সারাদেশ | The Daily Ittefaq

চাচা-ভাতিজার ধর্ষণ, ৭ম শ্রেণির ছাত্রীর সন্তান প্রসব

চাচা-ভাতিজার ধর্ষণ, ৭ম শ্রেণির ছাত্রীর সন্তান প্রসব
কালিহাতি (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা২৬ আগষ্ট, ২০১৮ ইং ১৭:৫৯ মিঃ
চাচা-ভাতিজার ধর্ষণ, ৭ম শ্রেণির ছাত্রীর সন্তান প্রসব
চাচা আনছের আলী, জন্ম নেওয়া মেয়ে সন্তান, ভাতিজা শরিফুল
চাচা ও ভাতিজার যৌন লালসার শিকার সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছাত্রী কন্যা সন্তান প্রসব করেছেন। রবিবার সকালে টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালে অপারেশনের মাধ্যমে সে কন্যা সন্তানের মা হয়। এ নিয়ে এলাকায় আলোচনার ঝড় বইছে। কে এই সন্তানের বাবা? চাচা না ভাতিজা?
 
হাসপাতালের গাইনী বিভাগের অধ্যাপক ডা. নাজমা খলিল এ অপারেশন সম্পন্ন করেন। বর্তমানে মা-মেয়ে উভয়ই সুস্থ আছেন। এর আগে শনিবার ভোর ৫টার দিকে ওই মেয়েটি প্রসব ব্যথা নিয়ে হাসপাতালের এক নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি হয়।
 
হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, জন্ম নেওয়া ওই শিশুটির দেখভাল করছেন স্কুলছাত্রীর মা কমলা বেগম ও বড় বোন মরিয়ম। পাশেই নীরবে বসে আছেন বাবা আবুল হোসেন ও ভগ্নীপতি মোখলেছুর রহমান। তাদের চোখে-মুখে শুধুই হতাশার ছাপ।
 
হাসপাতালে কথা হয় ছাত্রীর বাবা মো. আবুল হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমার মেয়ে এমনিতেই শিশু, তার মধ্যে আবার আরেকটি শিশুর মা হলো। এখন এ শিশুর দায়িত্ব নেবে কে? আর পিতৃ পরিচয় কি হবে? আমি এই মেয়েকে নিয়ে এখন কি করবো। আমি মামলা করার পরও মূল আসামি আনছের আলীকে ধরতে পারেনি পুলিশ। আসামির পরিবারের লোকজন আমার মেয়েকে হত্যার হুমকিও দিচ্ছে। আমি কি এর কোন বিচার পাবো না। নাকি আমি গরীব বলে বিচার পাওয়ার অধিকার আমার নাই?’
 
এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে চাচা আনছের আলী ও ভাতিজা শরিফুলের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। গ্রেফতার করা হয় শরিফুলকে। আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন তিনি। তবে ঘটনার মূলহোতা আনছের আলীকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।
 
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কালিহাতি থানার এসআই মনির হোসেন বলেন, স্কুলছাত্রীর বাচ্চা প্রসবের বিষয়টি আমি শুনেছি। মামলাটি একটু জটিল। ইতিমধ্যে মামলার এক আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। ছাত্রী ও শরিফুলের ডিএনএ পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। প্রধান আসামি আনছের আলীকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
 
উল্লেখ্য, উপজেলার গিলাবাড়ি গ্রামের আনছের আলীর বাসায় কাজ করতো মেয়েটি। এ সময় আনছের আলী ওই মেয়েকে জোর করে ধর্ষণের করে বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনাটি দেখে ফেলে তারই আপন বড় ভাই মুনসুর আলীর ছেলে শরিফুল ইসলাম। পরে শরিফুল ঘটনাটি লোকজনের কাছে বলে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে সেও মেয়েটিকে ধর্ষণ করে।
 
ইত্তেফাক/জেডএইচ
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৩২
যোহর১১:৫২
আসর৪:১৪
মাগরিব৫:৫৮
এশা৭:১১
সূর্যোদয় - ৫:৪৭সূর্যাস্ত - ০৫:৫৩