নাব্যতা সংকটে তিতাস এখন আবাদি জমি

আপডেট : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৫:৪০

অদ্বৈত মল্ল বর্মণের কালজয়ী সেই উপন্যাস ও বিখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক ঋত্বিক ঘটকের চলচ্চিত্রের বর্ণনার তিতাস এখন শুধুই স্মৃতি। কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া খরস্রোতা তিতাস নদী এবং এর শাখা নদী গুলো এখন মুরাদনগরবাসীর জন্য কষ্টের।  ইতিমধ্যে অধিকাংশ এলাকায় ভরাট হয়ে অস্তিত্ব হারাতে বসেছে নদীটি। পানি শুকিয়ে যাওয়ায় নদীটি রূপ নিয়েছে আবাদি জমিতে। সেচের অভাবে হুমকিতে পড়েছে উপজেলার কয়েক হাজার হেক্টর জমির ইরি-বোরো আবাদ।

চলছে নামে-বেনামে দখল করে নদীর বুক জুড়ে ধানের চাষ। নাব্যতা সংকটে নৌ যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে অনেক আগেই। দখল-দূষণ ও প্রতিবছর পলি জমে ক্রমে ভরাট হয়ে তিতাস এখন মৃতপ্রায়।
 
সরেজমিনে জানা যায়, মুরাদনগর উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত তিতাস নদীর কোনো কোনো স্থানে পলিমাটি জমে চর জেগেছে। আবার কোথাও রয়েছে হাঁটু পানি। নদীর উপরের ভাগে ধানের বীজতলা ও নদীর তলায় ধান রোপণ করার দৃশ্য দেখা গেছে। বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ও জলজ প্রাণী। এলাকার জনগণের দাবি জরুরি ভিত্তিতে এই নদীটি খনন করা হোক।

আরো পড়ুন: ডাকসু নির্বাচন গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি: ওবায়দুল কাদের

রামচন্দ্রপুর গ্রামের কৃষক ছলিম উদ্দিন জানান, সেচসহ গৃহস্থালির কাজের পানির সংকটে পড়েছেন নদী পাড়ে মানুষেরা। এছাড়া পানি না থাকায় মাছ ধরার সুযোগ নেই জেলেদের। 

উপজেলা কৃষি অফিসার আল মামুন রাসেল জানান, প্রতি বছর ৩১ হাজার ২৪০ হেক্টর জমি চাষ করেন কৃষক। এর মধ্যে সেচ ব্যবস্থার অভাবে উপজেলার সদর, রামচন্দ্রপুর উত্তর ও শ্রীকাইল ইউনিয়নে প্রায় আড়াই হাজার হেক্টর জমি অনাবাদী থাকে। অথচ এক সময় তিতাস নদীর পানি ওই এলাকার কৃষকদের প্রয়োজনীয়তা মেটাতো।’

ইত্তেফাক/অনি