সারাদেশ | The Daily Ittefaq

তিস্তার পানি বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে

তিস্তার পানি বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে
রংপুর অফিস১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং ১৯:২৯ মিঃ
তিস্তার পানি বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে
ভারত থেকে নেমে আসা পাানি গজলডোবা বাঁধ দিয়ে তিস্তা নদীতে ছাড়ার কারণে আবার গর্জে উঠেছে তিস্তা নদী। কাউনিয়া উপজেলার বালাপাড়া, টেপামধুপুর ইউনিয়নে তিস্তা নদীর ভাঙ্গনের কবলে পরেছে আবারো কয়েকশ পারিবার। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে প্রায় ৫ হাজার পরিবার। উত্তরে  ভারি বর্ষণ ও উজানের ঢলে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করেছে। 
 
মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার উপরে প্রবাহিত হচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে। নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় কাউনিয়া সড়ক সেতুর গাইড ওয়াল নিচে দেবে যাচ্ছে। উজান থেকে আসা পানির ঢলে রংপুরের গঙ্গাচড়ায়, কাউনিয়া পীরগাছা উপজেলার প্রায় অর্ধশত গ্রামের ২০হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। পানির তোড়ে মহিপুর, কাকিনা সড়কে ২টি ব্রিজ ও কালভার্টে ব্লক পিচিং ধ্বসে গেছে। পীরগাছায় এ যাবৎ এই তিন উপজেলায় প্রায় সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পানি উঠেছে। তিস্তা নদীর পানি আরো বৃদ্ধি পেয়ে দেশের সর্ববৃহৎ সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারেজ ডালিয়া পয়েন্টে বিপদসীমা ২০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেন ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল আলম চৌধুরী।
 
গঙ্গাচড়া সংবাদদাতা জানান, গত সোমবার রাত থেকে তিস্তায় পানি বৃদ্ধিতে তিস্তা ব্যারাজের ভাটি এলাকা ঊপজেলার নোহালী ইউনিয়নের নোহালী, চরনোহালী, বাগডোহরা, মিনার বাজার, চর বাগডোহরা ও নোহালী সাপমারী, আলমবিদিতর ইউনিয়নের হাজীপাড়া ও ব্যাংকপাড়া, কোলকোন্দ ইউনিয়নের চিলাখাল, উত্তর চিলাখাল, মটুকপুর, বিনবিনা মাঝের চর, সাউদপাড়া ও বাবুরটারী বাঁধেরপাড়. গঙ্গাচড়া সদর ইউনিয়নের ধামুর ও গান্নারপাড়, লক্ষ্মিটারী ইউনিয়নের শংকরদহ, পূর্ব ইচলী, জয়রামওঝা, পশ্চিম ইচলী, মহিপুর ও কলাগাছি, গজঘন্টা ইউনিয়নের ছালাপাক, গাউছিয়া,জয়দেব, রমাকান্ত, একনাথ ও কালির চর এবং মর্নেয়া ইউনিয়নের আলাল, তালপট্টি চর, মর্নেয়া চর, নরসিংহ ও হাজীর বাজার এলাকায় প্রায় ১০ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। 
সরেজমিনে বন্যা কবলিত শংকরদহ, বিনবিনা, ইচলী এলাকা গিয়ে দেখা যায়, চরের বাড়িগুলোর চারপাশে শুধু পানি আর পানি। হঠাৎ করে আসা পানিতে বাঁধ ছুঁই ছুঁই করছে। রাস্তা-ঘাট তলিয়ে যাওয়ায় চরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ঝুঁকির মুখে রয়েছে মহিপুর-কাকিনা সড়কের ২টি ব্রিজ ও কালভার্ট।
 
কোলকোন্দ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন রাজু জানান, শুধু তার ইউনিয়নেই ২ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। নোহালী ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ টিটু জানান, তার ইউনিয়নে ৩ হাজার পরিবার পানিবন্দি।
 
তিস্তায় পানি বৃদ্ধি পেয়ে সৃষ্ট বন্যার বিষয়টি নিশ্চিত করে রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান জানান, গত সোমবার উজানে ভারত তাদের ব্যারেজের সবগুলো গেট খুলে দেওয়ায় নদীতে পানি বেড়েছে। বন্যা সতর্কীকরণ কেন্দ্রের বরাত দিয়ে তিনি জানান, পানি গতকাল দুপুরে বিপদসীমার (৫২ দশমিক ৪০)  ১০ সে.মি. নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।                                                               
 
পীরগাছা সংবাদদাতা জানান, উপজেলার শিবদেব চর, চর ছাওলা, কিশামত ছাওলা, গাবুড়ার চর, চর ছাওলা কামারের হাট, দক্ষিণ গাবুড়াসহ প্রায় দশটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে প্রায় ৫ হাজার পরিবার পানি বন্দি হয়ে পড়েছে। ৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বন্যার পানি ঢুকে পড়ায় বিদ্যালয়গুলো বন্ধ হয়ে গেছে।
 
উজানে ঢলে ভাবি বর্ষণে তিস্তা নদীর এই ভয়াবহ বন্যায় নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার টেপাখড়ি বাড়ি ইউনিয়নের চড়খড়িবাড়ি এলাকায় সেচ্ছাশ্রমে নির্মিত বালির বাঁধটি হুমকির মুখে পড়েছে। বাঁধটি একটি অংশে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে।
 
খাঁলিশাচাঁপানী ইউনিয়নের ছোটখাতা, বানপাড়া ও বাঁইশপুকুর চর এলাকায় ঘরবাড়ি তলিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। একই অবস্থা ঝুঁনাগাছচাঁপানী ইউনিয়নের ছাতুনামা ফরেস্টের চরের। পূর্বছাতনাই ইউনিয়নের ঝাড়সিঙ্গের চরের বসত ভিটায় বন্যার পানি প্রবাহিত হচ্ছে। বন্যা কবলিত মানুষজন গবাদিপশু ও আসবাবপত্রসহ তিস্তা নদীর ডান তীরের বাঁধ ও উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছে।
 
অপরদিকে জেলার জলঢাকা উপজেলার ডাইয়াবাড়ি, গোলমুন্ডা, শৈলমারী, কৈমারী ইউনিয়নের চরবেষ্টিত গ্রামগুলোতে বন্যার পানি প্রবেশ অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে।
 
ইত্তেফাক/নূহু
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৩০
যোহর১১:৫৩
আসর৪:১৭
মাগরিব৬:০২
এশা৭:১৫
সূর্যোদয় - ৫:৪৬সূর্যাস্ত - ০৫:৫৭