১৫ দিন ধরে কুড়িগ্রামের সোনাহাট স্থলবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ

প্রকাশ : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৪:৪৭ | অনলাইন সংস্করণ

  ভুরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা

ফাইল ছবি

ভারতীয় অংশে অভারলোডিংয়ে বাধা দেয়ায় ১৫ দিন ধরে বন্ধ রয়েছে কুড়িগ্রামের সোনাহাট স্থলবন্দরের কার্যক্রম। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ব্যবসায়ী ও বন্দরে নিযুক্ত শ্রমিকরা।

 

জানা গেছে, ভারতীয় অংশে ব্যবসায়ীরা সরকারী ঘোষণার চেয়ে অতিরিক্ত পাথর ও কয়লা ট্রাকে লোড দিয়ে তা বাংলাদেশে পাঠানোর কারণে সেদেশের কয়েকটি ব্রিজ ও রাস্তার ক্ষতি সাধন হওয়ায় ভারতীয় গণপূর্ত বিভাগ অভারলোডিংয়ে আপত্তি জানায়। এতে করে ভারতীয় সড়কে অভারলোডিং ট্রাক চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

 

এর ফলে গত ২৮ জানুয়ারি থেকে বন্ধ রয়েছে ভারত থেকে কয়লা ও পাথর আমদানী।

এ অবস্থায় ব্যবসায়ীরা এলসি করার পরও ভারত থেকে পন্য না আসায় ব্যবসায়ীকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। বেকার হয়ে পড়েছে বন্দরে কাজ করা প্রায় ২ হাজার শ্রমিক।

 

সোনাহাট স্থল বন্দর হ্যান্ডেলিং শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো: হামিদুল ইসলাম জানান, বন্দরটি চালু হওয়ার  পর এই অঞ্চলের প্রায় ২ হাজার অভাবী মানুষজন বন্দরে লোড-আনলোডের কাজসহ অন্যান্য কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। এ অবস্থায় প্রায়শই পন্য না আসায় বন্দরের কার্যক্রম বন্ধ থাকছে। এতে করে শ্রমিকরা এখন পেশা পরিবর্তনের কথা ভাবছে।

 

সোনাহাট স্থল বন্দর আমদানী-রপ্তানী কারক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক জানান, এই বন্দরটি চালু করার পর অনেক আশা নিয়ে আমরা ব্যবসা শুরু করি এবং দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যবসায়ীরা এখানে আসা শুরু করে। কিন্তু ভারতীয় প্রশাসনের সঠিক নজরদারীর অভাবে এলসি করেও কয়লা ও পাথরের জন্য অপেক্ষা করতে হয় দীর্ঘ সময়।

 

এ ব্যাপারে সোনাহাট স্থল বন্দর কর্তৃপক্ষের ওয়্যার হাউজ ইনচার্জ রবিউল আলম এই বন্দরে প্রায় সময় পণ্য আমদানী বন্ধ থাকার কথা স্বীকার করে বলেন, এই বন্দরটি সচল থাকলে প্রতিদিন ১৪শ থেকে ১৫শ মেট্রিক টন পাথর ও কয়লা ভারত থেকে আমদানী হয়। এতে সরকারের বিপুল পরিমান রাজস্ব আদায় হয়। কিন্তু প্রায় সময় আমদানী বন্ধ থাকায় ব্যবসায়ীদের ক্ষতির পাশাপাশি সরকারও রাজস্ব হারাচ্ছে।

 

সোনাহাট স্থল বন্দরের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মাসুদ হাসান জানান, ভারতের অভ্যন্তরীণ জটিলতার কারণে স্থল বন্দরের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। তিনি বলেন, এ ব্যাপারে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা সমঝোতার চেষ্টা চালাচ্ছে।

 

ইত্তেফাক/এএম