সারাদেশ | The Daily Ittefaq

স্কুল দেখতে কেমন, জানে না এই শিশুরা

স্কুল দেখতে কেমন, জানে না এই শিশুরা
ঝিনাইগাতী (শেরপুর) সংবাদদাতা০৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং ১৮:১৫ মিঃ
স্কুল দেখতে কেমন, জানে না এই শিশুরা
শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে উপজেলার নুলকুড়া ইউনিয়নের ডেফলাই গ্রামের বেদে পল্লীতে স্থায়ী ও অস্থায়ীভাবে বেদে সম্প্রদায়ের প্রায় ২শতাধিক পরিবারের বসবাস।  সেখানে রয়েছে প্রায় ১শত শিশু। এসব শিশু মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে সাপ, বাদর খেলার মতো ভয়ঙ্কর পেশায় জড়িয়ে পড়ছে। বেড়ে উঠছে অশিক্ষা-কুশিক্ষায়। শিক্ষা বলতে সাপ ও বাদর খেলা শেখা, হাটে-বাজারে সাপ-বাদর খেলায় বাবা-মাকে সহযোগিতা করা। দেশ উন্নত হলেও বেদে সম্প্রদায়ে পৌঁছায়নি শিক্ষার আলো। পরিচয় হয়নি অক্ষর-জ্ঞানের সঙ্গেও। ফলে এরা নিরক্ষরই থেকে যাচ্ছে বংশপরম্পরায়।
 
আবার বেদে সম্প্রদায়ের লোকজন একেক সময় একেক স্থানে অবস্থান করার জন্যেও সুযোগ নেই শিক্ষা গ্রহণের। অক্ষর কী, স্কুল দেখতে কেমন, সেখানে কী হয়, তাও জানে না এসব শিশু। শিক্ষা গ্রহণের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে তারা।
 
এ শিশুদের অভিভাবকরা বলছেন, তাদের জীবন-জীবিকা ও নিকটে কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান না থাকায় শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে তাদের সন্তানেরা। শিক্ষা বঞ্চিত এই শিশুরা সরকারের নিকট শিক্ষা গ্রহণে সুযোগের আবেদন জানিয়েছেন।
 
সরেজমিনে দেখা যায়, এসব শিশুরা বেদে পল্লীর চারপাশে দুরন্তপনা, সাপ খেলা, বানর খেলা, লুডু খেলা, কানামাছি, কুতকুত ও এক্কাদোক্কা খেলায় ব্যস্ত। আবার অনেকেই গ্রাম ঘুরতে বাবা-মার সঙ্গে বের হচ্ছে। কিন্তু এ সময় তাদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্লাস করার কথা।
 
বেদে শিশু কুড়িমা, শারমিনা, ঝণিকা, নুপুর, ইমনসহ অনেকেই এ প্রতিবেদককে জানায়, তাদের পড়া-লেখার ইচ্ছে করে। কিন্তু পরিবারের সব সময় অভাব লেগেই থাকে। তাই বাবা-মার সঙ্গে ব্যবসায় নামতে হয়। এছাড়া তাদের বাড়ির আশ-পাশে কোন স্কুল নেই। তারা পড়া-লেখা করে এ পেশা ছেড়ে বড় কিছু করতে চায়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দাবি জানিয়েছে তারা।
 
বেদে সর্দার মো. জামাল বলেন, আমরা পেটের তাগিদে জায়গায় জায়গায় ঘুরে বেড়াই। সাপ বানর খেলা, শিঙ্গা লাগিয়ে, তাবিজ-কবচ বিক্রি করে যা পাই তা দিয়ে কোনোমতে সংসার চলে। আধুনিক যুগের এই সময়ে মানুষ আর আমাদের খেলা, শিঙ্গা লাগানো, তাবিজ-কবচ নিতে চায় না। বাপ-দাদার পেশা আঁকড়ে ধরে আছি। বাড়িতে রেখে এসে বাল-বাচ্চাদের লেখাপড়া শেখানো তাদের দেখাশোনা করা আর লেখাপড়ার খরচ জোগানোর মতো অবস্থা নেই। সরকার যদি আমাদের অন্য কোন কর্মের ব্যবস্থা করে দেয় তাহলে আমাদের সন্তানদের কপালে হয়ত শিক্ষা জুটবে।
 
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুবেল মাহমুদ বলেন, ‘খোঁজ নিয়ে  তাদের শিক্ষার আওতায় আনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।’
 
ইত্তেফাক/বিএএফ
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৩৩
যোহর১১:৫২
আসর৪:১৩
মাগরিব৫:৫৭
এশা৭:১০
সূর্যোদয় - ৫:৪৭সূর্যাস্ত - ০৫:৫২