বিশ্ব সংবাদ | The Daily Ittefaq

বড় দুঃসময়ে ট্রাম্প

বড় দুঃসময়ে ট্রাম্প
শিফারুল শেখ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং ০৮:৫৪ মিঃ
বড় দুঃসময়ে ট্রাম্প
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত বৃহস্পতিবার সমাবেশে নিজেকে সাবেক প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকনের সঙ্গে তুলনা করেন। তিনি সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, আপনারা জানেন যে, আব্রাহাম লিংকন যখন গেটিসবার্গ বক্তৃতা দিয়েছিলেন তখন অনেকেই তাকে বিদ্রুপ করেছিলেন। তার মৃত্যুর ৫০ বছর পর এখন মানুষ লিংকনের বক্তৃতাকে মহত্ বলে উল্লেখ করছেন। আমার মনে হয় আমাদের ক্ষেত্রেও তাই ঘটতে যাচ্ছে। তবে ভিন্নভাবে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এসব কথা বললেও তার সময়টা খুব ভাল যাচ্ছে না। একের পর এক বিতর্ক তাকে ঘিরে ধরেছে। তার কাছের মানুষগুলোও যেন দূরে যাচ্ছে। সাংবাদিক বব উডওয়ার্ডের বই এবং হোয়াইট হাউসের এক বেনামি লেখকের প্রভাবশালী পত্রিকা নিউ ইয়র্ক টাইমসে নিবন্ধ ট্রাম্পকে ভয়ংকর বিপদের মুখে ফেলে দিয়েছে। এসব ঘটনা ট্রাম্পকে দুশ্চিন্তার মধ্যে ফেলে দিয়েছে। তিনি এখন বারবার তার ইমপিচমেন্ট নিয়ে কথা বলছেন।
 
শুক্রবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিউ ইয়র্ক টাইমসে নিবন্ধ লেখকের বিষয়টি জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে তদন্ত করতে অ্যাটর্নি জেনারেল জেফ সেশনসের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। কারো কী মনে হয় যে অ্যাটর্নি জেনারেল তার এই বক্তব্য শোনেননি? অবশ্যই শুনেছেন, তবে হয়তো তিনি একটা তিক্ত হাসি দিয়েছেন। উডওয়ার্ডের বইটি পড়লে সেই ধারণাই পাওয়া যায়। আর যৌন কেলেঙ্কারি তো ট্রাম্পের পিছু ছাড়ছে না।
 
ভয় বব উডওয়ার্ডের বইয়ে: বব উডওয়ার্ড ওয়াশিংটন পোস্টের সাংবাদিক। ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারি উন্মোচনের মাধ্যমে সাবেক প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনকে ক্ষমতা থেকে নামিয়ে দিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছিলেন সাংবাদিক বব উডওয়ার্ড। আর এবার তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হোয়াইট হাউসে রীতিমতো ঝড় তুলেছেন। নতুন একটি বইয়ে তিনি লিখেছেন, দেশকে নিরাপদ রাখতে ট্রাম্পের ডেস্ক থেকে বেশ কিছু নথি চুরি করেছেন তারই সহযোগীরা। এসব নথি ছিল বাণিজ্য চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেওয়ার বেশ কিছু দলিল। এমনকি ট্রাম্পের বিচার বিবেচনার জন্য বর্তমান ও সাবেক কয়েকজন সহযোগী তাকে ‘ইডিয়ট’ ও ‘মিথ্যাবাদী’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। গত মঙ্গলবার বইয়ের তথ্য প্রকাশ পায়। বইয়ের নাম ‘ফিয়ার : ট্রাম্প ইন দ্য হোয়াইট হাউস’। বইয়ে আছে ট্রাম্প অ্যাটর্নি জেনারেল জেফ সেশনসকে ‘মানসিক বিকারগ্রস্ত’ এবং ‘দক্ষিণাঞ্চলের নির্বোধ’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। চিফ অব স্টাফ জন কেলিকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, তিনি ট্রাম্পের মানসিক বিকার নিয়ে দ্বিধাগ্রস্ত। এক পর্যায়ে তিনি ট্রাম্পকে ‘ইডিয়ট’ বলে আখ্যায়িত করেন। অভিযোগ অস্বীকার করেন কেলি। বইয়ে বলা হয়েছে, রাশিয়া তদন্ত নিয়ে ট্রাম্পের সাবেক আইনজীবী জন দোউদ আশঙ্কা করেছিলেন প্রেসিডেন্ট এই তদন্ত থেকে এড়াতে পারবেন কিনা। জন দোউদ জানুয়ারিতে পদত্যাগ করেন। বইয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী জিম ম্যাটিসকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, তিনি একবার ট্রাম্পকে ব্যাখ্যা করছিলেন উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি মনিটরিং নিয়ে কোরিয়া উপদ্বীপ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা মোতায়েনের বিষয়ে। ম্যাটিস এক পর্যায়ে বলেন, আমরা তো তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ প্রতিরোধের জন্য এটা করছি। বইটিতে বলা হয়, ওই সাক্ষাত্ নিয়ে ম্যাটিস তার ঘনিষ্ঠজনদের বলেছেন, তার কথা শুনে বোঝার ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট ৫ম অথবা ৬ষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীর মতো আচরণ করছিলেন। তবে ম্যাটিসও এই তথ্য অস্বীকার করেন। ২০১৭ সালে ট্রাম্প ম্যাটিসকে বলেছিলেন সিরিয়ায় হামলা চালিয়ে প্রেসিডেন্ট আসাদকে হত্যা করতে। ম্যাটিস ট্রাম্পকে আশ্বস্ত করেন। তবে এমন কোনো আলোচনা হয়নি বলে জানান এক সিনিয়র সহযোগী।
 
