সারাদেশ | The Daily Ittefaq

ব্রিজ নির্মাণ শেষ না করেই কোটি টাকার বিল উত্তোলন

ব্রিজ নির্মাণ শেষ না করেই কোটি টাকার বিল উত্তোলন
নাগেশ্বরী (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা০৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং ১৬:১০ মিঃ
ব্রিজ নির্মাণ শেষ না করেই কোটি টাকার বিল উত্তোলন
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে বেইলি ব্রিজ নির্মাণ কাজ শেষ না করেই বরাদ্দের দেড় কোটি টাকা উত্তোলন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এখনও ভাসমান সাঁকো দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে পারাপার করছে মানুষ।
 
জেলা পরিষদ ১৯৮৬ সালে ভিতরবন্দ-কালীগঞ্জ সড়কে দুধকুমর নদের শাখা মন্নেয়া বিলের উপর এক’শ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি ব্রিজ নির্মাণ করে। ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে বন্যায় পানির তীব্র স্রোতে সেটিও সম্পূর্ণ ভেঙ্গে ভেসে যায়। ফলে এ পথে যাতায়াতকারী ভিতরবন্দ, কালীগঞ্জ, কেদার, কচাকাটা, নারায়নপুর ও বল্লভেরখাস ইউনিয়নের প্রায় দেড় লাখ মানুষ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। কিছুদিন সেখানে চলে খেয়া পারাপার। পরে স্থানীয়রা নিজ খরচে ড্রাম ও বাঁশ দিয়ে তৈরি করে বাঁশের সাকো। 
 
পরবর্তীতে কুড়িগ্রাম সড়ক ও জনপদ সেখানে এক কোটি ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৬০ ফুট দৈর্ঘ্যরে একটি বেইলি ব্রিজ নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করে। ঢাকাস্থ রানা বিল্ডার্স নামক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এর কাজ পায়। তারা কুড়িগ্রামের বেলাল কনস্ট্রাকশনকে সাব ঠিকাদার হিসেবে নিয়োগ দেয়। জুন মাসে এর কাজ শেষ করার কথা থাকলেও এক চতুর্থাংশ কাজ শেষ করতে পারেনি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। এদিকে অভিযোগ উঠেছে কাগজ-কলমে কাজ সমাপ্ত দেখিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বিল পরিশোধ করেছে কুড়িগ্রাম সড়ক ও জনপদ বিভাগ।
 
এলাকাবাসী আমজাদ, ফজলু মিয়া, বেলাল হোসেন, আব্দুস সালাম, ময়না বেগম, সুমি আক্তারসহ অনেকের অভিযোগ, শুরু থেকেই বেইলি ব্রিজ নির্মাণ কাজ ধীরগতিতে চলছে। ব্রিজ নির্মাণে তথ্য সম্বলিত কোন সাইনবোর্ড নেই। তাই তারা এ সম্পর্কে কিছুই জানেন না। স্থানীয় ঠিকাদার ফখরুল ইসলামের দেখা পেয়ে বেইলি ব্রিজের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানান।
 
সড়ক ও জনপদ বিভাগের উপ-প্রকৌশলী মজনু মিয়ার কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ১৬০ফিট দৈর্ঘ্যের ব্রিজটি নির্মাণাধীন রয়েছে। এখানে ব্রিজের সামনে এক হাজার ২২০টি সিসি ব্লক দেয়া হবে। আরো বিস্তারিত জানতে হলে আপনাকে নির্বাহী স্যারের কাছ থেকে তথ্য নিতে হবে। 
 
সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আমির হোসেন জানান, বেইলি সংকট থাকায় ব্রিজের কাজে কিছুটা ধীর গতিতে চলছে। তবে বেইলি দু-একদিনের মধ্যে আসলেই ব্রিজের কাজ শেষ হবে। 
 
আগাম বিল প্রদান সম্পর্কে তিনি বলেন, অর্থ বছর শেষ হওয়ার কারণেই বিল উত্তোলন করা হয়েছে। তবে পুরো অর্থ ঠিকাদারকে দেয়া হয়নি। এখনও ৬০ লাখ টাকা আমাদের হাতে জমা আছে।
 
ইত্তেফাক/জেডএইচ
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৩২
যোহর১১:৫২
আসর৪:১৪
মাগরিব৫:৫৮
এশা৭:১১
সূর্যোদয় - ৫:৪৭সূর্যাস্ত - ০৫:৫৩