সারাদেশ | The Daily Ittefaq

নাগেশ্বরীতে মাদ্রাসা শিক্ষকের লালসায় গর্ভবতী অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী

নাগেশ্বরীতে মাদ্রাসা শিক্ষকের লালসায় গর্ভবতী অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী
নাগেশ্বরী (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা১১ অক্টোবর, ২০১৮ ইং ১৮:৪৫ মিঃ
নাগেশ্বরীতে মাদ্রাসা শিক্ষকের লালসায় গর্ভবতী অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী
ছবিঃ গুগল ম্যাপ থেকে।
নাগেশ্বরীতে মাদ্রাসা শিক্ষকের লালসায় ৭ মাসের গর্ভবতী হয়ে পড়েছে অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রী। অবৈধ গর্ভপাত করে অসুস্থ হয়ে পড়েছে কিশোরীটি। এ ঘটনায় পালিয়েছে অভিযুক্ত শিক্ষক।
 
জানা গেছে, উপজেলার শাহিবাজার বালিকা বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণিতে পড়ালেখা করে ওই কিশোরী। বাবা-মা ঢাকায় শ্রমিকের কাজ করায় বাড়িতে দাদীর সঙ্গে থাকে ওই কিশোরী। পড়ালেখার খরচ চালাতে সেও ঝি-এর কাজ নেয় প্রতিবেশী ছাত্তার আলীর ছেলে বলদিয়া হায়দাড়িয়া মাদ্রাসার কৃষি শিক্ষক এক সন্তানের জনক মাইদুল ইসলাম লাভলুর (৩২) বাড়িতে। 
 
লাভলুর স্ত্রী চাকরীর সুবাদে কুড়িগ্রাম জেলার রাজাহাট উপজেলায় থাকায় তার বাড়ি প্রায়ই ফাকা থাকতো। এ সুযোগে ৭ মাস আগে একদিন লাভলু জোরপূর্বক ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করে। এ ঘটনা প্রকাশ না করার জন্য তাকে ভয়ভীতি দেখায়। এরপর ওই কিশোরী ওই বাড়িতে কাজ ছেড়ে দেয়। পরে ধীরে ধীরে তার শরীরে মাতৃত্বের লক্ষণ প্রকাশ পেলে ঘটনার ৬ মাস পর সে বিষয়টি তার দাদীকে জানায়।
 
তার অসহায় দাদী বিষয়টি অভিযুক্ত শিক্ষককে জানালে সে এ ঘটনা প্রকাশ না করে অবৈধ গর্ভপাতের জন্য চাপ প্রয়োগ করে। পরে ৮ অক্টোবর সোমবার রাতে মেয়েটিকে গোপনে তার ফুপা ফরিদুল ইসলামের সঙ্গে কচাকাটা ইউনিয়নের সরকারটারী গ্রামের জননী ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক পল্লী চিকিৎসক শহিদুল ইসলামের বাড়িতে অবৈধ গর্ভপাতের জন্য পাঠায়। গর্ভপাতের পর মেয়েটির শাররীক অবস্থার অবনতি ঘটলে তড়িঘড়ি করে তাকে তার বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
 
পল্লী চিকিৎসক শহিদুল মৃত নবজাতককে ফেলে দেয় বাড়ির নিকটবর্তী একটি জলাশয়ে। 
পরদিন মঙ্গলবার সকালে নবজাতকের মৃতদেহ জলাশয়ে ভাসতে দেখে এলাকাবাসী পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ দুপুরে ঘটনাস্থল থেকে তা উদ্ধার করে।
 
এ ঘটনায় এলাকাবাসীর সন্দেহ হলে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক পল্লী চিকিৎসক শহিদুল ইসলামের বাড়ি ঘিরে তাকেসহ গর্ভপাতের চুক্তির টাকা দিতে আসা ফুপা ফরিদুলকে আটক করে পুলিশে দেয়। এ সময় ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে আটককৃতরা।
 
এদিকে ঘটনা শুনে ঢাকা থেকে ফিরে আসা মেয়ের বাবা-মা শিক্ষক লাভলুর পরিবারের ভয়ে মেয়েকে নিয়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে। আশ্রয় নিয়েছে ভারতের আসাম সীমান্তের খুটামারা গ্রামে এক আত্মীয়ের বাড়িতে। সেখানে চিকিৎসাহীন অবস্থায় পড়ে আছে অসুস্থ্য কিশোরীটি। 
 
এ প্রতিবেদককে দেখে ওই কিশোরী হাউমাউ করে কেঁদে এ কথাগুলো জানায়। বাবা নজরুল ইসলাম জানান, দারিদ্র্যের কারনে বাড়ি ছেড়েছি। এ সুযোগে আমার নাবালিকা মেয়ের সর্বনাশ করছে ওই শিক্ষক। আমি এর বিচার চাই।
 
অপরদিকে ঘটনার দিন থেকে পলাতক রয়েছে অভিযুক্ত শিক্ষক লাভলু। তার কর্মস্থল বলদিয়া হায়দাড়িয়া মাদ্রাসায় গিয়ে জানা যায়, গত কয়েকদিন থেকে সে প্রতিষ্ঠানে অনুপস্থিত।
 
সুপারিনটেনডেন্ট মতিয়ার রহমান জানান, এ ঘটনা প্রকাশের পর থেকে ওই শিক্ষক মাদ্রাসায় অসে না। ইতিমধ্যে সে তিনদিনের ছুটির দরখাস্ত পাঠিয়েছে।
 
কচাকাটা থানার প্রধান কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক খলিল জানান, নবজাতকের মরদেহ ডিএনএ পরীক্ষার জন্য রংপুরে পাঠানো হয়েছে। আটককৃতদের ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে।
 
ইত্তেফাক/নূহু
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২১ অক্টোবর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৪৩
যোহর১১:৪৪
আসর৩:৫০
মাগরিব৫:৩১
এশা৬:৪৩
সূর্যোদয় - ৫:৫৮সূর্যাস্ত - ০৫:২৬