বিশ্ব সংবাদ | The Daily Ittefaq

নেতা হবে ছেলে, তাই নাম ঠিক করতে ভোটের আয়োজন

নেতা হবে ছেলে, তাই নাম ঠিক করতে ভোটের আয়োজন
অনলাইন ডেস্ক২০ জুন, ২০১৮ ইং ১৪:৪৬ মিঃ
নেতা হবে ছেলে, তাই নাম ঠিক করতে ভোটের আয়োজন
এই শিশুটির নাম কী রাখা হবে সেটা ঠিক করতেই নির্বাচন।
সন্তানের নাম রাখা নিয়ে সব পিতা-মাতাই একটু চিন্তায় থাকেন। সাধারণত নাম আগ থেকে ঠিক করা থাকে। নয়তো পরিবারের গুরুজনেরা যা বলেন তা-ই রেখে দেওয়া হয়। কিন্তু মহারাষ্ট্রের গোন্ডিয়া জেলার বাসিন্দা মিঠুন আর মানসী বাং সম্পূর্ণ ভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বব করেছেন। ছেলের নাম ঠিক করার জন্য একটি সম্পূর্ণ ভোটের আয়োজন করেছেন এই দম্পতি। কেননা, তাদের ছেলে বড় হয়ে নেতা হবে বলে ঠিকুজিতে দেখা গেছে। খবর বিবিসি বাংলার।
 
খবরে বলা হয়, এক মেয়ের পাঁচ বছর পরে পুত্র সন্তান হয় বাং দম্পতির, ৫ এপ্রিল। ছেলের বাবা মিঠুন বাং কাপড়ের ব্যবসায়ী। তিনি বলেন, ছেলে হওয়ার পরে আমার শ্বশুরবাড়ি থেকে তার জন্মকুন্ডলি তৈরি করা হয়। শ্বশুর-মশাই ঠিকুজি দেখে বলেছেন যে ছেলে একদিন নেতা হবে বা সামাজিক কাজকর্মের সঙ্গে যুক্ত হবে।
 
বাং জানান, কিন্তু ছেলের নাম কী রাখা হবে, তা নিয়ে কোন সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারছিলেন না তারা। তার বড়ভাই আর তার স্ত্রী বলেছিলেন ‘ইয়ক্স’ নামটা রাখা যেতে পারে। দিদি আর বোনদের ছেলেমেয়েরা বলেছিল ‘ইয়ুভান’ নামটা ভাল। আর দিদি-বোনেরা নাম দিতে চেয়েছিল ইয়োভিক।
 
ভোট গ্রহণ চলছে।
 
এই তিনটি নামের মধ্যে কোন নামটি বেছে নেবেন, তা নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারছিলেন না কেউই। বাংয়ের মাথায় তখনই ভোটের আইডিয়া আসে। সামাজিক কাজকর্মে জড়িত থাকার সুবাদে আর আত্মীয় পরিজনদের মধ্যে একজন প্রাক্তন সংসদ সদস্য থাকার ফলে কীভাবে ভোটের আয়োজন করতে হয় সেটা তার কিছুটা জানাই ছিল।
 
বাং বলেন, ব্যালট পেপার ছাপা হল। ব্যালট বাক্স তৈরি হল। নির্বাচন কমিশনের আদলে ‘শিশুর নাম নির্বাচন কমিশন’ বানানো হল। আমাদের এক আত্মীয় আর একজন শিক্ষক এই কমিশনের সদস্য হলেন।
 
১৫ জুন ছিল ভোটের দিন। ভোট দেওয়ার জন্য ঘেরা জায়গার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। তিনটি নামের প্রস্তাব যারা দিয়েছিলেন, তাদের নামে ছিল হোর্ডিং। সবই ছিল একেবারে নির্বাচনের মতো।
 
নির্বাচনী প্রচারণা চালানো হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে বাং হেসে জানান, তা-ও হয়েছে। তিনি নিজেই কয়েকটা হোর্ডিং লাগিয়েছিলেন। আর যারা যে নাম পছন্দ করেছিল, তারা হোয়াটস্অ্যাপে নিজেদের ‘ডিসপ্লে পিকচারটা’ প্রচারের জন্য পাল্টে দিয়েছিল। যেমন আমার বড়ভাই আর বৌদি লিখেছিলেন ‘ভোট ফর ইয়ক্স’। দিদি আর বোনেদের ছেলেমেয়েরা দিয়েছিল ‘ভোট ফর ইয়ুভান’। আর আমরা যেহেতু নামের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে পারছিলাম না, তাই আমি আর আমার স্ত্রী ডি পি বানিয়েছিলাম চিন্তিত মুখের একটা ছবি।
 
অবশেষে ভোট গণনা।
 
ভোটের আগের দিন সব অতিথি অভ্যাগতদের অনুরোধ করা হয়েছিল ভোট দেওয়ার জন্য - যেমন করে থাকে নির্বাচন কমিশন। অতিথিদের মধ্যে এলাকার প্রাক্তন সংসদ সদস্যও ছিলেন। তার অন্য জায়গায় যাওয়ার তাড়া ছিল। তাই ঘণ্টা দেড়েক পরে ভোট নেওয়া বন্ধ করতে হয়। ৭০০ জনের মধ্যে ততক্ষণে প্রায় ২০০ জন ভোট দিয়ে দিয়েছেন।
 
ভোট গণনা শেষে নাটকীয়ভাবে নির্বাচিত নামটি জানিয়েছেন নানা পাটোলে, যিনি বিজেপির সাবেক সংসদ সদস্য। ভোটে জয়ী হয় বাংয়ের দিদি আর বোনের ছেলেমেয়েদের প্রস্তাবিত নামটি- ইয়ুভান।বিবিসি বাংলা।
 
ইত্তেফাক/ জেআর
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২০ জুলাই, ২০১৮ ইং
ফজর৩:৫৭
যোহর১২:০৫
আসর৪:৪৪
মাগরিব৬:৫০
এশা৮:১২
সূর্যোদয় - ৫:২২সূর্যাস্ত - ০৬:৪৫