সারাদেশ | The Daily Ittefaq

উত্তরাঞ্চলে জাল রুপি তৈরি করছে ১০ সিন্ডিকেট!

উত্তরাঞ্চলে জাল রুপি তৈরি করছে ১০ সিন্ডিকেট!
স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী০৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং ২০:০৮ মিঃ
উত্তরাঞ্চলে জাল রুপি তৈরি করছে ১০ সিন্ডিকেট!
ফাইল ছবি
গত শুক্রবার রাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের টিকারামপুরে একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ৫০ লাখ ভারতীয় জাল রুপি উদ্ধার এবং এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। এর আগের দিন বৃহস্পতিবার রাতে রাজশাহীর বেলদারপাড়ার একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ১১ লাখ ভারতীয় জাল রুপিসহ আরেক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়।
 
চাঁপাইনবাবগঞ্জে গ্রেফতার রুবেল হোসেন ও রাজশাহীতে গ্রেফতার বাড়ির মালিক দরদুজ্জামান বিশ্বাস (৫৭) ওরফে জামানকে জাল রুপি তৈরির সিন্ডিকেটের অন্যতম হোতা বলে জানিয়েছে র‌্যাব। গোয়েন্দা সূত্রগুলো বলছে, উত্তরাঞ্চলে জাল রুপি তৈরিতে ১০ সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে!
 
র‌্যাব-৫ চাঁপাইনবাবগঞ্জ ক্যাম্পের কমান্ডার স্কোয়াড্রন লিডার আবু সাঈদ আবদুল্লাহ আল মুরাদ জানান, রুবেল হোসেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার জোড়গাছি এলাকার আকবর হোসেনের ছেলে। তার কাছ থেকে ৫০ লাখ ভারতীয় জাল রুপি ছাড়াও কিছু বাংলাদেশি জাল টাকা, ৬টি উচ্চ প্রযুক্তির কালার প্রিন্টার, ২টি ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার রুবেলকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানায় হস্তান্তর ও মামলা দায়ের করা হয়।
 
বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, রাজশাহীসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে ভারতীয় জাল রুপি। রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, জয়পুরহাট ও দিনাজপুরের হিলি সীমান্ত এলাকায় জাল টাকা তৈরির ১০টির বেশি শক্তিশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় বলে ওয়াকিবহাল সূত্রগুলোর দাবি। সিন্ডিকেটের সদস্যরা জাল রুপি ভারতে পাচার করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। বিনিময়ে সীমান্ত পথে ভারত থেকে আসছে ফেনসিডিল, অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি, বিস্ফোরক, হেরোইন ও নেশাজাতীয় দ্রব্য। 
 
জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকাস্থ র‌্যাব-২ এর একটি দল রাজশাহী মহানগরীর বেলদারপাড়া (সুলতানাবাদ) মহল্লার ৬৬ নম্বর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ১১ লাখ ভারতীয় জাল রুপি উদ্ধার করে। এসময় গ্রেফতার করা হয় বাড়ির মালিক দরদুজ্জামান বিশ্বাস (৫৭) ওরফে জামানকে। তিনি জাল রুপি তৈরির সঙ্গে জড়িত বলে দাবি করেছে র‌্যাব। 
 
র‌্যাব-৫ জানায়, দরদুজ্জামান বিশ্বাস আগে জাল রুপিসহ চারবার পুলিশ ও র‌্যাবের হাতে আটক হলেও জামিনে বেরিয়ে এসে পুরনো কারবারে ফিরেছে। র‌্যাবের এক কর্মকর্তা বাদী হয়ে শুক্রবার তার বিরুদ্ধে বোয়ালিয়া মডেল থানায় মামলা করেছেন। দরদুজ্জামান ১৯৮৮ সাল থেকে ভারতীয় জাল রুপি তৈরি ও পাচারের কাজে জড়িত। এর আগে ভারতীয় তদন্ত সংস্থা এনআইএ তাকে ধরার জন্য একাধিকবার বাংলাদেশকে অনুরোধ করেছিল।
 
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উত্তরাঞ্চলের মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ সীমান্তের মনাকষা, ঠুঠাপাড়া, তারাপুর, চৌকা, বিনোদপুর, খাসেরহাট, শাহবাজপুর, মনোহরপুর, পাকা, গাইপাড়া, সদর উপজেলার জোহরপুর ট্যাক, জোহরপুর, নারায়ণপুর, ভোলাহাট, গোমস্তাপুর প্রভৃতি সীমান্ত এলাকায় জাল রুপির সিন্ডিকেট সাম্প্রতিক সময়ে সক্রিয় হয়ে উঠেছে।
 
ভারতীয় স্পেশাল ক্রাইম ব্যুরো অব স্ট্যাটিসটিক্সের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত এক বছরে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী মালদহ ও মুর্শিদাবাদ জেলার বিভিন্ন এলাকায় ভারতীয় ৭৮ কোটি জাল রুপি উদ্ধার ও ২৪৫ পাচারকারী গ্রেফতার হয়েছে। এসব জাল টাকা সীমান্ত সংলগ্ন বাংলাদেশ এলাকায় ছাপা হয়ে ভারতে পাচার হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
 
এ ব্যাপারে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৫৩, বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল সরওয়ার সাজ্জাদ বলেন, বিজিবি নিয়মানুযায়ী সীমান্ত এলাকায় টহল চালাচ্ছে। আর জাল রুপি সীমান্ত এলাকায় তৈরি হয় না।
 
ইত্তেফাক/জেডএইচ
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৩৩
যোহর১১:৫২
আসর৪:১৩
মাগরিব৫:৫৭
এশা৭:১০
সূর্যোদয় - ৫:৪৭সূর্যাস্ত - ০৫:৫২