ঢাকা সোমবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ৬ ফাল্গুন ১৪২৫
১৬ °সে

উত্তর বঙ্গের তিন জেলার ২১৭ কিলোমিটার নদী খনন

উন্নয়ন হবে কৃষি ও মৎস্য সম্পদের, সচল হবে নৌপথ

উন্নয়ন হবে কৃষি ও মৎস্য সম্পদের, সচল হবে নৌপথ
বাঙ্গালী নদীর বুকে চাষ হচ্ছে ফসল। ছবি: ইত্তেফাক

নাব্যতার মাধ্যমে উত্তরের তিনটি জেলার মৃত্যুপ্রায় চারটি নদীর প্রাণ প্রবাহ ফেরাতে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) আড়াই হাজার কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করেছে। ওই প্রকল্পের মাধ্যমে বগুড়া, গাইবান্ধা, সিরাজগঞ্জ জেলার মধ্যে প্রবাহিত ২১৭ কিলোমিটার বাঙ্গালী, করতোয়া, ফুলজোড় ও হুরাসাগর নদী খনন করা হবে। একই সঙ্গে তীর সংরক্ষণ করে নদী ভাঙ্গন থেকে জনপদ রক্ষা করা হবে। সেই সঙ্গে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় নদীর দুই পাড়ে সৃজন করা হবে সবুজ বনায়ন।

পাউবো সূত্রে জানা গেছে, ‘বাঙ্গালী-করতোয়া-ফুলজোড়-হুরাসাগর নদী সিস্টেম ড্রেজিং/পুনঃখননসহ তীর সংরক্ষণ’ শিরোনামে পাউবোর গৃহীত প্রকল্পটি গত বছর ৭ নভেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির বৈঠকে (একনেক) অনুমোদন পায়। এতে ২ হাজার ৩৩৫ কোটি টাকার বরাদ্দ দেওয়া হয়। ৪ বছর মেয়াদী প্রকল্প বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।শিগগিরই টেন্ডার আহ্বান করে ঠিকাদার নিয়োগ করা হবে।’

এদিকে প্রকল্পটি একনেক অনুমোদন পাওয়ায় খননের মাধ্যমে নদী ফিরে পাবে প্রাণ। বইবে স্রোতধারা, কৃষি-সেচ, মৎস্য সম্পদ উন্নয়ন, নৌ যোগাযোগ সচল এবং নদী তার আগের রূপ ফিরে পাবে। সরকারের এমন উদ্যোগে নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষের মাঝে বয়ে যাচ্ছে আনন্দের বন্যা।

পাউবো সূত্রে জানা গেছে, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কাটাখালি ও এলাই নদীর মিলনস্থল থেকে বাঙ্গালী নদীর উৎপত্তি। এরপর এই নদী উত্তর থেকে দক্ষিণে বগুড়ার সোনাতলা, সারিয়াকান্দি ও ধুনট উপজেলার মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হয়ে শেরপুর উপজেলার খনিপুরে করতোয়া নদীর সাথে মিলিত হয়েছে। এখানে নদীটির নাম হয়েছে করতোয়া। এরপর করতোয়া সিরাজগঞ্জের নলকায় ফুলজোড় নাম ধারণ করে শাহজাতপুর উপজেলার বাঘাবাড়ির দক্ষিণে হুরাসাগরে পড়ে। এরপর হুরাসাগর নাম ধারণ করে যমুনা নদীতে মিলে। উৎপত্তিস্থলে নদীটির গড় প্রশস্ততা ৯০ মিটার আর ভাটির প্রান্তে ২শ’ মিটার। প্রকল্পের নকশা অনুযায়ী নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে ৩ থেকে ৫ মিটার পর্যন্ত গভীর করে খনন করা হবে।

আরো পড়ুন: ২০ বছর পর ব্রিটিশ ধনকুবের জানলেন তিন সন্তান তার নয়

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কালের প্রভাবে নদীগুলোর তলদেশ ভরাট হয়ে পানি প্রবাহ ও ধারণ ক্ষমতা কমে যায়। পলি জমে ভরাট হওয়ায় অনেক যায়গায় নদীর বুকে ফসল চাষ হচ্ছে। ফলে বর্ষাকালে সহজেই দুকূল ছাপিয়ে বন্যা সৃষ্টি হয়ে ফসল ও জানমালের ক্ষতি হয়। ত্বরান্বিত হয় নদী ভাঙ্গন। ক্ষতিগ্রস্ত হয় কৃষি অর্থনীতি। পরিবেশ-প্রতিবেশ ও জীব-বৈচিত্র্যেরও ক্ষতি হয় ব্যাপক। এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে উল্লেখিত সমস্যা দূর হবে। নদী ফিরে পাবে তার হারানো গতিপথ। কৃষি-সেচ ও মৎস্য সম্পদের উন্নয়ন হবে। সচল হবে নৌ পথ। নদী কেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধি পাবে। রক্ষা পাবে জীব বৈচিত্র্য ও আবহমান বাংলার সংস্কৃতি।

এ ব্যাপারে পাউবো বগুড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী হাসান মাহমুদ জানান, ‘প্রকল্পের সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। আশা করা যায় দুই, তিন মাসের মধ্যেই টেন্ডারে ঠিকাদার নিয়োগ করে প্রকল্প কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।’

তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সৈয়দ হাসান ইমাম জানান, ‘সরকারের শতভাগ অর্থায়নে পাউবোর গৃহীত কোন বৃহৎ প্রকল্প এটাই প্রথম। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে নানামুখী সুফল পাওয়া যাবে।’

বগুড়া-১ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মান্নান বলেন, ‘গত কয়েক বছরে বাঙ্গালী নদীর ভাঙ্গনে সারিয়াকান্দি ও সোনাতলা উপজেলার কয়েক’শ পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে। বাঙ্গালীর ভাঙ্গনে জনপদের যে ক্ষতি হয়, তা উচ্চ পর্যায়ে জানা ছিল না। জনবান্ধব সরকারের দূরদৃষ্টির কারণে প্রকল্পটি গৃহীত হয় এবং একনেক অনুমোদন লাভ করে।’

ইত্তেফাক/বিএএফ

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন