সারাদেশ | The Daily Ittefaq

আপন ভাইকে হত্যা করে অজ্ঞাতদের নামে মামলা

আপন ভাইকে হত্যা করে অজ্ঞাতদের নামে মামলা
ওসমানীনগর (সিলেট) সংবাদদাতা১৭ জুলাই, ২০১৮ ইং ২১:১২ মিঃ
আপন ভাইকে হত্যা করে অজ্ঞাতদের নামে মামলা

দীর্ঘ ২০ বছর সৌদি আরবে ছিলেন মাসুক মিয়া। বিদেশে থাকাবস্থায় পরিবারের সকল ব্যয়ভার বহন করেছেন তিনি। বিদেশে থাকা অবস্তায় মাসুক মিয়াসহ পাঁচ ভাইয়ের নামে ৭৯ শতাংশ জমিও কেনেন। দুই বছর আগে দেশে এসে জানতে পারেন পাঁচ ভাইয়ের নামে খরিদ করা সম্পত্তি অন্য ভাইয়েরা বিক্রি করে দিয়েছেন। এতে মাসুক মিয়া ক্ষুব্ধ হয়ে পরিবারের খরচ বন্ধ করে দেন। বিদেশ না ফিরতে অভিমানে নিজের পাসপোর্টও ছিঁড়ে ফেলেন। জায়গা বিক্রি করে দেওয়ার জন্য ভাইদের বিরুদ্ধে দেওয়ানি আদালতে একটি মামলাও করেন তিনি। মামলার রায় তার পক্ষে যাবে এবং সব সম্পদ থেকে তারা বঞ্চিত হবে এমন শঙ্কা থেকে মাসুক মিয়ার আপন ভাই আলফু মিয়া নিজ ভাইকে হত্যার পরিকল্পনা করে। পরে অপর ভাইদেরও এই পরিকল্পনায় সামিল করে। পরিবারের সব সদস্যকে নিয়ে বসে হত্যার পরিকল্পনা বাস্তবায়নও করে তারা।

এরপর নিজের ভাইকে হত্যা করে বিচার চেয়ে থানায় মামলাও করেন নিহতের ভাই আলফু মিয়া। নিহত মাসুক মিয়ার অন্য ভাইয়েরাসহ পরিবারের সদস্যরা সন্দেভাজন হিসেবে পুলিশের হাতে আটক হন। আটকের পর তারা থানা পুলিশ এবং আদালতে আপন ভাইকে হত্যার দ্বায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

এমনি এক লোমহর্ষক ঘটনা ঘটেছে সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার গুপ্তপাড়া গ্রামে। সম্পদের লোভে আপন ভাইকে হত্যার দায় স্বীকার করেন নিহত শেখ মাসুক মিয়ার আপন ভাই শেখ আলফু মিয়া, শেখ পংকি মিয়া ও শেখ তোতা মিয়া।

এদিকে তাদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির সূত্র ধরে সোমবার নিহতের আরেক ভাই লেবু মিয়া, গুপ্তপাড়া গ্রামের ফখর উদ্দিন, ভাইয়ের স্ত্রী আনোয়ারা বেগম ও লাভলী বেগমকে গ্রেফতার করে জবানবন্দি প্রদানের জন্য আদালতে প্রেরণ করা হয়। আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে তারা।

প্রসঙ্গত, গত ১৩ জুন মধ্যরাতে উপজেলার গ্রামতলা রাস্তার পার্শ্ববর্তী ধানী জমি থেকে শেখ মাসুক মিয়ার (৪৫) ক্ষত-বিক্ষত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনায় নিহতের ভাই আলফু মিয়া বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামি উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা করে। ঘটনার পর থেকে মামলার বাদীসহ তার ভাইদের গতিবিধি সন্দেহের চোখে দেখছিল পুলিশ। এক পর্যায়ে সন্দেহবশত ভাইদের আটক করা হলে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচিত হয়।

ওসমানীনগর থানার ওসি মোহাম্মদ সহিদ উল্যা বলেন, ঘটনার পর থেকেই নিহতের ভাইদের আচরণ সন্দেহজনক ছিল। পুলিশ সুপারের দিক নির্দেশনায় আমরা পুরো ঘটনা উদ্ঘাটন ও আসামিদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হই। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

ইত্তেফাক/নূহু

এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
১৫ অক্টোবর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৪০
যোহর১১:৪৫
আসর৩:৫৫
মাগরিব৫:৩৬
এশা৬:৪৮
সূর্যোদয় - ৫:৫৬সূর্যাস্ত - ০৫:৩১