সারাদেশ | The Daily Ittefaq

ভিক্ষুকদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপহার ২৮৭ পাকা ঘর

ভিক্ষুকদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপহার ২৮৭ পাকা ঘর
ফুলবাড়ীয়া (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা৩১ আগষ্ট, ২০১৮ ইং ১৬:৪৬ মিঃ
ভিক্ষুকদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপহার ২৮৭ পাকা ঘর
‘সকালে পানি পান্তা খাইয়া গাওয়াল (ভিক্ষা) করবার যাইতাম। সারাদিন এই পাড়া হেইপাড়া গাওয়াল কইরা যা কিছু পাইতাম, কোনরহম বুড়া-বুড়ির পেট চলে। রাইতে ঘুমের কি আরাম, বিশ বছর ধইরা কবার পাইতাম না। কুশাইলের পাতার ঘরে মাঝে মধ্যেই হিয়াল, কুত্তা ডুইক্কা খাওয়ন লইয়া গেছে। শীতের দিন কষ্টের কোন সীমা আছিন না। ঘরের মধ্যেই ঊস্ (কোয়াশা) পরতো, বাতাসে থাকবার পাইতাম না। জীবনেও ভাববার পাইছিনা টিনের ঘরে থাকমু! মরার আগে আল্লাহ রহমত করছে। সরকার টিনের ঘর কইরা দেওয়ায় শেষ বয়সে ইট্টু আরামে আয়েশে ঘরে থাইক্কা যাবার পামু।’ কথাগুলো বলছিলেন কালাদহ ইউনিয়নের পাটিরা উত্তর পাড়া গ্রামের ৮৫ বছর বয়সের ভিক্ষুক অসুস্থ রুস্তম আলী।
 
‘আশ্রয়ণের অধিকার, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার’ স্লোগানকে ধারণ করে সবার জন্য বাসস্থান কর্মসূচির আওতায় ১৩ টি ইউনিয়নের ১ কোটি ২১ লাখ টাকায় ১২১ জন দুস্থকে বিনামূল্যে বাসস্থান করে দিয়েছে সরকার। নতুন করে ১৬৬ টি ঘর বরাদ্দ হয়েছে। এরই মধ্যে পুটিজানা ইউনিয়নে নতুন ঘর নির্মাণ কাজও শুরু করা হয়েছে।
 
কালাদহ, ভবানীপুর ও এনায়েতপুর ইউনিয়নের সরেজমিনে দেখা যায়, ভিক্ষুক বাসস্থানের প্রতিটি ঘরের দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ সাড়ে ১৬ ফুট করে। ফ্লোরপাকাসহ চার চালা প্রতিটি ঘর তৈরি করতে ব্যবহার করা হয়েছে আকাশমণি কাঠ, ৩৬ মিলি ঢেউটিন, ইট-সিমেন্টে ১৭ টি করে মজবুত খুঁটি। ঘরের পাশেই করে দেওয়া হয়েছে স্বাস্থ্য সম্মত টয়লেট। ফুলবাড়ীয়া উপজেলার প্রকল্পটি সার্বিক তত্ত্বাবধায়নে ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লীরা তরফদার।
 
কালাদহ ইউপি চেয়ারম্যান মো. নুরুল ইসলাম মাস্টার বলেন, কালাদহ ইউনিয়নে ৬ জন ভিক্ষুককে ঘর তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। স্বচ্ছ যাচাই বাছাই করার কারণে সবার জন্য বাসস্থান প্রকল্পের আওতায় প্রকৃত ভিক্ষুকরা যাদের ঘর করার সমর্থ নেই তারই ঘরগুলো পেয়েছে।
 
উপজেলা নির্বাহী অফিসার লীরা তরফাদর বলেন, আশ্রয়ণের অধিকার, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার সবার জন্য বাসস্থান কর্মসূচির আওতায় উপজেলার ভিক্ষুকদের তালিকা একাধিক বার যাচাই বাছাই শেষে স্বচ্ছ তালিকা প্রণয়ন করা হয়। যাদের বাড়ি ঘরের জমি ছাড়া কিছুই নেই, সেইসব প্রকৃত ভিক্ষুকদের এক লাখ টাকা খরচ করে প্রতিটি টিনসেড ঘর তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। এবারও নতুন করে ১শ ৬৬ জনের জন্য এক কোটি ৬৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। পুটিজানা ইউনিয়ন থেকে কাজ শুরু হয়েছে।
 
ইত্তেফাক/বিএএফ
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:২৯
যোহর১১:৫৩
আসর৪:১৭
মাগরিব৬:০৩
এশা৭:১৬
সূর্যোদয় - ৫:৪৫সূর্যাস্ত - ০৫:৫৮