সারাদেশ | The Daily Ittefaq

২৯ মাসেও শনাক্ত হয়নি তনুর খুনিরা

২৯ মাসেও শনাক্ত হয়নি তনুর খুনিরা
কুমিল্লা প্রতিনিধি২০ আগষ্ট, ২০১৮ ইং ১২:৪৮ মিঃ
২৯ মাসেও শনাক্ত হয়নি তনুর খুনিরা
বহুল আলোচিত কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্রী সোহাগী জাহান তনু হত্যাকাণ্ডের ২৯ মাস পূর্ণ হলো আজ সোমবার। দীর্ঘ এ সময়ে তনুর ঘাতকদের কেউ শনাক্ত কিংবা গ্রেফতার হয়নি। এছাড়া  দীর্ঘ এ সময়ে মামলার উল্লেখযোগ্য কোন অগ্রগতিও নেই। এদিকে তনুর খুনি চিহ্নিত না হওয়ায় ক্ষুব্ধ তনুর পরিবারসহ, তার সহপাঠীসহ প্রতিবাদী মহল। তারা সহসা তনুর খুনিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন। 
 
জানা যায়, ২০১৬ সালের ২০ মার্চে সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরের একটি বাসায় টিউশনি করতে গিয়ে তনু আর বাসায় ফেরেনি। পরে তার স্বজনরা খোঁজাখুঁজি করে রাতে বাসার অদূরে সেনানিবাসের ভেতরের একটি জঙ্গলে তনুর লাশ পাওয়া যায়। পরদিন তার বাবা কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অফিস সহায়ক ইয়ার হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা খুনিদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। থানা পুলিশ ও ডিবির পর ২০১৬ সালের ১ এপ্রিল থেকে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পায় সিআইডি। এদিকে দুই দফা ময়নাতদন্তে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগ তনুর মৃত্যুর সুস্পষ্ট কারণ উল্লেখ করেনি। শেষ ভরসা ছিল ডিএনএ রিপোর্ট। গত বছরের মে মাসে সিআইডি তনুর জামা-কাপড় থেকে নেওয়া নমুনার ডিএনএ পরীক্ষা করে তিনজন পুরুষের শুক্রানু পাওয়ার কথা গণমাধ্যমকে জানিয়েছিল। পরে সন্দেহভাজনদের ডিএনএ ম্যাচিং করার কথা থাকলেও তা করা হয়েছে কিনা- এ নিয়েও সিআইডি বিস্তারিত কিছু বলছে না। সর্বশেষ সন্দেহভাজন হিসেবে তিনজনকে ২০১৭ সালের ২৫ অক্টোবর থেকে ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত সিআইডির একটি দল ঢাকা সেনানিবাসে জিজ্ঞাসাবাদ করে।
 
জিজ্ঞাসাবাদ করা ব্যক্তিরা তনুর মায়ের সন্দেহ করা আসামি বলেও সিআইডি জানায়। তবে তাদের নাম জানানো হয়নি। এদিকে ২০১৭ সালের ২২ নভেম্বর ঢাকা সিআইডি কার্যালয়ে বাবা ইয়ার হোসেন, মা আনোয়ারা বেগম, চাচাতো বোন লাইজু ও চাচাতো ভাই মিনহাজকে দিনভর পুরানো বিষয়গুলো জিজ্ঞেস করেন ঢাকা সিআইডির কর্মকর্তারা। 
 
মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা কুমিল্লা শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট নাজমুল আলম চৌধুরী নোমান বলেন, একটি সুরক্ষিত এলাকায় তনুকে হত্যা করা হলো। এই হত্যায় ২৯ মাসেও কোনও আসামি শনাক্ত করা যায়নি। হত্যাকারীদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেফতারের দাবি জানাচ্ছি। গণজাগরণ মঞ্চ কুমিল্লার সংগঠক খায়রুল আনাম রায়হান বলেন, ‘তদন্তকারী সংস্থা ২৯ মাসেও অপরাধীদের শনাক্তে সফলতা দেখাতে পারেনি। তাদের ব্যর্থতায় মানুষের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ছে। অবিলম্বে খুনিদের গ্রেফতার করার দাবি জানাচ্ছি। 
 
তনুর মা আনোয়ারা বেগম সাংবাদিকদের বলেন, আমি তদন্তকারী সংস্থা সিআইডির কর্মকর্তাদের নিকট স্পষ্টভাবে দুইজনের নাম বলেছি। এদের বাসায় টিউশনি করতে যাওয়ার পর জঙ্গলে তনুর লাশ পাওয়া যায়। তাদের গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে আমার মেয়ের (তনু) হত্যাকারী কে তা বেরিয়ে আসবে। কিন্তু দেখছি দেখছি বলে সিআইডি ২৯টি মাস পার করে দিয়েছে। মেয়ে হত্যাকারীদের বিচার দেখে যেতে পারবো কি-না জানি না। 
 
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সিআইডি কুমিল্লার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার জালাল উদ্দীন আহমেদ বলেন, মামলার তদন্তের অগ্রগতি আছে। তদন্তের স্বার্থে কিছু বলা যাবে না।
 
ইত্তেফাক/এমআই
 
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৩৩
যোহর১১:৫১
আসর৪:১২
মাগরিব৫:৫৫
এশা৭:০৮
সূর্যোদয় - ৫:৪৮সূর্যাস্ত - ০৫:৫০