সারাদেশ | The Daily Ittefaq

হাসপাতাল থেকে নিখোঁজ স্কুলছাত্রীর লাশ সিলেটে উদ্ধার

হাসপাতাল থেকে নিখোঁজ স্কুলছাত্রীর লাশ সিলেটে উদ্ধার
মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং ১১:৫৮ মিঃ
হাসপাতাল থেকে নিখোঁজ স্কুলছাত্রীর লাশ সিলেটে উদ্ধার
গত ৪ সেপ্টেম্বর পেটে ব্যথার জন্য টাঙ্গাইলের মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে ভর্তি করা হয় অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী রুমীকে। সেখানে পার্শ্ববর্তী বেডে চিকিৎসারত অন্য এক নারীর জামাই শফি (২৬) তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে ৯ সেপ্টেম্বর নিয়ে পালিয়ে যায়। ঘটনার পর থেকেই নিখোঁজ ছিলো রুমী। অবশেষে ১০ দিনপর সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার একটি খালের পাড় থেকে নিহত রুমীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
 
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, ধর্ষণের পর তাকে নির্মমভাবে খুন করা হয়েছে। ঘটনার মূলহোতা শফিসহ তিনজনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। আজ শুক্রবার মির্জাপুর থানা পুলিশ ও সিলেট জেলার বিশ্বনাথ থানার পুলিশ সূত্রে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে।
 
জানা গেছে, নিহত রুমীর পিতার নাম মো. আতাউর রহমান। বাড়ি মির্জাপুর উপজেলার ওয়ার্শি ইউনিয়নের নগরভাদগ্রামে। রুমী মৈশামুড়া বসন্ত কুমারী উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী ছিলো।
 
তার পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে চিকিত্সার জন্য রুমীকে ভর্তি করা হয়। ঐ ওয়ার্ডে সোহাগপাড়া এলাকার শফিক মিয়ার শ্বাশুড়ী অসুস্থ হয়ে চিকিত্সার জন্য ভর্তি হন। শ্বাশুড়ীকে দেখা-শোনা করতে এসে শফিকের সঙ্গে স্কুলছাত্রী রুমীর পরিচয় হয়। পরিচয়ের একপর্যায়ে রুমিকে শফি বিয়ের প্রস্তাব দিলে সে রাজি হয়। শফিক বিবাহিত হলেও তা গোপন রাখে। নানান কৌশলে গত ৯ সেপ্টেম্বর প্রতারক শফিক হাসপাতাল থেকে রুমীকে ভাগিয়ে নিয়ে সিলেটের উদ্দেশে রওনা হয়। এদিকে মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালের চিকিত্সক ও নার্সরা ওয়ার্ডের বিছানায় রুমীকে না পেয়ে তার স্বজনদের ফোনে খবর দেন। খবর পেয়ে রুমীর ভাই শফিকুল ইসলাম ও চাচা কবির হোসেন হাসপাতালে আসেন। পরে রুমীর ভাই মির্জাপুর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
 
অপরদিকে রুমীকে বিশ্বনাথে কয়েক দিন আটকে রেখে ধর্ষণ করে নির্মমভাবে খুন করে শফিক। পরে লাশ গুম করার জন্য বিশ্বনাথ উপজেলার রামচন্দ্রপুর এলাকার পাঠাকইন গ্রামের রাস্তার খালের পাশে ফেলে দেয়। স্থানীয় লোকজন লাশ দেখে পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত করার পর বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করে। এ নিয়ে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হলে রুমীর স্বজনরা তার ছবি নিয়ে বিশ্বনাথ থানায় গিয়ে রুমির লাশ সনাক্ত করে।
 
মির্জাপুর থানা পুলিশ ও সিলেটের বিশ্বনাথ থানার পুলিশ মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালের ভিডিও ফুটেজ দেখে ঘটনার সঙ্গে জড়িত আব্দুল ওহাব উল্লার ছেলে শফিক মিয়া, তার স্ত্রী সোনালী আক্তার হ্যাপি, ওহাব উল্লার দুই পুত্রবধু দিপা ও লাভলী বেগমকে গ্রেফতার করেছেন।
 

ইত্তেফাক/এএম

এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২০ অক্টোবর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৪২
যোহর১১:৪৪
আসর৩:৫১
মাগরিব৫:৩২
এশা৬:৪৪
সূর্যোদয় - ৫:৫৮সূর্যাস্ত - ০৫:২৭