বিশ্ব সংবাদ | The Daily Ittefaq

১৭ প্রিন্স, ৪ মন্ত্রী ও অনেক সাবেক মন্ত্রী গ্রেপ্তার

১৭ প্রিন্স, ৪ মন্ত্রী ও অনেক সাবেক মন্ত্রী গ্রেপ্তার
সৌদিতে দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে তোলপাড় *গ্রেপ্তারের তালিকায় ধনকুবের তালাল *যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ক্ষমতা বৃদ্ধি *শেয়ারবাজারে লেনদেনে ধস
ইত্তেফাক ডেস্ক০৫ নভেম্বর, ২০১৭ ইং ২৩:৩৯ মিঃ
১৭ প্রিন্স, ৪ মন্ত্রী ও অনেক সাবেক মন্ত্রী গ্রেপ্তার

সৌদি আরবে দুর্নীতি বিরোধী অভিযানে ১৭ জন প্রিন্স, চারজন বর্তমান মন্ত্রী এবং প্রায় ডজন খানেক সাবেক মন্ত্রী গ্রেপ্তার হবার পর দেশটিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। জানা যাচ্ছে, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে সৌদি ধনকুবের প্রিন্স আল ওয়ালিদ বিন তালাল রয়েছেন। দেশটির দুইজন সিনিয়র কর্মকর্তা এবং রয়্যাল কোর্টের এক সিনিয়র কর্মকর্তা গতকাল রবিবার এই তথ্য জানিয়েছেন। শনিবার আটক করা হয়। তবে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এমনকি প্রিন্সের সঙ্গে কোনো যোগাযোগও করা যায়নি। এই অভিযানের পর দেশটির শেয়ারবাজারে ধস নেমেছে। খবর বিবিসি, রয়টার্স ও সিএনএনের

ধনকুবেরের গ্রেপ্তারের খবরে ইতোমধ্যেই তার মালিকানাধীন বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান কিংডম হোল্ডিংসের শেয়ারের মূল্য দশ শতাংশ পড়ে গেছে। সৌদি স্টক এক্সচেঞ্জে দিনের শুরুতে ব্যবসায়িক লেনদেনে ধস নেমেছে। সৌদি স্টক এক্সচেঞ্জ আরব বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বড়। সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থার একটি সূত্রকে উদ্ধৃত করে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, অভিযানের ভয়ে ব্যক্তিগত বিমান নিয়ে পালানোর সময় জেদ্দায় কয়েকটি জেটের উড্ডয়ন আটকে দিয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী। ধারণা করা হচ্ছে, ওই জেটগুলোতে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা পালিয়ে যাচ্ছিলেন। এই ধরপাকড়ের প্রতি সৌদি আরবের ধর্মীয় নেতারা সমর্থন জানিয়েছেন। দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতাদের কাউন্সিল এক টুইট বার্তায় বলেছে, দুর্নীতি দমন অভিযান সৌদি আরবের সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের মতই গুরুত্বপূর্ণ।

আটক হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন, সাবেক অর্থমন্ত্রী ইব্রাহিম বিন আসাফ যিনি তেল কোম্পানি আরামকোর বোর্ড সদস্য, বর্তমান অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আদেল ফাকিয়েহ, রিয়াদের সাবেক গভর্ণর প্রিন্স তুর্কি বিন আব্দুল্লাহ এবং সাবেক বাদশাহ আব্দুল্লাহের আমলে রয়্যাল কোর্টের প্রধান খালিদ আল তুয়াইজিরি। এছাড়া বিনলাদেন কনস্ট্রাকশন গ্রুপের চেয়ারম্যান বকর বিন লাদেন, এমবিসি টেলিভিশন নেটওয়ার্কের মালিক আওয়ালিদ আল ইব্রাহিম, প্রিন্স তুর্কি বিন নাসের ও অ্যাডমিরাল আব্দুল্লাহ বিন সুলতানও আটক হয়েছেন। কয়েকজনকে রিটজ কার্লটন হোটেল থেকে আটক করা হয়। ন্যাশনাল গার্ডমন্ত্রী প্রিন্স মিতেব বিন আব্দুল্লাহকেও আটক করা হয়। ন্যাশনাল গার্ডমন্ত্রী পদে প্রিন্স খালেদ বিন আয়াফ, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী হিসেবে মাজইয়াদ আল তুয়াইজিরি এবং ভাইস অ্যাডমিরাল ফাহাদ বিন আব্দুল্লাহকে নৌবাহিনীর কমান্ডারের পদ দেওয়া হয়েছে।

