সারাদেশ | The Daily Ittefaq

বেনাপোল-শার্শা সীমান্ত স্বর্ণ চোরাকারবারিদের নিরাপদ রুট

বেনাপোল-শার্শা সীমান্ত স্বর্ণ চোরাকারবারিদের নিরাপদ রুট
বেনাপোল (যশোর) সংবাদদাতা২১ আগষ্ট, ২০১৮ ইং ২১:০০ মিঃ
বেনাপোল-শার্শা সীমান্ত স্বর্ণ চোরাকারবারিদের নিরাপদ রুট
স্বর্ণ চোরাকারবারিরা এখন নিরাপদ রুট হিসাবে ব্যবহার করছে যশোরের বেনাপোল ও শার্শা সীমান্ত। এসব সীমান্ত দিয়ে ভারতে অবাধে পাচার হচ্ছে স্বর্ণ। কথিত আছে ভারত থেকে চোরাই পথে আসা গরু বিক্রির টাকায় কেনা স্বর্ণ ভারতে পাচার হচ্ছে।
 
প্রায়ই সীমান্তে রক্ষিত বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিজিবি সদস্যদের হাতে এসব স্বর্ণ চোরাকারবারিরা আটক হলেও পর্দার আড়ালে থেকে যায় প্রকৃত চোরাকারবারিরা। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে এরা এসব কারবার চালিয়ে যাচ্ছে দেদারছে।
 
বাংলাদেশ সীমান্তের বেনাপোল ও শার্শার সঙ্গে ভারতের ৩০ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকা রয়েছে এখানে। সীমান্ত এলাকায় বেশ কিছু চোরাচালানি ঘাটও রয়েছে। এর মধ্যে পুটখালী, দৌলতপুর, সাদিপুর, গাতিপাড়া, রঘুনাথপুর ও শিকারপুর সীমান্ত দিয়ে স্বর্ণ চোরাচালান হয়ে থাকে। এ সীমান্তে পাশাপাশি যশোর ও খুলনা বিজিবির দুটি ব্যাটালিয়ন ৪৯ ও ২১ সীমান্ত  চোরাচালান বন্ধ করার জন্য চেষ্টা করে গেলেও বন্ধ করতে পারছে না তা। রয়েছে নানা সীমাবদ্ধতা। প্রকৃত চোরাকারবারিরা আটক না হওয়ায় তারা তাদের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। স্বর্ণ চোরাকারবারির সঙ্গে জড়িত যাদেরকে আটক করা হয় তারা প্রকৃত মালিক নন তারা টাকার বিনিময়ে এ সব স্বর্ণ বহন করে থাকে। কম সময়ে অধিক পারিশ্রমিক পাওয়ায় বিভিন্ন পেশার মানুষেরা এ ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। মাঝে মাঝে প্রশাসনের হাতে ধরা পড়লেও মূল ব্যবসায়ীরা থেকে যাচ্ছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে।
 
গত ১ বছরে এ সীমান্ত পথে ভারতে পাচার হওয়ার সময় ৪৯ বিজিবি সদস্যরা ৯৩ কেজি ৫০০ গ্রাম স্বর্ণসহ ১১জন চোরাকারবারিকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে। যার মূল্য ৪৫ কোটি টাকা বলে বিজিবি জানান। এ সময়ে ২১ বিজিবি সদস্যরা তাদের আওতাভুক্ত তিনটি সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২৫ কেজি স্বর্ণসহ চারজন চোরাকারবারি আটক করলেও প্রকৃত ব্যবসায়ীরা থেকে যাচ্ছে ধরা ছোঁয়ার বাহিরে। আর এসব কারণে এ সীমান্ত পথে বন্ধ হচ্ছে না স্বর্ণ চোরাচালান।
 
এদিকে স্বর্ণ পাচারকারীদের যে সকল সদস্যরা ধরা পড়ছে তারা বলছে আমরা বাহক মাত্র কিছু অর্থের বিনিময়ে এ সব স্বর্ণ একটি নিদিষ্ট স্থানে পৌঁছে দেয়ায় আমাদের কাজ।
 
যশোর ৪৯ বিজিবির কমান্ডিং অফিসার লে. কর্নেল আরিফুল হক জানান, গত এক বছরে যশোরের বেনাপোল ও শার্শা সীমান্ত পথে ভারতে পাচারের সময় ১১৮ কেজি স্বর্ণ জব্দ করা হয়েছে। যার মূল্য প্রায় ৫৫ কোটি টাকা। এসময় আটক করা হয়েছে ১৫জন চোরাকারবারিকে।
 
এদিকে ২১ বিজিবির ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর সৈয়দ মো. সোহেল আহম্মেদ এসি জানান  নানা সীমাবদ্ধতা থাকলেও সীমান্তে চোরাচালান বন্ধ করার জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। পুটখালী সীমান্তে ৮ কিলোমিটার ক্রাইম ফ্রি জোন ঘোষণা করা হয়েছে। গত ১ বছরে ভারতে পাচারের সময় পুটখালী সীমান্ত থেকে ২৫ কেজি সোনাসহ চারজনকে আটক করা হয়েছে।
 
ইত্তেফাক/আরকেজি
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৩০
যোহর১১:৫৩
আসর৪:১৭
মাগরিব৬:০২
এশা৭:১৫
সূর্যোদয় - ৫:৪৬সূর্যাস্ত - ০৫:৫৭