সারাদেশ | The Daily Ittefaq

বুকে প্রধান শিক্ষকের লাথিতে ছাত্র অজ্ঞান

বুকে প্রধান শিক্ষকের লাথিতে ছাত্র অজ্ঞান
বাবুগঞ্জ (বরিশাল) সংবাদদাতা১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং ১৯:১৩ মিঃ
বুকে প্রধান শিক্ষকের লাথিতে ছাত্র অজ্ঞান
ক্লাশের ফাঁকে পানি পান করতে যাওয়ায় বরিশালের বাবুগঞ্জ সরকারী পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ের এক ছাত্রকে অমানবিক নির্যাতন করেছেন মর্মে অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে বিদ্যালয়ে পাঁচ শতাধিক শিক্ষর্থী বিক্ষোভ করে ক্লাশ বর্জনের ঘোষণা দেন। পরে বাবুগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আক্তার উজ-জামান মিলনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। সহপাঠীরা আহত শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করেছে।
 
জানা গেছে, বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বাবুগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বাবুগঞ্জ সরকারী পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভোকেশনাল শাখার মেকানিক্যাল বিভাগের নবম শ্রেণির ছাত্র মোঃ রিয়াজ বেপারী ক্লাশের ফাঁকে পানি পান করতে যায়। এ সময় প্রধান শিক্ষক ঐ ছাত্রকে ক্লাসের বাইরে দেখে উত্তেজিত হয়ে প্রকাশ্যে বিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে কিল ঘুষি মারে। এক পর্যায়ে ঐ ছাত্রের বুকে লাথি মারলে অজ্ঞান হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। এ ঘটনার প্রতিবাদে বিদ্যালয়ের পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী বিক্ষোভ করে। পরে বাবুগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মৃধা মু. আক্তার-উজ-জামান মিলনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। আহত ছাত্র মোঃ রিয়াজ উপজেলার চাঁদপাশা ইউনিয়নের কালিকাপুর গ্রামে মোঃ মাজেদ বেপারীর ছেলে। 
 
প্রধান শিক্ষকের এমন কাণ্ডে শিক্ষার্থীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে তাৎক্ষনিক ক্লাস বর্জন করে প্রধান শিক্ষকের বিচারের দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ করে। এদিকে প্রধান শিক্ষকের হাতে শিক্ষার্থী নির্মম নির্যাতনের সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা বিদ্যালয়ে ছুটে আসেন। তখন প্রধান শিক্ষক বাবুগঞ্জ থানার গিয়ে ওই ছাত্রের নামে মামলার প্রস্তুতি নেয় বলে জানিয়েছেন অভিভাবকরা। পরে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বীথিকা সরকার, উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ করিম লাভু, ছাত্রলীগের সভাপতি মৃধা মু. আক্তার উজ জামান মিলনের নেতৃত্বে এক জরুরী বৈঠক হয়। সেখানে প্রধান শিক্ষক নির্মন নির্যাতনের বিষটি অস্বীকার করলেও চড়-থাপ্পরের কথা স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করেন।
 
প্রধান শিক্ষক সাংবাদিকদের বলেন, বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় তলায় একটি কক্ষে শিক্ষকদের মিটিং চলাকালে নবম শ্রেণির ভোকেশনাল শাখার মেকানিক্যাল বিভাগের শিক্ষার্থীরা গোলমাল করছিল। এ সময় তিনি রিয়াজ বেপারী নামের ওই ছাত্রকে চড়-থাপ্পর মারার কথা স্বীকার করেন। তবে নির্মম নির্যাতনের মতো কোন ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেন তিনি।
 
উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মিলন বলেন, প্রধান শিক্ষক কর্তৃক ছাত্র নির্যাতনের খবর পেয়ে দ্রুত বিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষার্থীদের উত্তেজনাকর পরিস্থিতি থেকে শান্ত করেছি। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
 
ওসি দিবাকর চন্দ্র দাস বলেন, তিনি ছাত্র নির্যাতনের সংবাদ পেয়ে তাৎক্ষনিক বিদ্যালয়ে ছুটে যান। শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন।
 
বিদ্যালয়ে এমন তুলকালাম পরিস্থিতি ঘটলেও সকাল সাড়ে দশটা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি অধ্যাপক গোলাম হোসেন কোন অদৃশ্য কারণে ঘটনাস্থলে গেলেন না ? এমন প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে পারেননি বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। অথচ ঘটনাস্থল থেকে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির কর্মস্থল বাবুগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ ৪শ গজের মধ্যেই। ঘটনার সময় অধ্যাপক গোলাম হোসেন কলেজেই ছিলেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে গোলম হোসেনের দাবি তিনি সংবাদ পেয়েছেন অনেক দেরিতে।
 
ইত্তেফাক/নূহু
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২৩ অক্টোবর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৪৩
যোহর১১:৪৩
আসর৩:৪৯
মাগরিব৫:২৯
এশা৬:৪২
সূর্যোদয় - ৫:৫৯সূর্যাস্ত - ০৫:২৪