সারাদেশ | The Daily Ittefaq

সড়কে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে শিশুমৃত্যু

সড়কে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে শিশুমৃত্যু
ইত্তেফাক রিপোর্ট১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং ০১:৩৬ মিঃ
সড়কে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে শিশুমৃত্যু
সড়কে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে শিশুমৃত্যুর ঘটনা। চলতি বছর গত আটমাসে সড়কে ৪৬৬ শিশুর প্রাণহানি ঘটেছে। গত বছরের তুলনায় চলতি বছর সড়কে শিশু মৃত্যুর ঘটনা ৮৮ শতাংশ বেড়েছে। সামগ্রিকভাবে সড়ক দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে— বেপরোয়া গতি, চালকের উদাসীনতা, দক্ষ চালকের অভাব, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, আইনের শিথিলতা এবং পথচারীদের সচেতনতার অভাবকেই দায়ী করেন বিশেষজ্ঞরা।
 
শিশুদের নিয়ে কাজ করা ২৭০টি শিশু সংগঠনের মোর্চা সংগঠন ‘বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরাম’ এর তথ্য মতে, চলতি বছর জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৬৬ শিশু নিহত ও ৬৮ শিশু আহত হয়েছে। ২০১৭ সালের প্রথম আট মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় শিশু নিহত হয়েছিল ২৪৮ জন। যা গত বছরের তুলনায় ৮৮ শতাংশ বেশি। দেশের ১৫টি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত শিশু অধিকার লঙ্ঘনের সংবাদ পর্যবেক্ষণ এবং বিশ্লেষণ করে শিশু অধিকার ফোরাম এই তথ্য তৈরি করেছে।
 
গত ২৯ জুলাই জাবালে নূরের দু’টি বাস আব্দুল্লাহপুরের উদ্দেশ্যে যাওয়ার সময় রেশারেশি করে বেশি যাত্রী ও বেশি ভাড়া পাওয়ার আশায় বেপরোয়া গতিতে চালাতে শুরু করে। এসময় বাসের জন্য অপেক্ষমাণ শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের ১৪/১৫ জন শিক্ষার্থীর ওপর একটি বাস তুলে দেয় চালক। ঘটনাস্থলে ১৩/১৪ জন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়। একাদশ শ্রেণির ছাত্রী মিম ও দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র রাজীব মারা যায়। ২৮ আগস্ট। কুষ্টিয়ায় দাঁড়িয়ে থাকা বাসের সামনে দিয়ে এক বছরের আকিফাকে কোলে নিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন মা রিনা বেগম। বাসটি হর্ন না দিয়ে চালাতে শুরু করে চালক। রিনা বেগমকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। আহত হয় আকিফা। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। এমনি অসংখ্য দুর্ঘটনায় শিশুর মৃত্যু থামছে না।
 
অধিকার ফোরামের তথ্য মতে, এবছর সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১০৮ শিশুর বয়স ১ থেকে ৬ বছর, ১২১ জনের বয়স ৭ থেকে ১২ বছর ও ১৮৩ শিশুর বয়স ১৩ থেকে ১৮ বছর। বাকি ৫৪ শিশুর বয়স উল্লেখ ছিল না। সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত শিশুর সংখ্যায় শীর্ষ ৫ জেলার মধ্যে—ঢাকা, চট্টগ্রামে, ময়মনসিংহ, গাইবান্ধা, কক্সবাজার। এর আগে, ২০১২ সালে সড়কে ৯৯ শিশুর মৃত্যু হয়, ২০১৩ সালে হয় ১৪৯ শিশু, ২০১৪ সালে ২৬২ শিশু, ২০১৫ সালে ৪৮০ শিশু, ২০১৬ সালে ২৫২ শিশু ও ২০১৭ সালে ৩৫৭ শিশু সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারায়। অভিভাবক নাঈমা ইসলাম বলেন, সড়কে বাচ্চাকে একা কোনোদিন ছাড়লে বাসায় স্থির থাকতে পারি না।
 
আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী ব্যারিস্টার সারা হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, আইনের প্রয়োগ নেই। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পরে, কিছুটা রিয়াকশন হচ্ছে। একটা পরিবর্তন আসছে। সড়ক দুর্ঘটনায় হাইকোর্টে দ্রুত রায় হচ্ছে, ক্ষতিপূরণ দিচ্ছে, গ্রেফতারের নির্দেশ দিচ্ছে, সব ধরনের আইনি ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।  কিন্তু আমরা দেখছি কিছু বিশেষ ক্ষেত্রেই কেবল এ ধরনের ব্যবস্থা। যদি বিশেষ ক্ষেত্রে সুবিধা না দিয়ে, সবার জন্য সমান ব্যবস্থা নেয়া হয়, তাহলে একটা পরিবর্তন দেখা যাবে। কিন্তু কোথায় কেমন সমস্যা হচ্ছে, সে কথা যদি বলা না যায়, জানা না যায়, তাহলে তো আসলে পরিবর্তন আনা মুশকিল হবে। সবাই যদি ভয়ে চুপ হয়ে যায়, তাহলে তো পরিবর্তন আসবে না।
 
শিশু অধিকার ফোরামের পরিচালক মো. আবদুছ শহিদ মাহমুদ ইত্তেফাককে বলেন, সামগ্রীকভাবে সড়কে শিশু মৃত্যুর অনেকগুলো কারণ— এরমধ্যে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে দুর্বলতা রয়েছে। শাস্তি দিয়ে আইন করে হয়তো দুর্ঘটনা কমানো যাবে না। তবে এটা অবশ্যই একটা উপায়। সড়কে একটা মানুষকে মেরে যদি তার সর্বোচ্চ শাস্তি পাঁচবছর হয় আর জরিমানা এতো কম যে, এই শাস্তিকে কেউ ভয় পাবে না। সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক হচ্ছে, পরিবহন মালিক ও শ্রমিক। এদের একটা শক্তিশালী গ্রুপ আছে। যাদেরকে সরকার খুব একটা ঘাটাতে চায় না। এদের সংঘবদ্ধ চাপের কারণে সরকার চাইলেও অনেক কিছু করতে পারে না।
 
ইত্তেফাক/নূহু
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৩২
যোহর১১:৫২
আসর৪:১৪
মাগরিব৫:৫৮
এশা৭:১১
সূর্যোদয় - ৫:৪৭সূর্যাস্ত - ০৫:৫৩