বেনামি লেখায় আতঙ্ক: নিউ ইয়র্ক টাইমসের উপ-সম্পাদকীয় পাতায় প্রকাশিত মার্কিন প্রশাসনের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার একটি নিবন্ধে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে একজন ‘অস্থিরমতি’ ব্যক্তি হিসেবে বর্ণনা করে বলা হয়েছে, তাকে হোয়াইট হাউস থেকে সরাতে কেবিনেট সদস্যদের মধ্যেই একটি ‘নীরব প্রতিরোধ’ চলছে। নিবন্ধে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের ‘অনৈতিক’ ও ‘আবেগতাড়িত’ আচরণের কারণে অপরিণামদর্শী নানা সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে মার্কিন প্রশাসনকে। তাই হোয়াইট হাউসে গড়ে উঠেছে প্রসিডেন্ট ট্রাম্পবিরোধী গোষ্ঠী। তারা প্রতিনিয়ত প্রেসিডেন্ট যাতে জাতির খুব বেশি ক্ষতি করতে না পারেন, সেই বিষয়ে অর্ধ-উন্মুক্ত প্রচার আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। যতদিন না তিনি বিদায় নিচ্ছেন বা ইমপিচড হচ্ছেন ততদিন এমনটা চালিয়ে যাবেন তারা। গত বুধবার প্রকাশিত ‘আই অ্যাম পার্ট অব দ্য রেসিসট্যান্স ইনসাইড দ্য ট্রাম্প অ্যাডমিনিস্ট্রেশন’ নিবন্ধটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। আধুনিক আমেরিকার ইতিহাসে এমন ঘটনা বিরল। এটা ট্রাম্পের সমালোচনার এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
 
শরণার্থীদের চেয়ে ট্রাম্পকে বেশি ভয় জার্মানদের: সম্প্রতি এক জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ জার্মান জানিয়েছেন, বিশ্বের উপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নীতির বিপজ্জনক প্রভাব নিয়ে তারা খুবই উদ্বিগ্ন। এরপর তারা উদ্বিগ্ন শরণার্থীদের নিয়ে। চলতি বছরের জরিপে প্রায় ২৪শ জার্মান অংশ নেন। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৬৯ ভাগ ট্রাম্পের নীতি নিয়ে তাদের ভয়ের কথা জানিয়েছেন।
 
ইত্তেফাক/এএম
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৩৪
যোহর১১:৫১
আসর৪:১১
মাগরিব৫:৫৪
এশা৭:০৭
সূর্যোদয় - ৫:৪৮সূর্যাস্ত - ০৫:৪৯