সারাদেশ | The Daily Ittefaq

ভোলায় প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ছে

ভোলায় প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ছে
অনলাইন ডেস্ক২৮ আগষ্ট, ২০১৮ ইং ১২:৪৯ মিঃ
ভোলায় প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ছে
উপকূলীয় জেলা ভোলায় গত কয়েকদিন যাবত প্রচুর ইলিশ মাছ ধরা পড়ছে। এখানকার নদ-নদী ও সাগর মোহনায় আশানুরূপ ইলিশ পাওয়ায় স্বস্তি ফিরে এসেছে জেলেদের মনে। জেলা সদরসহ বিভিন্ন মাছের ঘাট, আড়ৎ, পাইকারি ও খুচরা বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতাদের হাক-ডাক ও দর কষাকষিতে মুখরিত হচ্ছে প্রতিদিন ইলিশের বাজার। আর দীর্ঘদিন পর জালে ঝাঁকে ঝাঁকে রূপালী ইলিশ ধরা পড়ায় হাসি ফুটেছে জেলেদের মুখে। জেলে পল্লীগুলোতে বইছে আনন্দের বন্যা।
 
সদর উপজেলার ভোলার খাল মাছের ঘাট, নাছির মাঝি মাছঘাট, কোরার হাট মাছের মোকাম, তুলাতুলি মাছ ঘাট, বিশ্বরোড মাছের ঘাট, জংশন এলাকার মাছঘাট, ইলিশার মাছ ঘাট, দৌলতখান উপজেলার পাতার খাল, চরফ্যাশনের চেয়ারম্যানের খাল মাছ ঘাটসহ বিভিন্ন ইলিশের মোকামে প্রচুর ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে। মোকামগুলোতে জেলেদের ব্যস্ততা চোখে পড়ার মতো। সারারাত নদীতে মাছ ধরে সকাল বেলা ঘাটগুলোতে চকচকে ইলিশ নিয়ে আসে জেলেরা।
 
ঘাটে নৌকা অথবা ট্রলার ভেড়ানোর সাথে সাথেই হাকা-ডাক দিতে থাকে ব্যাপারিরা। জেলেরা ঝুঁড়িতে করে বিভিন্ন সাইজের ইলিশ নির্দিষ্ট গোলায় রাখে। মুহূর্তের মধ্যেই সেই ইলিশ কিনতে নিলামে ডাক উঠে যায়। স্থানীয় ব্যাপারীদের মধ্যে সর্বোচ্চ মূল্যদাতাই সেই মাছ কিনে নিচ্ছেন। মূলত এমনি করেই এখান থেকে ইলিশ যায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তসহ জেলার বিভিন্ন বাজারে। আবার অনেক ব্যবসায়ী সরাসরি লঞ্চে বা ট্রাকে করে ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চাদপুরসহ বিভিন্ন জেলায় মাছ সরবরাহ করে থাকেন। মৎস্য ব্যবসায়ীরা পাইকারিভাবে এখান থেকে মাছ কিনে খুচরা বাজারে বিক্রি করে করেন।
 
সদর উপজেলার মেঘনা পাড়ের ভোলার খাল মাছ ঘাটের আড়ৎদার মো. আল আমিন জানান, এবার মৌসুমের প্রথম দিকে তেমন একটা ইলিশ মাছ না পাওয়া গেলেও বর্তমানে ইলিশের সংখ্যা বাড়ছে। কয়দিন আগেও যেসব আড়দে ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকার ইলিশ বিক্রি হতো, সেখানে এখন লাখের উপরে বিক্রি হয়। সামনের দিনগুলোতে ভারীবর্ষণের সাথে সাথে জেলেদের জালে আরো ইলিশ ধরা পড়বে বলে তিনি জানান। আল আমিন বলেন, প্রতিদিন শুধু এ ঘাট থেকে ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকার ইলিশ বিক্রি হচ্ছে। এজন্য তিনি সরকারের জাটকা সংরক্ষণ কার্যক্রমকে স্বাগত জানান।
 
বিক্রেতারা জানান, পাইকারি বাজারে এক কেজির উপরে ইলিশের হালি ৫ থেকে ৬ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ৮শ’ থেকে ১ হাজার গ্রাম ইলিশের হালি ৩ থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা। ৬শ’ থেকে ৯শ’ গ্রামের হালি ২ হাজার থেকে ২৪শ’ টাকা। আর ৪শ’ থেকে ৬শ’ গ্রাম বিক্রি হচ্ছে ১৪শ’ থেকে ১৮শ’ টাকা হালি।
 
সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, এ বছর মৌসুমের প্রথম দিকে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতের অভাবে কাংঙ্খিত ইলিশ পাওয়া যায়নি। তাই বর্তমানে বৃষ্টিপাত ও নদ-নদীর পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়া প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ছে। মূলত পানির গভীরতার সাথে ইলিশের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। সামনের দিনগুলোতে আরো ইলিশ পাওয়া যাবে বলে জানান জেলার প্রধান মৎস্য কর্মকর্তা।
 
এদিকে জেলার বিভিন্ন খুচরা বাজারে দেখা গেছে. অন্যান্য মাছের তুলনায় ইলিশ মাছই বেশি। বিক্রেতারা সারি সারি ইলিশের পসরা সাজিয়ে বসেছে বাজারগুলোতে। নতুন বাজারে সরেজমিনে দেখা যায় প্রচুর ইলিশ মাছের সরবরাহ। ক্রেতারা পছন্দের ইলিশ কিনতে এক দোকান থেকে ছুটছেন অন্য দোকানে। মূল্য সহনীয় থাকায় আনন্দ প্রকাশ করেছেন তারা। গাজীপুর সড়কের কবির হোসেন জানান, দাম একটু কমে যাওয়াতে তিনি মাছ কিনতে এসেছেন। বাজার ছাড়াও বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় ভ্যান গাড়ী ও মাথায় করে অনেককেই ইলিশ বিক্রি করতে দেখা গেছে। এছাড়া ফুটপাতে সাজিতে করে ইলিশ বিক্রি করছেন ভ্রাম্যমান বিক্রেতারা। অন্যদিকে নদীতে ব্যাপক ইলিশ ধরা পড়াতে বরফের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। ইলিশ সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণের জন্য বরফের কোন বিকল্প নেই। তাই স্থানীয় বরফকলগুলোতেও ব্যস্ততা বেড়ে গেছে কয়েকগুণ।
 
শহরের কালীনাথ রায়ের বাজারের শীবুর বরফকলের মালিক শীবু কর্মকার জানান, বেশ কিছুদিন ধরে বরফের ব্যাপক চাহিদা তার এখানে। প্রচুর চাপ থাকাতে বরফ বিক্রি করতে রীতিমত হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। বিশেষ করে ঢাকাগামী লঞ্চ ছাড়ার পূর্ব মুহূর্তে ব্যাপক চাপ সামলাতে হয় তাদের।
 
ইত্তেফাক/এএম
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৩০
যোহর১১:৫৩
আসর৪:১৭
মাগরিব৬:০২
এশা৭:১৫
সূর্যোদয় - ৫:৪৬সূর্যাস্ত - ০৫:৫৭