সারাদেশ | The Daily Ittefaq

ঘুমন্ত কৃষককে পুড়িয়ে হত্যা: এখনো আটক হয়নি কেউ

ঘুমন্ত কৃষককে পুড়িয়ে হত্যা: এখনো আটক হয়নি কেউ
অভয়নগর (যশোর) সংবাদদাতা০৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং ২০:২২ মিঃ
ঘুমন্ত কৃষককে পুড়িয়ে হত্যা: এখনো আটক হয়নি কেউ
যশোরের অভয়নগরে ঘুমন্ত কৃষকের গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়। তবে এখনো পুলিশ কাউকে আটক করতে পারেনি।  
 
বৃহস্পতিবার গভীর রাতে কতিপয় দুর্বৃত্ত কৃষকের গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিলে ঘুমিয়ে থাকা ওই কৃষকের সারা দেহ আগুনে ঝলসে যায়। তার চিৎকারে পরিবারের লোকজনসহ প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে তার ঝলসানো শরীর উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলেও শেষ রক্ষা হয়নি কৃষক তৈয়েব শেখের (৫৫)। উপজেলার বাঘুটিয়া ইউনিয়নের বাঘুটিয়া গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে। 
 
শনিবার সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, মৃতের নিজ বাড়ির বারান্দায় বিছানা, মশারী, বালিশ, মোবাইল ও ঘরের চালসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। বারান্দার এক পাশে রয়েছে মৃত্যুর শরীরের পোড়া চামড়া, উঠোনে রয়েছে শরীরের পোড়া মাংস এবং অসংখ্য জায়গায় রক্তের ছোপ। পুলিশের ভাষ্য, রাত আনুমানিক ১টার পর এ ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। 
 
নিহতের ছেলে সাগর শেখ বলেন, প্রতিদিনের ন্যায় রাতের খাবার শেষে তার বাবা ঘরের বারান্দায় ঘুমিয়ে পড়েন। রাত আনুমানিক ১টার দিকে তার চিৎকারে ঘুম ভেঙ্গে যায়। এসময় বাবার গায়ে লাগা আগুন নিভিয়ে দ্রুত তাকে অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। তবে আগুনে ঝলসে যাওয়া শরীর থেকে তখন মাংস খসে পড়ার মতো অবস্থা দেখা যায়। পরবর্তীতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করলে চিকিৎসাধীন অবস্থায়  শুক্রবার সকালে তার মৃত্যু হয়। 
 
পরিবারসহ স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদক সংক্রান্ত একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই এলাকার মাদক ব্যবসায়ী ও তৎকালীন ক্যাম্প টুআইসি’র সঙ্গে বিরোধের জের ধরে মাদক ব্যবসায়ীরা এ হত্যাকাণ্ড ঘটাতে পারে। 
 
এ ব্যাপারে জানতে ওই ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান বাবুল আক্তারের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, নিহত তৈয়ব শেখ একজন সাধারণ মানুষ ছিলেন। তবে তার এক ছেলে মাদকসেবী ছিল। প্রায় ৬ মাস পূর্বে তৈয়ব শেখের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ গাজা উদ্ধার করেছিল। 
 
এদিকে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, তৎকালীন টুআইসি কবিরের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগের বিষয়ে শনিবার মণিরামপুর থানায় শুনানির দিন ছিল। ওই অভিযোগের প্রধান সাক্ষী ছিলেন তৈয়েব। 
 
বাঘুটিয়া ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ জানান, ভাটপাড়া পুলিশ ক্যাম্পের তৎকালীন টুআইসি কবীরের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগের সাক্ষী ছিলেন নিহত তৈয়ব শেখ। 
 
এ ব্যাপারে স্থানীয় ভাটপাড়া ক্যাম্পের আইসি এসআই আবদুল মান্নান বলেন, পুলিশের বিরুদ্ধে এই অভিযোগটি সত্য নয়। তবে এ ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছ। ঘটনাস্থলে গিয়ে আমরা পেট্রোলের গন্ধ এবং আগুন দেয়ার কাজে ব্যবহৃত মশাল জাতীয় একটি বস্তুও পেয়েছি। মামলা দায়ের হয়েছে। আসামিদের এখনো আটক করতে পারিনি। তবে ধরতে অব্যাহত অভিযান চলছে। 
 
অভয়নগর থানার ওসি আলমগীর হোসেন জানান, সংবাদ পেয়ে আমি খুমেক হাসপাতালে গিয়েছিলাম। এ ঘটনার সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক না কেন তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আর পুলিশ কর্মকর্তাকে জড়িয়ে যে বক্তব্য দেয়া হচ্ছে সে বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারছি না। কারণ অভয়নগর থানায় আমি সদ্য যোগদান করেছি। 
 
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত এএসআই কবীর জানান, আমি গত ৬ আগস্ট ভাটপাড়া ক্যাম্প থেকে যশোর কতোয়ালী থানার ফুলবাড়ি ক্যাম্পে বদলী হয়েছি। তার বিরুদ্ধে উল্লেখিত অভিযোগ সত্য নয়। 
 
অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, নিহত তৈয়ব শেখ আমার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ করেননি। ওই সময় অভয়নগর থানার ওসি আনিসুর রহমানের সঙ্গে মাদকের বিরুদ্ধে একটি অভিযান করেছিলেন তিনি। যে অভিযানের ফলে একটি চক্রের গাত্রদাহ হয়েছিল। 
 
যশোর খ সার্কেল এসপি গোলাম রব্বানী বলেন, পুলিশকে জড়িয়ে এলাকাবাসী যে অপপ্রচার চালাচ্ছে এটা সত্য নয়। হত্যাকারীরা নিজেদের রক্ষা করার স্বার্থে পুলিশকে জড়িয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে। প্রকৃত হত্যাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। 
 
ইত্তেফাক/জেডএইচ
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৩৪
যোহর১১:৫১
আসর৪:১১
মাগরিব৫:৫৪
এশা৭:০৭
সূর্যোদয় - ৫:৪৮সূর্যাস্ত - ০৫:৪৯