আটককৃতদের মধ্যে প্রিন্স আল ওয়ালিদ বিন তালাল হচ্ছেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন। তিনি ধনকুবের হওয়ায় অনেক সময় রাজপরিবারকেও তোয়াক্কা করতেন না। তালালের শেয়ার রয়েছে সিটিগ্রুপ, টুইটার, অ্যাপল এবং রুপার্ট মারডকের নিউজ করপোরেশনের মতো বড় কোম্পানিগুলোতে। তাছাড়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গেও তার দ্বন্দ্ব আছে। ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে এক টুইটার বার্তায় ট্রাম্পের প্রার্থিতা নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করেছিলেন। ট্রাম্পও কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন। গত বছরের নভেম্বরেও তার সঙ্গে ট্রাম্পের দ্বন্দ্ব দেখা দেয়।

যুবরাজ এবং ভবিষ্যত ৃবাদশাহ সালমানের নতুন পদক্ষেপে টালমাটাল সৌদি আরব। নিজের নেতৃত্বে দুর্নীতি দমন কমিটি গড়ে নির্দেশিকা জারি করেন ঘনিষ্ঠ মহলে এমবিএস নামে পরিচিত ৩২ বছরের যুবরাজ সালমান। এর কয়েক ঘন্টার মধ্যেই সংশ্লিষ্টদের গ্রেপ্তার করা হয়। বিশ্লেষকেরা বলছেন, দুর্নীতি বিরোধী এই ধরপাকড় এবং চারজন মন্ত্রীকে সরিয়ে দেবার পর সৌদি আরবের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর যুবরাজ সালমানের একক কর্তৃত্ব সুসংহত হলো। দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এসপিএ জানিয়েছে, যুবরাজের নেতৃত্বে গঠিত দুর্নীতি দমন কমিটিকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার পাশাপাশি ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারিরও ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। বলা হচ্ছে, এই কমিটির লক্ষ্য জনগণের জানমালের সুরক্ষা দেওয়া এবং দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের শাস্তি দেওয়া।

দুই সপ্তাহ আগে প্রিন্স সালমান কয়েক হাজার আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ীকে নিয়ে রিয়াদে একটি বিনিয়োগ সম্মেলন করেন। সেখানে যুবরাজ সালমান বলেন, সৌদি আরবের আধুনিকায়নের ক্ষেত্রে তার পরিকল্পনার মূলমন্ত্র হবে ইসলামের কট্টর অবস্থান থেকে উদারনীতিতে ফিরে আসা। তেলের বাইরে সৌদি অর্থনীতির জন্য ভিন্ন এক ধরণের অর্থনৈতিক নিরাপত্তার খোঁজে এই সম্মেলন করা হয়। কিন্তু ‘হাই প্রোফাইল’ লোকজনকে আটকের খবরে আর্থিক ব্যবস্থায় ধস নামতে পারে বলে আশংকা করছেন বিশ্লেষকরা। চলতি বছর জুনে সিংহাসনের উত্তরাধিকারী হওয়ার পর থেকেই নানা ধরনের সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নিচ্ছেন তিনি। রাজনৈতিক সমালোচকদের মতে, এমবিএসের কড়া পররাষ্ট্রনীতি, কাতারকে একঘরে করা, সরকারি সম্পত্তির বেসরকারিকরণ এবং ভর্তুকি ছাঁটাইয়ের মতো সংস্কারের বিরোধিতার ফলেই এই গ্রেপ্তার।

ইত্তেফাক/নূহু

এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৩২
যোহর১১:৫১
আসর৪:১২
মাগরিব৫:৫৬
এশা৭:০৯
সূর্যোদয় - ৫:৪৭সূর্যাস্ত - ০৫:৫১