সারাদেশ | The Daily Ittefaq

উখিয়ায় উয়ালা বনবিট অফিসের জায়গা দখল করে বসতবাড়ি নির্মাণ

উখিয়ায় উয়ালা বনবিট অফিসের জায়গা দখল করে বসতবাড়ি নির্মাণ
উখিয়া (কক্সবাজার) সংবাদদাতা২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং ১১:৪১ মিঃ
উখিয়ায় উয়ালা বনবিট অফিসের জায়গা দখল করে বসতবাড়ি নির্মাণ
কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের উখিয়া রেঞ্জের আওতাধীন উয়ালা বনবিট অফিসের সংরক্ষিত জায়গা দখল করে বসতবাড়ি নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা অফিস ভিটায় অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের নেপথ্যে উয়ালা বনবিটের দায়িত্বরত কর্মকর্তা ফেরদৌস আহম্মদ ফরেস্টারকে দায়ী করে বলেন, এ বিটে দুই তৃতীয়াংশ বনভূমি ও প্রায় শতাধিক মাদার ট্রি লুটপাটসহ অব্যাহত বনভূমি দখলের ফলে এ বিটের আওতাধীন সংরক্ষিত বনভূমির অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
 
২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমার থেকে প্রায় ৮ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা উখিয়ার বিভিন্ন বনভূমিতে আশ্রয় নিলেও উয়ালা বনবিটের আওতাধীন বনভূমিতে রোহিঙ্গাদের কোনো প্রভাব পড়েনি। তবে রোহিঙ্গা আসার কারণে জমিজমার দাম বেড়ে যাওয়ায় দখল প্রবণতা বেড়েছে আশংকাজনক-ভাবে।
 
সরজমিনে উখিয়া রেঞ্জের নিয়ন্ত্রণাধীন উয়ালা বনবিট অফিসের সংরক্ষিত এলাকা ঘুরে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, উয়ালা বনবিট অফিসটি সংরক্ষণ না করায় অনেক আগেই অফিসটি বিলুপ্ত হয়ে গেছে। তারপরেও অফিসের জায়গাটি সংরক্ষণ করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও এ অফিসের জায়গাটি কেন বেদখলে চলে যাচ্ছে তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
 
স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও ঠিকাদার ফরিদুল আলম জানান, উয়ালা বনবিট অফিসটি চালু রাখা হলে বনভূমির উন্নয়নসহ কাঠ সম্পদ বিক্রির মাধ্যমে সরকারের এখাতে প্রচুর পরিমাণ রাজস্ব আদায় হতো। তিনি বলেন, এখানে একজন বনবিট কর্মকর্তা থাকলেও অফিস না থাকার কারণে তিনি প্রায় সময় কর্মস্থলে থাকেন না। যে কারণে সরকারের বন সম্পদ দায়সারা ভাবে বেদখল হয়ে যাচ্ছে। 
 
প্রত্যক্ষদর্শী মাস্টার জানে আলম জানান, ফেরদৌস আহম্মদ ফরেস্টারের নামের একজন বনবিট কর্মকর্তা উয়ালা বনবিটে যোগদান করার পর থেকে বনভূমি বেদখল প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
 
তিনি বলেন, এমনকি বনবিটের অফিস ভিটাতেও ঘরবাড়ী নির্মাণ করতে দেখা গেছে। উয়ালা বনবিট এলাকায় যুগযুগ ধরে বসবাসরত ফজল করিমের ছেলে মোজাম্মেল হক জানান, অন্যান্যদের মত সেও বন ভূমিতে একটি বাড়ী নির্মাণ করে সপরিবারে বসবাস করে আসছিল। বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে বিট কর্মকর্তা তার কাছ থেকে টাকা দাবী করে। টাকা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় বিট কর্মকর্তা তাকে আসামী করে একটি মিথ্যা পাহাড় কাটার মামলা করেন। সে জানান, গত ২/৩ দিনের মধ্যে কালো পলিথিনের ঘেরা দিয়ে অবৈধ ভাবে বাড়ী নির্মাণ করছে আবুল বশরের ছেলে ছৈয়দ আলম। সে ছাড়াও অফিস ভিটার  চারপাশের জায়গা দখল করে শতাধিক বাড়ী নির্মাণ করা হয়েছে। তাদের জন্য কোন আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি কেন জানতে চাওয়া হলে বিট কর্মকর্তা ফেরদৌস জানান, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
 
এ ব্যাপারে রেঞ্জ কর্মকর্তা কাজী তারিকুর রহমান জানান, অফিস ভিটায় স্থাপনা নির্মাণ করা হলে তার বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 
 
ইত্তেফাক/এএম
 
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২০ অক্টোবর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৪২
যোহর১১:৪৪
আসর৩:৫১
মাগরিব৫:৩২
এশা৬:৪৪
সূর্যোদয় - ৫:৫৮সূর্যাস্ত - ০৫:২৭