বিশ্ব সংবাদ | The Daily Ittefaq

বৈশ্বিক উষ্ণতা যত বাড়বে পতঙ্গে তত ফসল খাবে!

বৈশ্বিক উষ্ণতা যত বাড়বে পতঙ্গে তত ফসল খাবে!
অনলাইন ডেস্ক০৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং ০৯:৩২ মিঃ
বৈশ্বিক উষ্ণতা যত বাড়বে পতঙ্গে তত ফসল খাবে!
 
জলবায়ুর পরিবর্তন বিশেষ করে উষ্ণতা বৃদ্ধির সাথে সাথে বিশ্বের গ্রীষ্ম মণ্ডলীয় দেশগুলির ফসলহানির অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়াবে কীট পতঙ্গ। মার্কিন একটি গবেষণা এমন ইঙ্গিত দিয়েছে। বৈশ্বিক তাপমাত্রার প্রতি ডিগ্রী বৃদ্ধির সাথে সাথে অন্তত ১০ থেকে ২৫ শতাংশ বেশি গম, চাল এবং ভুট্টা ধ্বংস করবে কীট। বিজ্ঞানীদের দাবি, ক্রমবর্ধমান উষ্ণতা এসব ক্ষতিকর কীটকে আরও শক্তিশালী করে তুলবে। এদের খাবার গ্রহণের পরিমাণও যাবে বেড়ে। সেই সাথে ব্যাপকহারে ঘটবে এদের বংশবৃদ্ধি। আর তার প্রভাব পড়বে বিশ্বের প্রধান প্রধান খাদ্যশস্যের উপর। গবেষণাপত্রটির সহ-লেখক কার্টিস ডয়েচ এমন মন্তব্য করেছেন। যদি বর্তমান হারে সামগ্রিক তাপমাত্রার বৃদ্ধি অব্যাহত থাকে তবে এই শতাব্দীর শেষে ফসলভুক কীটের খাবার গ্রহণের মাত্রা দ্বিগুণ হবে। ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটনের গবেষকরা এই তথ্য জানান।
 
প্রফেসর ডয়েচ, যশুয়া টিউকসবারি এবং তাদের সহকর্মীরা পুরো বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে একটি গবেষণা পরিচালনা করেন। তাতে পুরো বিশ্বের মানুষের প্রধান তিনটি খাদ্যশস্যকে তারা বেছে নেন। তারা দেখতে পান, তাপমাত্রা বাড়ার সাথে সাথে ফসলের ক্ষতি বেশি করছে কীটপতঙ্গ। গবেষক দলটি ৩৮ প্রজাতির ক্ষতিকর পোকার তথ্য তাদের গাণিতিক মডেলের মাধ্যমে বিশ্লেষণ করে দেখেছেন। তারা দেখতে চেয়েছেন কিভাবে তাপমাত্রা এসব কীটের বৃদ্ধিতে প্রভাব ফেলে সেই সাথে খাদ্য শস্যের ওপর তার প্রভাব পড়ে।
 
বিশ্বের অন্যতম বেশি ফসল উৎপাদনকারী অঞ্চল যেমন যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স এবং চীন এই পরিস্থিতির মুখে সবচে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। যখন ভুট্টা, ধান এবং গম ক্ষতিগ্রস্ত হবে তখন আসলেই সেটি হবে একটি বিপর্যয়। কেননা শরীরের প্রয়োজনীয় ক্যালরির ৪২ ভাগ আমরা পাই এসব শস্য থেকে। বিশ্বের জলবায়ু মডেল বলছে যে ২১০০ সাল নাগাদ বিশ্বের গড় তাপমাত্রা ২-৫ ডিগ্রী বৃদ্ধি পাবে। আর সেক্ষেত্রে এই শতাব্দীর মাঝামাঝি নাগাদই অন্তত ২ ডিগ্রী তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেতে পারে। পোকামাকড় দ্বারা ফসলের ক্ষতির যে আশঙ্কা করা হচ্ছে তা সে সময়ের মধ্যেই ঘটতে শুরু করবে।
 
সম্ভাব্য সমাধান হিসেবে গবেষকরা বলেছেন, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে ফসলের অভিযোজনে জোর দিতে হবে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, উষ্ণ জলবায়ু কীটপতঙ্গকে আরও বেশি কীটনাশক প্রতিরোধী করে তুলতে পারে। তাই কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণে অনেক বেশী জৈবিক পদ্ধতি ব্যবহারে জোর দিতে হবে। লেডিবার্ড জাতীয় পোকা ব্যবহার করে ক্ষতিকর পোকা নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে। সমাধান হতে পারে ফসল বপনের সময়ে পরিবর্তন এনে কিংবা কীট-প্রতিরোধী ফসলের জাত চাষ করে। যাহোক সব পক্ষকে এখনই সচেতন হতে হবে বলে তারা মন্তব্য করেছেন।-বিবিসি।
 
ইত্তেফাক/মোস্তাফিজ
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৩৩
যোহর১১:৫১
আসর৪:১২
মাগরিব৫:৫৫
এশা৭:০৮
সূর্যোদয় - ৫:৪৮সূর্যাস্ত - ০৫:৫০