিন এক মাইল পথ পাড়ি দিয়ে কুমিল্লা মুরাদনগর উপজেলার কোম্পানীগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের সামনে সবজি নিয়ে বসেন। ৮ বছর বয়স থেকে শুরু হওয়া আব্দুর রাজ্জাকের জীবন সংগ্রাম এখনও চলছে। আজ বয়সের ভারে কুঁজো হয়ে গেছেন, চামড়ার ভাঁজ পড়েছে। অথচ ৯০ বছর বয়স হলেও বয়স্ক বাতার কার্ড জোটেনি তার ভাগ্যে।
 
আব্দুর রাজ্জাক উপজেলার গুনজর দক্ষিণ পাড়া গ্রামের মৃত্যু কফিল উদ্দিনের ছেলে। কাজ করার শক্তি নেই তারপরও কারো কাছে হাত পাতেন না। তাই জীবিকা নির্বাহের তাগিতে জীবনের অন্তিম মুহূর্তে এসে ফুটপাতে সবজি বিক্রি করেছেন। অথচ দেশ নিম্নআয়ের দেশ থেকে নিম্ন-মধ্য আয়ে উত্তোলনে, রাস্তা-ঘাট, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও প্রযুক্তির ব্যাপক পরিবর্তন হলেও আব্দুর রাজ্জাকের মতো এমন অনেক বৃদ্ধার ভাগ্য আজও পরিবর্তন হয়নি। 
 
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আব্দুর রাজ্জাকের বয়স যখন ৮ বছর তখনই কলেরা রোগে আক্রান্ত হয়ে মা-বাবার এক সাথে মৃত্যু হয়। এর পর থেকে শুরু হয় তার জীবন সংগ্রাম। মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে খেয়ে না খেয়ে বড় হয়েছেন। লেখা-পড়া করার সুযোগ হয়নি বলে কোন চাকরি পায়নি। যখন যেখানে যে কাজ পেয়েছেন তাই করেছেন। সংসার জীবনে পাঁচ সন্তানের জনক, কিন্তু অভাবের সাথে লড়াই করা এখনো শেষ হয়নি। বয়স্ক ভাতাও জুটেনি তার ভাগ্যে। আর কত বছর হলে বয়স্ক ভাতা পাবে তাও জানা নেই তার। ৩ মেয়ের মধ্যে ২ মেয়ের বিয়ে হয়েছে। দুই ছেলে কাঁচা মালের ব্যবসা করে। ছেলেরা বিয়ে করে অনেক আগেই পৃথক সংসার করছেন। বড় মেয়ের বয়স ৪৫ হলেও  বুদ্ধি প্রতিবদ্ধী হওয়ায় তার বিয়ে হয়নি। ছেলে মেয়েরা আজ তারা কেহই বাবা রাজ্জাক মিয়ার কোন খোজ-খবর না রাখায় প্রতিবন্ধী মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে একসাথে থাকছেন।
 
আব্দুর রাজ্জাক আক্ষেপ করে আরো বলেন, এক সময় তিনি অনেক কাজ করতেন। কিন্তু বয়স ও শারীরিক অসুস্থতার কারণে আজ কাজ করতে পারিনা। সে কারণে কোন বেলায় আহার জোটে আবার কোন বেলায় কাটে অনাহারে। শুনেছি সরকার বয়স্ক ভাতার কার্ড দিচ্ছে সেটাও আমার ভাগ্যে জোটেনি।
 
এ বিষয়ে নবীপুর পূর্ব ইউপি চেয়ারম্যান আবুল খায়ের বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। সে কখনো আমার কাছে আসেনি। তবে আগামীতে তার জন্য একটি কার্ড ব্যবস্থা করা হবে।
 
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিতু মরিয়ম জানান, কার্ড প্রাপ্তির বিষয়টি দ্রুত নিশ্চিত করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
 
ইত্তেফাক/মোস্তাফিজ
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৩৩
যোহর১১:৫১
আসর৪:১২
মাগরিব৫:৫৫
এশা৭:০৮
সূর্যোদয় - ৫:৪৮সূর্যাস্ত - ০৫:৫০