ঢাকা মঙ্গলবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ৭ ফাল্গুন ১৪২৫
২৪ °সে

মির্জাপুরে পুলিশের এএসআইসহ ৪ ডাকাতকে গণধোলাই

মির্জাপুরে পুলিশের এএসআইসহ ৪ ডাকাতকে গণধোলাই
আটককৃত এএসআইসহ চার ডাকাত। ছবি: সংগৃহীত

প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতির অভিযোগে পুলিশের এক এএসআইসহ চার ডাকাতকে আটক করেছে গ্রামবাসী। তাদের আটকের পর গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। আটককৃতরা হলেন, মির্জাপুর থানার এএসআই মো. সোহেল কুদ্দুছ (৪৩), তার সহযোগী মির্জাপুর উপজেলার কোর্ট বহুরিয়া গ্রামের ইয়াকুব মিয়ার ছেলে আনোয়ার হোসেন (২৮), মীর দেওহাটা গ্রামের তমিজ উদ্দিনের ছেলে ফিরোজ মিয়া (২৬), রংপুর জেলার শহিদুর রহমান (২৫) ও সাইফুল ইসলাম (৩০)। অপর দুই সহযোগী পালিয়ে যায় বলে স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন

শনিবার (১৯ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার ৯ নং বহুরিয়া ইউনিয়নের গেরামারা গ্রামের সিংগাপুর প্রবাসী মো. আলমাছ আলী (৪৫) এর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার পর পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

জানা গেছে, গেরামারা গ্রামের মো. সাদেক আলীর ছেলে মো. আলমাছ আলী সিঙ্গাপুর থেকে সম্প্রতি বাড়ি এসেছেন। পুলিশ জানায় তারা গোপন সংবাদে জানতে পারেন গেরামারা গ্রামের মাদক সম্রাট রফিকের বাড়িতে মাদক ক্রয়-বিক্রয় হচ্ছে। এমন খবরের ভিত্তিতে শনিবার রাতে মির্জাপুর থানার এএসআই মো. সোহেল কুদ্দুছ সিভিল পোষাক পরে সহযোগীসহ ওই গ্রামে হানা দেয়। কিন্ত এএসআই সোহেলের সঙ্গে থানার অন্য কোন পুলিশ সদস্য ছিলেন না। এএসআই সোহেলের নের্তৃত্বে ৬-৭ জন বহিরাগত ও তার সহযোগী রফিকের বাড়িতে না গিয়ে ভুলক্রমে পাশের বাড়ি প্রবাসী আলমাছের বাড়িতে ঢুকে দরজা খুলতে বলেন। কিন্ত বাড়ির লোকজন ভয়ে দরজা না খুলে চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে ডাকাত সন্দেহে এএসআই সোহেলসহ চার জনকে ধরে গণধোলাই দিয়ে মির্জাপুর থানায় খবর দেয়। এ সময় তাদের কয়েকজন সহযোগী পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন।

গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন, তাদের আটকের পর পরিচয় ও আইডি কার্ড দেখানোর জন্য অনুরোধ করা হলেও তারা তা দেখাতে পারেননি। পরে তাদের সন্দেহ হলে পুলিশকে খবর দেন। এলাকাবাসীর মধ্যে ভুক্তভোগি প্রবাসী আলমাছ আলী, মেরাজ ও সুমনসহ অনেকেই অভিযোগ করেছেন, মাদকের অভিযানে থানা পুলিশ, ডিবি পুলিশ ও র‌্যাবের থাকার কথা থাকলেও রাতের আধারে সিভিলে বহিরাগত লোকজন নিয়ে নিরপরাধ মানুষের বাড়িতে মাদক অভিযান সন্দেহ জনক। তারা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য জোর দাবী জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন: সিরিয়ায় হামলা সহ্য করা হবে না: রাশিয়া

এ ব্যাপারে মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ এ কে এম মিজানুল হক মিজান ও সহকারী পুলিশ সুপার(মির্জাপুর সার্কেল) মো. আফসার উদ্দিন খান বলেন, 'এএসআই সোহেল কুদ্দুছ গেরামারা গ্রামে মাদক সম্রাট রফিকের বাড়িতে অভিযানে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্ত ভুলক্রমে প্রবাসী আলমাছ আলীর বাড়িতে অভিযানে যান। ফলে এই ঘটনা ঘটেছে। ঘটনা মিমাংসার চেষ্টা চলছে'।

ইত্তেফাক/জেডএইচডি

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন