বিশ্ব সংবাদ | The Daily Ittefaq

জিন্নাহর মেয়ের বিরল সাক্ষাৎকার

জিন্নাহর মেয়ের বিরল সাক্ষাৎকার
ইত্তেফাক ডেস্ক০৫ নভেম্বর, ২০১৭ ইং ০৯:৪৭ মিঃ
জিন্নাহর মেয়ের বিরল সাক্ষাৎকার
 
পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর একমাত্র কন্যা দিনা ওয়াদিয়া ৯৮ বছর বয়সে গত ২ নভেম্বর তার নিউইয়র্কের বাড়িতে মারা গেছেন। লন্ডনে জন্ম হলেও জীবনের বেশিরভাগ সময় কাটিয়েছেন ভারতের মুম্বাই ও যুক্তরাষ্ট্রে। দিনা পাকিস্তানে গিয়েছেন মাত্র চার বার। অমুসলিম এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে তার বিয়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পিতার সঙ্গে তার সম্পর্কে চিড় ধরেছিল।
 
ভারতে বিবিসির সাবেক সংবাদদাতা এন্ড্রু হোয়াইটহেড বহু চেষ্টায় একবার দিনা ওয়াদিয়ার সাক্ষাত্কার নিতে পেরেছিলেন। দিনা ওয়াদিয়ার মৃত্যুর পর গোপনীয়তার বন্ধন থেকে মুক্ত হয়ে ২০০২ সালে নেওয়া তার সেই সাক্ষাত্কারটি প্রকাশ করেছেন এন্ড্রু।
 
দিনা প্রবলভাবে প্রচার বিমুখ ছিলেন, মানুষের মনোযোগ এড়িয়ে চলতেন। কিন্তু পাঁচ বছর ধরে অনেক চেষ্টার পর ২০০২ সালে আমি নিউইয়র্কে ম্যাডিসন এভিনিউতে তার অ্যাপার্টমেন্টে গিয়ে সাক্ষাতের সুযোগ পাই। দিনা ওয়াদিয়া জানালেন আমি  তার সঙ্গে দেখা করতে যেতে পারি।
 
এন্ড্রু’র ভাষায়, দিনা ওয়াদিয়া আমাকে জানিয়ে ছিলেন কোনো সাক্ষাত্কার রেকর্ড করা যাবে না, কোন কথা-বার্তাই ‘অন-দ্য-রেকর্ড নয়। ছবি তোলাও নিষেধ। যদিও আমার অনুরোধে যাওয়ার আগে শেষ পর্যন্ত তিনি তার একটি লাইফ সাইজ পোট্রেটের ছবি আমাকে তুলতে দিয়েছিলেন। তার এই ছবিটি ১৯৪৩ সালে লন্ডনে আঁকা, যখন তিনি সন্তান-সম্ভবা, ছেলে ব্যবসায়ী নুসলি ওয়াদিয়া তখন তার পেটে। দিনা ওয়াদিয়া ছিলেন মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর একমাত্র সন্তান। কিন্তু পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতার সঙ্গে তার কন্যার সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল যখন দিনা ওয়াদিয়া তার বাবার মতোই এক অমুসলিমকে বিয়ে করেন। তিনি এমন একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে থাকেন, যেখানে আপনি অনাহূতভাবে লবি পর্যন্তও যেতে পারবেন না, অ্যাপার্টমেন্টে যাওয়া তো আরো দূরের ব্যাপার।
 
এন্ড্রুর কথায়, যখন তিনি দরজা খুলেছিলেন, তখন আমি বেশ অবাক হয়েছিলাম। একজন ছোটখাটো গড়নের কিন্তু খুবই উচ্ছল বৃদ্ধা নারী। ঠোঁটে উজ্জ্বল লাল লিপস্টিক। মুখের গড়ন, নাক, মুখের অভিব্যক্তি, সব মিলিয়ে বাবার সঙ্গে তার চেহারার আশ্চর্য মিল। তিনি আসলেই বাবার মেয়ে।
 
দিনা ওয়াদিয়া বেশ প্রাণবন্ত এবং বন্ধুবত্সল। তিনি আমাকে তার সুন্দরী মায়ের একটি ছবি দেখালেন। রতনবাঈ, একজন পার্সি। যখন দিনার বয়স মাত্র ৯, তখন তার মা মারা যান। দিনা বড় হয়েছেন নানীর কাছে। তার টেবিলে বাবা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর একটি ছবি ছিল। বাবা জিন্নাহর কথা বললেন বেশ গর্বভরে। এটা সত্যি, দিনা যখন একজন পার্সি, নেভিল ওয়াদিয়াকে বিয়ে করেন, এটা নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়েছিল। নেভিল ওয়াদিয়া পরে খ্রিষ্টান ধর্মে দীক্ষা নেন। কিন্তু পরে অবশ্য আবার বাবা-মেয়েতে মিলমিশ হয়েছে। তারা পরস্পরকে চিঠি লিখতেন, কথা বলতেন।
 
দিনা জানান, তিনি ব্যক্তিত্ব এবং চরিত্রে বাবার দিকটাই বেশি পেয়েছেন মায়ের দিকের চেয়ে। দিনা কখনো পাকিস্তানে গিয়ে থাকেননি। তিনি আমাকে বললেন, বোম্বে হচ্ছে আমার শহর। যদিও জীবনের একটা বড় অংশ তিনি কাটিয়েছেন লন্ডন এবং নিউইয়র্কে। ১৯৪৮ সালে তিনি পাকিস্তানে গিয়েছিলেন পিতার মৃত্যুর পর। আরো দুই বার পাকিস্তানে গেছেন ফুপু ফাতিমাকে দেখতে। বেনজির ভুট্টো এবং অন্য অনেকে বহুবার তাকে পাকিস্তানে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন বলে জানান তিনি। তিনি অভিযোগ করেন, পাকিস্তানকে লুণ্ঠন করেছে দেশটির নেতারা এবং কোনো মুসলিম দেশেই গণতন্ত্র সফল হয়নি বলে সতর্ক করেন। বিবিসি
 
ইত্তেফাক/আনিসুর
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৩২
যোহর১১:৫১
আসর৪:১২
মাগরিব৫:৫৬
এশা৭:০৯
সূর্যোদয় - ৫:৪৭সূর্যাস্ত - ০৫:৫১