সারাদেশ | The Daily Ittefaq

রংপুর কোতয়ালী থানার ওসিকে প্রত্যাহারের দাবি আওয়ামী লীগের

রংপুর কোতয়ালী থানার ওসিকে প্রত্যাহারের দাবি আওয়ামী লীগের
রংপুর অফিস১৮ জুলাই, ২০১৮ ইং ২০:৩৭ মিঃ
রংপুর কোতয়ালী থানার ওসিকে প্রত্যাহারের দাবি আওয়ামী লীগের

দেশে সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রিত ২০০৭ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের শাসন আমলে ১৬ জুলাই আওয়ামী লীগ সভাপতি ও তৎকালিন বিরোধী দলীয় নেত্রী এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধানমন্ডির বাসভবন সুধা সদন থেকে গ্রেফতারের সময় বর্তমান রংপুর কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বাবুল মিঞার সংশ্লিষ্ঠ ছিলেন। এ  অভিযোগ এনেছে রংপুর আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। এ ছাড়াও রংপুরে জামাত-শিবির নেতা-কর্মীদের আটকের পর ছেড়ে দেওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগ এনে বুধবার রাত ১২টার মধ্যে ওসি বাবুল মিঞাকে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও দুপুর ১টার সময় রংপুর রেঞ্জের ভারপ্রাপ্ত ডিআইজি বশির আহম্মদের কাছে অভিযোগ করা হয়েছে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মমতাজ উদ্দিন আহমেদ, দপ্তর সম্পাদক তৌহিদুর রহমান টুটুল, রংপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তুষার কান্তি মন্ডল, আওয়ামী নেতা নওশাদ রশিদ, রফিকুল আলম, ছাত্রলীগ রংপুর মহানগর সাধারণ সম্পাদক শেখ আসিফসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

অভিযোগকালে রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মমতাজ উদ্দিন আহমেদ ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তুষার কান্তি মন্ডল এ সবের প্রমান হিসেবে সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত একটি ছবি ভারপ্রাপ্ত ডিআইজির হাতে তুলে দেন। তারা রাত ১২টার মধ্যে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বাবুল মিঞাকে প্রত্যাহারের দাবি জানান। এ ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে রংপুরের আওয়ামী লীগসহ অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা।

রংপুর রেঞ্জের ভারপ্রাপ্ত ডিআইজি বশির আহম্মদ উপস্থিত সাংবাদিকদের জানান, রংপুর কোতয়ালী থানার বর্তমান ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বাবুল মিঞার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ জানিয়েছে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ রংপুর জেলা ও মহানগর কমিটির নেতৃবৃন্দ। যেহেতু এটি একটি সরকারী চাকরি, সেহেতু তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ তদন্ত সাপেক্ষে খতিয়ে দেখা হবে। প্রকৃতভাবে সে দায়ী হলে তার বিরুদ্ধে বিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে এ বিষয়ে নিয়ে কোতয়ালী থানার ওসি বাবুল মিঞার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ‘প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ওয়াজেদ ২০০৭ সালে তৎকালীন সরকার কর্তৃক মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার হওয়া সংক্রান্তে একটি ছবি ফেসবুকে পোস্ট করা হয়েছে। ছবিটির সত্যতা থাকলেও যে ভাষায় ষ্ট্যাটাস দেয়া হয়েছে তা আদৌ সত্য তথ্য নির্ভর নয়। কেননা, আমি ১৯৯৬ সাল থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ডিউটিতে তার দেহরক্ষী হিসেবে সততার সহিত দায়িত্ব পালন করেছি। ২০০৭ সালেও ঢাকা কোর্টে তার নিরাপত্তায় আমরা নিয়োজিত ছিলাম। ২০০১ সালে জামায়াতের মামলায় আমার বাবা, চাচা, ভাইয়েরা আসামি হয়। আমার বড় ভাই ছাত্রলীগের প্রেসিডেন্ট ছিলেন এবং বর্তমানে ছোট ভাই ছাত্রলীগের থানা সেক্রেটারী। ২০১১ সালে এই সরকার আমাকে পদোন্নতি দিয়ে উত্তরা এবং সবুজবাগ থানায় ওসি হিসেবে পদায়ন করে। আঃলীগের কেন্দ্রীয় নেতা তোফায়েল আহাম্মেদ, উবায়দুল মুক্তাদির চৌধুরী, পংকজ দেবনাথ, এড. সাহারা খাতুন, এড. সানজিদা খানম, এড. কামরুল ইসলাম, সাবের হোসেন চৌধুরী, শেখ হেলাল উদ্দিন আমাকে ব্যক্তিগতভাবে চিনেন ও জানেন। বর্তমানে রংপুরে সততা ও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছি।


মহানগর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বাবু তুষার কান্তি মন্ডল জানান, অনির্বাচিত তত্তাবধায়ক সরকারের সময় বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে অবৈধভাবে গ্রেফতারের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন রংপুর কোতয়ালী থানার বর্তমান ওসি বাবুল মিঞা। ওই সময় তিনি আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর সঙ্গে খারাপ আচরণ করেছেন। এ সংক্রান্ত বিভিন্ন ছবি ও তথ্য প্রমান আমরা ডিআইজিকে দিয়েছি।

তিনি বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রংপুরের পুত্রবধূ। সজিব ওয়াজেদ জয় রংপুরের সন্তান। রংপুর আওয়ামী লীগের ঘাঁটি। সে কারনে তার মতো একজন ওসিকে আমরা আর রংপুরের মাটিতে দেখতে চাই না। এজন্য আমরা আজ বুধবার রাত ১২টার মধ্যে ওসি বাবুলকে প্রত্যাহার করতে ডিআইজিকে আল্টিমেটাম দিয়েছি।

ইত্তেফাক/নূহু

এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:২৯
যোহর১১:৫৩
আসর৪:১৭
মাগরিব৬:০৩
এশা৭:১৬
সূর্যোদয় - ৫:৪৫সূর্যাস্ত - ০৫:৫৮