সারাদেশ | The Daily Ittefaq

খাগড়াছড়ি ইয়াবাসহ পুলিশ পরিদর্শক আটক

খাগড়াছড়ি ইয়াবাসহ পুলিশ পরিদর্শক আটক
রামগড় (খাগড়াছড়ি) সংবাদদাতা২১ আগষ্ট, ২০১৮ ইং ০০:১০ মিঃ
খাগড়াছড়ি ইয়াবাসহ পুলিশ পরিদর্শক আটক
খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় এবার ইয়াবাসহ পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই)  এক পুলিশ পরিদর্শককে আটক করে থানায় সোপর্দ করেছেন গ্রামবাসী। ইকরাম হোসেন (৩৮) নামে পুলিশের এ কর্মকর্তাকে গত রবিবার গভীর রাতে মাটিরাঙ্গা পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের রসুলপুর এলাকায় এক মহিলার বাসা থেকে আটক করা হয়। তার কর্মস্থল পিবিআই’র চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ব্রাঞ্চে। তার কাছ থেকে ইয়াবা ছাড়াও সরকারি অস্ত্র, পোশাক ও ইয়াবা সেবনের সরঞ্জামও উদ্ধার করা হয়।
 
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রবিবার গভীর রাতে মাটিরাঙ্গা পৌরসভার রসুলপুর এলাকায়  ইসমত আরা নামে এক মহিলার বাসা থেকে স্থানীয় লোকজন ইকরাম হোসেনকে আটক করে। স্থানীয় পৌর ওয়ার্ড কাউন্সিলর বিষয়টি মাটিরাঙ্গা জোন ও থানাকে জানালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি টহল দল ও থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। আটক ইকরাম হোসেন পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যদের কাছে নিজেকে পিবিআই’র চট্টগ্রাম ব্রাঞ্চের পুলিশ পরিদর্শক বলে পরিচয় দেন। পরে তার সঙ্গে থাকা ব্যাগ তল্লাশী চালিয়ে ৮৬পিস ইয়াবা, একটি সরকারি নাইন এমএম  পিস্তল ও ১৬ রাউন্ড গুলি এবং ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী। রবিবার রাতেই তাকে মাটিরাঙ্গা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
 
মাটিরাঙ্গা পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের  কাউন্সিলর মো. আবদুল খালেক জানান, দীর্ঘদিন ধরেই মো. ইকরাম হোসেন ওই মহিলার বাসায় আসা যাওয়া করেন। গত শুক্রবারও এসে রাত্রিযাপন করে চলে যান। এলাকার লোকজনদের  কাছে তিনি নিজেকে পুলিশ সুপার পরিচয় দিতেন এবং বাসার ওই মহিলাকে তার স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দিতেন।
 
ওয়ার্ড কাউন্সিলর জানান, প্রকৃত পক্ষে ওই মহিলার সাথে তার অবৈধ সম্পক। মহিলা একজন চিহ্নিত ইয়াবা ব্যবসায়ী। ধৃত পুলিশ অফিসার তাকে দিয়ে এ ইয়াবা ব্যবসা করান। রুবেল নামে মহিলাটির এক ভাইও ইয়াবা ব্যবসা করে।
 
কাউন্সিলর আব্দুল খালেক আরও জানান, ইসমত আরা নামে এ মহিলাটির ৭-৮ জনের সাথে বিয়ে হয়েছে। সবশেষ স্বামীর নাম সোহেল। তিনি বলেন, এলাকার লোকজন রবিবার রাতে ইকরাম হোসেনকে আটক করে তাকে জানালে তিনি ঘটনাস্থলে যান। সত্যতা পাওয়ার পর থানার ওসি ও সেনা জোন কমান্ডারকে বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে জানান। পরে জোনের মেজর কাজী নেহার ফয়সালের নেতৃত্বে একটি টহলদল এবং থানার এসআই রমজানসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে আসেন।
 
সেনা জোনের কর্মকর্তা ও পুলিশের এসআই আটক ইকরাম হোসেনের একটি ব্যাগ তল্লাশী করে ৮৬ পিচ ইয়াবা টেবলেট, সরকারি পিস্তল, পোশাক ইত্যাদি উদ্ধার করেন। পৌর কাউন্সিলর মো. আবদুল খালেক অভিযোগ করেন, মাটিরাঙ্গা থানার পুলিশ প্রথম থেকেই পিবিআই’র কর্মকর্তাকে বাঁচাতে নানা ফন্দি ফিকির করে।
 
জানাযায়, খাগড়াছড়ি সদরে গত শনিবার (১৮ আগস্ট) সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা তদন্তের জন্য চট্টগ্রাম বাঞ্চের পিবিআই’র একটি দল রবিবার খাগড়াছড়ি আসে। পুলিশ পরিদর্শক ইকরাম হোসেনও ঐ তদন্তটিমে ছিলেন। সূত্র জানায়, তদন্তকাজ শেষে অন্য সদস্যরা চট্টগ্রাম ফিরে গেলেও তিনি মাটিরাঙ্গায় ওই মহিলার বাসায় উঠেন।
 
এদিকে, ঘটনার খবর পেয়ে পিবিআই’র চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ব্রাঞ্চের অতিরিক্ত সিনিয়র পুলিশ সুপার মো. মাইন উদ্দিনের নেতৃত্বে একটি দল সোমবার বেলা ১২ টায় মাটিরাঙ্গায় আসেন। তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং স্থানীয় লোকজনদের কাছ থেকে সাক্ষ্য নেন। পরে তারা সন্ধ্যা ৬ টার দিকে মাটিরাঙ্গা থানা থেকে পিবিআই’র আটক পুলিশ পরিদর্শক ইকরাম হোসেনকে নিয়ে চট্টগ্রাম ফিরে যান। ইকরাম হোসেনের বাড়ি চুয়াডাঙা জেলায় আলমডাঙায় বলে জানাগেছে।
 
এদিকে, রবিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে পিবিআই’র পুলিশ পরিদর্শককে আটক করা হলেও মাটিরাঙ্গা থানার পুলিশ ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার নানা চেষ্টা চালায়। পুলিশ এ ব্যাপারে সাংবাদিকদের কৌশলে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে । সোমবার সকাল ৯টা হতে ৫-৬ বার থানার ওসি’র মোবাইল ফোনে কল দেয়া হলে তিনি রিসিভ করে ব্যস্ততার অজুহাত দেখিয়ে লাইন কেটে দেন। সোমবার বিকাল ৫টার দিকে পুনরায় কল করলে (ওসি) সৈয়দ মো. জাকির হোসেন বলেন, পিবিআই’র  আটক পুলিশ পরিদর্শক ইকরাম হোসেনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।  তার নামে কোন মামলা হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি ফোন লাইন কেটে দেন।
 
ইত্তেফাক/আরকেজি
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৩২
যোহর১১:৫২
আসর৪:১৪
মাগরিব৫:৫৮
এশা৭:১১
সূর্যোদয় - ৫:৪৭সূর্যাস্ত - ০৫:৫৩