বিশ্ব সংবাদ | The Daily Ittefaq

রাশিয়া হিলারি ও মার্কিন গণতন্ত্রের ক্ষতি করতে চেয়েছিল : এফবিআই

রাশিয়া হিলারি ও মার্কিন গণতন্ত্রের ক্ষতি করতে চেয়েছিল : এফবিআই
ইত্তেফাক ডেস্ক২১ মার্চ, ২০১৭ ইং ০৮:৪৭ মিঃ
রাশিয়া হিলারি ও মার্কিন গণতন্ত্রের ক্ষতি করতে চেয়েছিল : এফবিআই
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল তদন্ত সংস্থা এফবিআই প্রথমবারের মতো বলেছে, রাশিয়া গত বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করেছিল। সংস্থাটি এ নিয়ে তদন্ত করছে। এফবিআই পরিচালক জেমস কেমি বলেছেন, রাশিয়া মার্কিন গণতন্ত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে এবং হিলারির ক্ষতি করতে ও ট্রাম্পকে সহায়তা করতে চেয়েছিল। তিনি বলেছেন, রাশিয়া যখন নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করেছিল তখন নির্বাচনে বিজয়ী ডোনাল্ড ট্রাম্পের লোকজনের সাথে রুশ সরকারের কোনো ব্যক্তির যোগাযোগ ছিল কি না এবং ট্রাম্প শিবির ও রুশ সরকারের কোনো অফিসের সঙ্গে সমন্বয় ছিল কিনা, সেটা তদন্তের আওতায় থাকবে। এফবিআই পরিচালক আরো বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ফোনে আড়িপাতার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এদিকে এফবিআই জানানোর পরও হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি শ্য স্পাইসার সাংবাদিক সম্মেলনে ফোনে আড়িপাতার বিষয়টি নাকচ করেননি। রুশ সংযোগের বিষয়ে স্পাইসার বলেন, তদন্ত করা এবং তদন্তে প্রমাণ পাওয়া দুটি ভিন্ন বিষয়। তিনি মূলত তথ্য ফাঁস হওয়ার বিষয়টিতে গুরুত্ব দেন। খবর সিএনএন ও বিবিসি’র।
 
সোমবার কেমি আমেরিকান পার্লামেন্ট কংগ্রেসের হাউস ইন্টেলিজেন্স কমিটির শুনানিতে বক্তব্য রাখেন। এই শুনানি জনগণের জন্য উন্মুক্ত ছিল। কংগ্রেসের এই কমিটিও ট্রাম্প শিবির এবং রাশিয়ার সঙ্গে সম্ভাব্য যোগাযোগের বিষয়টি তদন্ত করছে। কেমি বলেন, এখানে কোনো অপরাধ সংঘটিত হয়েছিল কিনা, সেটাও যাচাই করা হবে। তিনি বলেন, কে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হবেন তা নিয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য ছিল। তবে তার আগ্রহের তালিকায় ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন ছিলেন না। কেমি বলেন, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এ বিষয়ে একমত হয়েছে যে, নির্বাচনে প্রচারণায় সময় হিলারির বিরুদ্ধে ট্রাম্পকে সহায়তার লক্ষ্য ছিল রাশিয়ার। তারা আমাদের গণতন্ত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে চেয়েছিল, তারা চেয়েছিল হিলারির ক্ষতি করতে, তারা চেয়েছিল ট্রাম্পকে সহায়তা করতে। আমার মনে হয়, গত ডিসেম্বরে আমরা এই তিনটি বিষয়েই একমত হতে পেরেছি।
 
দুই সপ্তাহের বেশি আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কয়েকটি টুইটার বার্তায় অভিযোগ করেছিলেন, নির্বাচনে প্রচারণার সময় তার ফোনে আড়িপাততে গোয়েন্দা সংস্থাকে নির্দেশ দিয়েছিলেন তত্কালীন প্রেসিডেন্ট ওবামা। এ বিষয়ে কেমি বলেন, আমরা এমন কোনো তথ্য পাইনি যা ওইসব টুইটকে সমর্থন করে। মার্কিন বিচারমন্ত্রণালয় এবং এফবিআই মিলে এই অভিযোগের তদন্ত করেছে। কোনো প্রেসিডেন্টই বিশেষভাবে কোনো মার্কিনীর ফোনে আড়িপাতার নির্দেশ দেননি। কমিটির চেয়ারম্যান রিপাবলিকান ডেভিন নিউনস বলেন, এই শুনানিতে নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ এবং তার সঙ্গে প্রচারণা কমিটির কেউ জড়িত ছিলেন কিনা তা জানা যাবে। তিনিও বলেন, ট্রাম্প টাওয়ারে আড়িপাতার কোনো প্রমাণ নেই। তবে তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রচারণা কমিটির ওপর অন্য ধরনের কোনো নজরদারি করা হতে পারে।
 
