বিশ্ব সংবাদ | The Daily Ittefaq

আফগানিস্তানে যুদ্ধাপরাধের তদন্ত নিয়ে আইসিসি’কে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার হুমকি

আফগানিস্তানে যুদ্ধাপরাধের তদন্ত নিয়ে আইসিসি’কে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার হুমকি
অনলাইন ডেস্ক১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং ১৫:০০ মিঃ
আফগানিস্তানে যুদ্ধাপরাধের তদন্ত নিয়ে আইসিসি’কে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার হুমকি
জন বল্টন সোমবার আইসিসি’কে ‘অবৈধ’ বলে বর্ণনা করেছেন
আফগানিস্তানে যুদ্ধাপরাধের দায়ে আমেরিকানদের বিচার শুরু করলে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারির হুমকি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। হুমকির জবাবে আইসিসি জানিয়েছে, তারা অবারিতভাবে তাদের কাজ চালিয়ে যাবে। প্রসঙ্গত, আফগানিস্তানে বন্দীদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগে সেখানে কাজ করা মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাদের বিচার করার কথা চিন্তা করছে আইসিসি।
 
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বল্টন স্থানীয় সময় সোমবার ওয়াশিংটনের একটি রক্ষণশীল গ্রুপের বৈঠকে দেওয়া এক বক্তব্যে আইসিসি’কে ‘অবৈধ’ বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি প্রতিজ্ঞা করেছেন যে, আমেরিকান নাগরিকদের রক্ষা করতে সবকিছু করা হবে। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র আইসিসি’তে যোগ না দেওয়া কয়েক ডজন রাষ্ট্রের মধ্যে একটি।
 
আইসিসি কি?
২০০২ সালে রোম সংবিধি কর্তৃক আইসিসি প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত যুক্তরাজ্যসহ ১২৩টি দেশ আদালতটিকে অনুমোদন দিয়েছে। আদালতটি গণহত্যা, মানবতা-বিরোধী অপরাধ, যুদ্ধাপরাধের তদন্ত ও বিচার করে থাকে। আইসিসি কেবল তখনই তদন্ত ও বিচার করে থাকে যখন জাতীয় কর্তৃপক্ষ  এসব অপরাধের জন্য দায়ীদের বিচার করতে ব্যর্থ হয় বা করে না।  
 
জন বল্টনের আপত্তি
বল্টন বেশ আগ থেকেই আইসিসি’র কট্টর সমালোচক হিসেবে পরিচিত। কিন্তু সোমবার তার ভাষণে তিনি মূলত দু’টি ইস্যুর দিকে নজর দিয়েছেন। 
 
প্রথমটি হচ্ছে, গত বছর আইসিসি’র আইনজীবী ফাতