সারাদেশ | The Daily Ittefaq

মেরুদণ্ডের পরীক্ষায় ক্যান্সার ধরা পড়লো মাথায়!

মেরুদণ্ডের পরীক্ষায় ক্যান্সার ধরা পড়লো মাথায়!
আজহার মাহমুদ, চট্টগ্রাম অফিস০৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং ১৬:১৪ মিঃ
মেরুদণ্ডের পরীক্ষায় ক্যান্সার ধরা পড়লো মাথায়!
৮৫ বছরের বৃদ্ধ নাজির আহমেদের মেরুদণ্ডের ব্যথার জন্য লাম্বো সাক্রাল স্পাইনের (মেরুদণ্ডের নিচের অংশ) এমআরআই করা হয়। আর রিপোর্টে ধরা পড়েছে মস্তিষ্কে টিউমারজনিত ক্যান্সার। বিস্ময়কর এই ঘটনাটি ঘটেছে বন্দর নগরীর নামকরা রোগ নিরূপনী কেন্দ্র শেভরন ক্লিনিক্যাল ল্যাবরেটরিতে। 
 
তার সন্তান শাহিদুল কাওসার ইত্তেফাককে জানান, তার বাবা কয়েকদিন আগে পড়ে গিয়ে মেরুদণ্ডের হাড়ে আঘাত পান। চট্টগ্রামের মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসা চলছিল। এরমধ্যে গত শনিবার চিকিৎসকের পরামর্শে শেভরনে নিয়ে লাম্বার স্পাইনের এমআরআই করান। গত সোমবার রাতে শেভরণ থেকে রিপোর্ট দেয়া হয়। ওই রিপোর্ট মেডিকেল সেন্টারের চিকিৎসককে দেখালে তিনি বিস্মিত হন। স্পাইনের পরীক্ষায় কিভাবে মাথার রিপোর্ট আসল তা নিয়ে তিনি রীতিমতো অবাক হন। পরে শেভরনে গিয়ে যোগাযোগ করলে তারা সংশোধিত রিপোর্ট দেন।
 
কেন্দ্রীয় যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত কাওসার বলছিলেন, ল্যাবগুলো রোগীদের সঙ্গে রীতিমতো ‘হাসিঠাট্টা’ করছে। রোগীরা এতো সিরিয়াস বিষয় নিয়ে ল্যাবে যাচ্ছে। অথচ তারা রিপোর্ট বানিয়ে আবার রোগীর হাতেও দিয়ে দিচ্ছে। রোগী সেটি নিয়ে আরেকটি মেডিকেলেও চলে যাচ্ছে। অথচ ল্যাব কর্তৃপক্ষ একটিবার চেক করে দেখছে না যে রিপোর্টটি ঠিকমতো হলো কিনা। একইদিন তার বাবার ব্রেইনের সিটি স্ক্যানিং করা হয়। যদি ওই ভুল রিপোর্ট ব্রেইনের রিপোর্টের অংশে ছাপা হতো তাহলে তারা বাবার ক্যান্সার হয়েছে ভেবে পাগলের মতো হয়ে যেতেন।
 
অবাক করা বিষয় হচ্ছে, ওই রিপোর্টের হেডলাইনেই লেখা আছে- ‘এমআরআই অব লাম্বো সাক্রাল স্পাইন’। কিন্তু আর ফাইন্ডিংস ও ইম্প্রেশনে গিয়ে মাথার বর্ণনা দেয়া হয়েছে। ইম্প্রেশানে গিয়ে লেখা হয়েছে, ‘Large well-defined lobulated intra-axial sodid heterogeneously enhancing lesion involving both anterior frontal lobes with necrotic and hemorrhagic foci and mass effect as described above, suggestive of high grade neoplasm. Recommended further evaluation with MRI and HPE correlation.’
 
চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আজিজুর রহমান সিদ্দিকী ইত্তেফাককে জানিয়েছেন, এই ধরণের ইম্পেশান শুধুমাত্র ক্যান্সারের ক্ষেত্রেই লিখা হয়। এখানে হাই গ্রেড নিওপ্লাজম টিউমারজনিত উচ্চমাত্রার ক্যান্সার নির্দেশ করে। তবে সেটা শিউর হওয়ার জন্য আরো কিছু পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে হয়।
 
গতকাল দুপুরে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে শেভরনের জিএম পুলক পারিয়ালকে ফোন করলে তিনি প্রতিবেদকের কাছে জানতে চান, কী বিষয়ে কথা বলতে চাই। পরে বিষয়টি অবগত করলে তিনি বলেন, ‘আমি মিটিংয়ে আছি। আপনাকে কিছুক্ষণ পরে ফোন দিবো।’ এ রিপোর্ট ছাপার আগ পর্যন্ত তিনি আর ফোন দেননি। একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজিং ডিরেক্টর ডা. এ এ গুলাম মুর্তাজাকে ফোন করে পাওয়া যায়নি।
 
রিপোর্টের শেষাংশে ‘সিনিয়র রেজিস্টার ডা. ভিনয় ভি’ এর স্বাক্ষর রয়েছে। যেই স্বাক্ষরটি একটি স্ক্যানিং স্বাক্ষর। অর্থ্যাৎ কম্পিউটারে কপি পেস্ট করেই ওই স্বাক্ষরটি দেয়া হয়েছে। এছাড়া রিপোর্টের শেষাংশে ছোট করে লেখা হয়েছে রিপোর্টটি এনএইচ টেলিরেডিওলোজি থেকে জেনারেট করা হয়েছে।
 
চিকিৎসা খাত সংশ্লিষ্ট একাধিক উর্ধ্বতন ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এই ধরণের রিপোর্ট রোগী কিংবা তাদের স্বজনকে সরবরাহ করার আগে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে (এক্ষেত্রে রেডিওলোজিস্ট) দেখিয়ে তার অনুমোদন ও স্বাক্ষর নিয়ে তারপর সরবরাহ করতে হয়। কিন্তু এক্ষেত্রে হয়তো অনভিজ্ঞ ল্যাব টেকনিশিয়ান রিপোর্টটি প্রস্তুত করেছেন। ফলে লাম্বো সাক্রাল স্পাইনের এমআরআই করার পর মস্তিষ্কের ক্যান্সার ধরা পড়ার মতো ব্যাপার ঘটেছে।
 
বিষয়টি নিয়ে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হবে কিনা জানতে চাইলে সিভিল সার্জন আজিজুর রহমান বলেন, ‘এ ধরণের রিপোর্ট দেয়ার ক্ষেত্রে রেডিওলোজিস্ট দেখে দেয়ার কথা। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ দিলে আমরা বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নিবো।’
 
ইত্তেফাক/কেকে
 
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৩০
যোহর১১:৫৩
আসর৪:১৭
মাগরিব৬:০২
এশা৭:১৫
সূর্যোদয় - ৫:৪৬সূর্যাস্ত - ০৫:৫৭