সারাদেশ | The Daily Ittefaq

হারিয়ে যাওয়া বাবা-মায়ের খোঁজে পাবনায় ডেনিশ নাগরিক

হারিয়ে যাওয়া বাবা-মায়ের খোঁজে পাবনায় ডেনিশ নাগরিক
রুমী খোন্দকার, পাবনা১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং ১৭:২৮ মিঃ
হারিয়ে যাওয়া বাবা-মায়ের খোঁজে পাবনায় ডেনিশ নাগরিক
এনিটি হোলমিহেভ ও মিন্টো কারস্টেন সোনিক
৪১ বছর আগে হারিয়ে যাওয়া বাবা-মার সন্ধানে স্ত্রীকে নিয়ে পাবনার পথে পথে ঘুরছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ডেনিশ নাগরিক মিন্টো কারস্টেন সোনিক। ছয় বছর বয়সে হারিয়ে যাওয়া মিন্টো জানেন না তার বাবা-মা এমনকি গ্রামের নাম। ছোটবেলার একটি ছবিকে সম্বল করে নিজের পরিবার ফিরে পেতে পাবনার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে বেড়াচ্ছেন তিনি। হারিয়ে যাওয়ার সময়কার তার ছবি দেখিয়ে জানতে চাইছেন কেউ এই ছেলেটিকে চেনেন কিনা ?
 
মিন্টোর বিলি করা লিফলেট থেকে জানা যায়, ১৯৭৭ সালে ছয় বছর বয়সে পাবনার নগড়বাড়ি ঘাটে হারিয়ে যান মিন্টো। সেখান থেকে চৌধুরী কামরুল হোসেন নামের এক ব্যক্তি মিন্টোকে পৌঁছে দেন ঢাকার এক আশ্রমে। ১৯৭৮ সালে ওলে ও বেনফি নামের ডেনিশ দম্পতি তাকে দত্তক নিয়ে ডেনমার্ক নিয়ে যান।
 
বুধবার পাবনা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে মিন্টো বলেন, সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম দিকে স্ত্রীকে নিয়ে পাবনায় আসেন তিনি। কিছুদিন আগে ফেসবুকের মাধ্যমে যোগাযোগ করেন পাবনায় স্বাধীন বিশ্বাস নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে। অনুসন্ধান করতে করতে চলে আসেন বাংলাদেশের পাবনায়।  
 
মিন্টো জানান, ছেলে বেলার কোনো স্মৃতিই মনে নেই তার। জানেন না বাংলা ভাষা। তবে পেশায় চিত্রশিল্পী মিন্টোর গায়ের রং জানান দেয় তার বাঙালী পরিচয়। 
 
তিনি আরো জানান, পুরনো কাগজ ঘেঁটে জেনেছেন মাত্র ৬ বছর বয়সে পাবনার বেড়া উপজেলার নগরবাড়ি ঘাট এলাকা থেকে হারিয়ে যান তিনি। সেখান থেকে ঢাকার ঠাটারিবাজার টেরি ডেস হোমস নামের শিশু সদনে ছিলেন। পরে শিশু সদন থেকে ১৯৭৮ সালে ডেনমার্কের এক নিঃসন্তান দম্পতি তাকে দত্তক নিয়ে যায়। সেখানেই মিন্টোর শৈশব কৈশোর কাটে। পেশায় একজন চিত্রশিল্পী তিনি। ডেনমার্কের নাগরিক এনিটি হোলমিহেভ নামের এক চিকিৎসককে বিয়ে করে সংসার জীবন শুরু করেন। তাদের দাম্পত্য জীবনে এক ছেলে ও মেয়ে রয়েছে। 
 
মিন্টোর স্ত্রী এনিটি হোলমিহেভ বলেন, আগে তার স্বামীর তেমন সমস্যা ছিল না। বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গেই তিনি সব সময় হীনমন্যতায় ভুগতে শুরু করেন। পরিবারের লোকজনের সঙ্গে খুবই দুর্ব্যবহার করতেন। মাঝে মধ্যেই মেজাজ খিটমিটে হয়ে যেত, কোনো কিছুই ভালো লাগতো না তার। অবশেষে পরিবারের সবার সিদ্ধান্তে ছোট বেলার একটি ছবিকে অবলম্বন করে ছুটে আসেন পাবনায়। 
গত কয়েকদিন ধরে বাবা-মা স্বজনদের খোঁজে পাবনা শহরসহ নগরবাড়ি এলাকায় চষে বেড়াচ্ছেন এই দম্পতি।
 
মিন্টো বলেন, ডেনমার্কে তার পালক বাবা-মা ও স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে খুব সুখেই আছেন, তবুও তার অন্তর এখনো বার বার কেঁদে ওঠে বাংলাদেশের বাবা-মা ও স্বজনদের জন্যে। মনে হয় স্বজনদের পেলে তার জীবনটা সম্পূর্ণ হয়ে উঠবে। বাবা-মা ও স্বজনদের কথা মনে হলে তার খুব খারাপ লাগে। 
 
বাংলাদেশে এসে কেমন লাগছে জানতে চাইলে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ডেনিশ নাগরিক মিন্টো বলেন, প্রতিটি মানুষকে তার আপন মনে হচ্ছে। তার চেহারার সঙ্গে তাদের মিল। যেন তিনি আয়নায় নিজেকেই দেখছেন।
 
মিন্টোর স্ত্রী এনিটি হোলমিহেভ বলেন, মিন্টোর এ দেশে কাটানো শৈশবের কোনো স্মৃতিই মনে নেই। যে আশ্রমে সে ছিল তারও অস্তিত্ব নেই। খুঁজে পাইনি। ছোটবেলার দু’একটি ছবি ছাড়া কোনো সূত্র নেই। তার স্বজনদের খুঁজে পাওয়া এটা খুব কঠিন কাজ। এরপরও আশা নিয়ে পাবনায় খুঁজে বেড়াচ্ছেন।
 
এ বিষয়ে পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) গৌতম কুমার বিশ্বাস বলেন, বিষয়টি তারা জেনেছেন। পুলিশের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই তিনি পাবনা সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। 
 
এদিকে এরই মাঝে সুযোগ সন্ধানী কেউ কেউ নিজেদের মিন্টোর স্বজন বলে দাবি করলেও দিতে পারেনি কোনো প্রমাণ। ডিএনএ পরীক্ষার কথা শুনে আর যোগাযোগ করেননি তারা। 
 
ইত্তেফাক/জেডএইচ
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৩১
যোহর১১:৫২
আসর৪:১৫
মাগরিব৫:৫৯
এশা৭:১২
সূর্যোদয় - ৫:৪৬সূর্যাস্ত - ০৫:৫৪