সারাদেশ | The Daily Ittefaq

মির্জাপুরে যুবক হত্যা, গ্রেপ্তার এড়াতে এলাকা পুরুষশূন্য

মির্জাপুরে যুবক হত্যা, গ্রেপ্তার এড়াতে এলাকা পুরুষশূন্য
মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং ১৮:০০ মিঃ
মির্জাপুরে যুবক হত্যা, গ্রেপ্তার এড়াতে এলাকা পুরুষশূন্য
প্রহসনমূলক বিচারের নামে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে শাহীন মোল্লা (৩৪) নামে যুবককে পিটিয়ে হত্যর ঘটনার তিন দিন পার হলেও হত্যার সঙ্গে জড়িত মূলহোতারা কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। গ্রেপ্তার এড়াতে এলাকা পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে। গত শুক্রবার রাতে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার ৫ নং বানাইল ইউনিয়নের মাঝালিয়া গ্রামে এ হত্যার ঘটনাটি ঘটেছে। 
 
আজ সোমবার ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে, অসহায় ও নিরীহ শাহীনকে হত্যার ঘটনায় এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। স্বামীকে হারিয়ে দুই কন্যা সন্তান নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন রেহানা বেগম।
 
মির্জাপুর থানা পুলিশ সূত্র জানায়, নিহত শাহীনের পিতার নাম সৈয়দ আলী মোল্লা। গ্রামের বাড়ি উপজেলার মাঝালিয়া গ্রামে। পেশায় ছিল সে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। পারিবারিক বিরোধ ও পূর্ব শক্রতাকে কেন্দ্র করে তার প্রতিবেশীরা এবং মাঝালিয়ার কতিপয় বখাটে এক শিশুকে যৌন হয়রানীর অভিযোগ দিয়ে শাহীনকে শুক্রবার রাতে বাড়ি থেকে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে যায়। মাঝালিয়া গ্রামের স্কুল মাঠের পাশে ক্লাবে এনে লাঠি দিয়ে বেদম পেটাতে থাকে।
 
শাহীনের স্ত্রী রেহানা বেগম ও মামাতো ভাই জুয়েল অভিযোগ করেন, প্রহসনমূলক বিচারের নামে মাতব্বর মোহাম্মদ আলী ও তার সহযোগীদের নির্দেশে শাহীনের ওপর অমানুষিক নির্যাতন করা হয়। নির্যাতনে আংশ নেয় মাঝালিয়া গ্রামের বাগু মিয়ার ছেলে সুমন, লেবু খানের ছেলে ইজাজ, নওজেস আলীর ছেলে অয়ন, বজলু মিয়ার ছেলে শামীম, আমজাদ আলীর ছেলে রানা, রিপন, নুরু মিয়ার ছেলে মামুন, মান্নান মিয়ার ছেলে পারভেজসহ ১৫-১৬ জন যুবক। তাদের অমানুষিক নির্যাতনে শাহীন বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার করেও রেহায় পায়নি। তার স্ত্রী রেহানা বেগম এগিয়ে এলে তাকেও ঐ বখাটেরা মেরে ফেলার হুমকি দেয় বলে অভিযোগ করা হয়।
 
নির্যাতনের পর স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। সন্ত্রাসীরা তাদের ওপরও হামলা করে। পরে পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে শাহীনকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে মির্জাপুর উপজেলার জামুর্কি সরকারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকগণ তার শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখে মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেন।
 
শুক্রবার রাতেই কুমুদিনী হাসপাতালে নিয়ে এলে চিকিৎসকগণ তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর থেকে মাতব্বর মোহাম্মদ আলী গং ও হত্যার সঙ্গে জড়িত মূল হোতারা এলাকা থেকে পালিয়ে গেছে বলে শাহীনের স্ত্রী রেহানা জানিয়েছেন। শাহীনের অসহায় স্ত্রী রেহেনা বেগম ও এলাকাবাসী হত্যার সঙ্গে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক স্বাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
 
এ ব্যাপারে মির্জাপুর থানার পুলিশ হারিছুল হক বলেন, শিশুকে যৌন হয়রানী করা হয়েছে এটা ছিল শাহীনের উপর মিথ্যা, সাজানো ও বানানো একটি গুজব। শাহীনের ওপর মিথ্যা অভিযোগ এনে প্রহসনমূলক বিচারের নামে কিছু বখাটে ও মাতব্বর তাকে নির্যাতন করে মেরে ফেলেছে। 
 
মির্জাপুর থানার প্রধান কর্মকর্তা এ কে এম মিজানুল হক মিজান বলেন, নিহত শাহীনের স্ত্রী রেহানা বেগম বাদী হয়ে মামলা করেছেন। তদন্ত সাপেক্ষে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে। ইতিমধ্যে কয়েকজনকে জিঞ্জাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।
 
এ ব্যাপারে বানাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ফারুক হোসেন বলেন, ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছেন তিনি।
 
ইত্তেফাক/নূহু
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৩২
যোহর১১:৫২
আসর৪:১৪
মাগরিব৫:৫৮
এশা৭:১১
সূর্যোদয় - ৫:৪৭সূর্যাস্ত - ০৫:৫৩