রিপাবলিকানরা শুনানিতে এও জানার চেষ্টা করেন যে, রাশিয়ার নির্বাচনে হস্তক্ষেপ এবং ফোনে আড়িপাতার অভিযোগ সংক্রান্ত স্পর্শকাতর ইস্যু কে ফাঁস করেছে তা জানার। রাশিয়া নির্বাচনে কেন হস্তক্ষেপ করতে যাবে এবং ট্রাম্পকে কেন সহায়তা করবে এমন এক প্রশ্নের জবাবে কেমি বলেন, আমি এই বিষয়টি নিশ্চিত নই। তবে পুতিন হিলারিকে অপছন্দ করতেন। কমিটিতে রিপাবলিকান সদস্যরা কেমিকে প্রশ্ন করেন, পদত্যাগ করা সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইকেল ফ্লিনের রুশ রাষ্ট্রদূত সের্গেই কিসলিয়াকের সঙ্গে যোগাযোগের তথ্য সংবাদ মাধ্যমে কিভাবে আসলো এবং তার নামটি কিভাবে প্রকাশ পেল? এর জবাবে কেমি সরাসরি কোনো উত্তর না দিয়ে বলেন, স্পর্শকাতর তথ্য ফাঁস হয়ে যাওয়াটা ভয়ঙ্কর।
 
সাউথ ক্যারোলিনার রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান ট্রে গাউডি প্রশ্ন করেন, ওবামা প্রশাসনের সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা সুসান রাইস এবং সাবেক গোয়েন্দা প্রধান জেমস ক্ল্যাপার কোনো তথ্য পেতেন কিনা এবং তারা ফাঁস করেছে কিনা। জবাবে কেমি বলেন, তারা পদাধিকার বলে এসব তথ্য পেয়ে থাকতে পারেন। তবে ফাঁস করেছেন কিনা সেই বিষয়টি তার জানা নেই। গাউডি এসব স্পর্শকাতর তথ্য ফাঁসকেও মারাত্মক অপরাধ বলে গন্য করেন। এই সময় ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান অ্যাডাম স্কিফ বলেন, কোনো মার্কিনী রাশিয়াকে সহযোগিতা করেনি। তবে ট্রাম্প এবং তার প্রচারণার কমিটির অনেকের সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্ক রয়েছে। তাই এই ধরনের তথ্য ফাঁস অপরাধ হতে পারে না। স্কিফ বলেন, কোনো মার্কিনী যদি রাশিয়াকে সহযোগিতা করেন তাহলে সেটা হবে আমাদের গণতন্ত্রের সঙ্গে বেইমানি করার ঐতিহাসিক ঘটনা। তিনি ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণা কমিটির চেয়ারম্যান পল ম্যানাফোর্টের প্রসঙ্গও টেনে আনেন। ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থাও তার বিরুদ্ধে রুশ সংযোগের প্রমাণ পেয়েছিল। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শ্যন স্পাইসার বলেন, ম্যানাফোর্ট নির্বাচনী প্রচারণায় খুব বেশি দায়িত্ব পালন করেননি। রাশিয়া বরাবরই আমেরিকার নির্বাচন প্রভাবিত করার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। গতকাল গোয়েন্দা সংস্থা এনএসএ’র পরিচালকেরও শুনানিতে বক্তব্য দেওয়ার কথা ছিল। এছাড়া সুপ্রিম কোর্টে এক বিচারকের মনোনয়ন নিয়েও শুনানি হওয়ার কথা ছিল। গতকাল রাত একটা পর্যন্ত এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত শুনানি চলছিল।
 
ইত্তেফাক/রাফাত
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২৮ জুলাই, ২০১৭ ইং
ফজর৪:০২
যোহর১২:০৫
আসর৪:৪৩
মাগরিব৬:৪৭
এশা৮:০৭
সূর্যোদয় - ৫:২৬সূর্যাস্ত - ০৬:৪২