বিশ্ব সংবাদ | The Daily Ittefaq

দু’বছরের জমানো টাকায় মেয়ের নতুন জামা কিনে কাঁদলেন ভিক্ষুক বাবা

দু’বছরের জমানো টাকায় মেয়ের নতুন জামা কিনে কাঁদলেন ভিক্ষুক বাবা
অনলাইন ডেস্ক০৮ এপ্রিল, ২০১৭ ইং ১৪:০৪ মিঃ
দু’বছরের জমানো টাকায় মেয়ের নতুন জামা কিনে কাঁদলেন ভিক্ষুক বাবা
ছবি: জিএমবি আকাশ
 
বাবারা সব সময় বাবাই হন, হোক না তিনি সবচেয়ে শীর্ষ ধনী কিংবা ফুটপাতের ভিক্ষুক, বাবার ভালবাসায় থাকে না কোন বৈষম্য। শুধু সন্তানের জন্য নিবেদন করেন শত-শুদ্ধ ভালবাসা, নিজের জীবন বিলিয়ে দেয়ার আকণ্ঠ হৃদয়। এমন এক বাবার খবর পাওয়া গেল। যে কিনা পেশায় ভিক্ষুক হয়েও সন্তানের জামা কিনতে দুই বছর ধরে টাকা জমিয়েছেন। 
 
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছবিসহ স্ট্যাটাস আকারে শেয়ার করেন ডকুমেন্টারি ফটোগ্রাফার, মাল্টিমিডিয়া জার্নালিস্ট জিএমবি আকাশ। আর তা শেয়ারের পরেই ভাইরাল হয়ে পড়ে অনলাইনে। তবে ঘটনাটি কোথাকার সে বিষয়টি স্পষ্ট করেননি আকাশ।
 
ঐ ব্যক্তির নাম মুহাম্মদ কাওসার হোসেন, ফুটপাতে বসে ভিক্ষা করেন। মেয়ের জন্য জামা কিনতে গিয়েছিলেন শহরের এক দোকানে। দাম হিসেবে তিনি ৬০টি পাঁচ টাকার নোট তুলে দেন দোকানির হাতে। জামার দাম হিসেবে এতোগুলো খুচরা টাকা দেখে দোকানদার কাওসারকে জিজ্ঞাসা করেন, আপনি কি ভিক্ষুক?
 
দোকানদারের প্রশ্ন শুনে কেঁদে ফেলে কাওসারের ৬ বছরের মেয়ে সুমাইয়া। বাবার হাত ধরে টেনে সে বলতে থাকে, ‘আমার কিচ্ছু চাই না। বাবা, তুমি চলো এখান থেকে।’ মেয়ের চোখের পানি মুছে দোকানদারকে শান্ত স্বরে কাওসার জবাব দেন, ‘হ্যাঁ, আমি ভিক্ষুক।’ এরপর মেয়ের পছন্দের হলুদ ফ্রক নিয়ে বেরিয়ে পড়েন দোকান থেকে।
 
দুই বছর পর সুমাইয়ার জন্য কেনা একমাত্র নতুন জামা এটা। বাবার মনে তখন আনন্দ। দুই হাতে যে মেয়েকে জড়িয়ে ধরবেন, খোদা তাকে তো সেই সাধ্য দেননি। একটা হাত যে নেই কাওসারের! বাম হাত বাড়িয়ে শহরের বড় রাস্তার ক্রসিং-এ দাঁড়িয়ে ভিক্ষা করেন তিনি। আগে অবশ্য এই পেশায় তিনি ছিলেন না।
 
কাওসার জানান, ‘বছর দশেক আগের সেই ঘটনা মনে পড়লে আজও আতঙ্কে শিউরে উঠি। দুর্ঘটনায় আমার ডান হাতটা কাটা যায়। আমি কখনও স্বপ্নেও ভাবিনি এই ভাবে ভিক্ষা করে বেঁচে থাকতে হবে।’
 
মেয়ে সুমাইয়া তাঁকে খাইয়ে দেয়। তাঁকে কখনও একলা ছাড়ে না। মেয়ে তাকে বলে, ‘এক হাতে সব কাজ করা কতটা কঠিন তা আমি জানি।’ কাওসার যখন ভিক্ষা করেন, মেয়ে তখন তার পাশে বসে থাকে। 
 
কাওসার বলেন, ‘মেয়ের সামনে এ ভাবে লোকের কাছে হাত পাততে আমার খুব লজ্জা করে! তবু, কী করব!’
 
সারা দিন ভিক্ষা করে দুইজন মানুষের খোরাক জোগাড়ের সঙ্গে সঙ্গে মেয়ের ভবিষ্যৎ গড়তে তৎপর কাওসার। অবৈতনিক স্কুলে পড়াশোনা করে ছোট্ট সুমাইয়া। মেয়ের প্রয়োজনীয় বই, খাতাপত্রও সুযোগ মতো কিনে দেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। সুমাইয়ার নতুন জামা কিনে সেদিন আর রাস্তার মোড়ে দাঁড়াননি কাওসার। দিনটা যে তার চরম আনন্দের দিন। 
 
ইত্তেফাক/আনিসুর
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২৫ জুন, ২০১৭ ইং
ফজর৩:৪৫
যোহর১২:০১
আসর৪:৪১
মাগরিব৬:৫২
এশা৮:১৭
সূর্যোদয় - ৫:১২সূর্যাস্ত - ০৬:৪৭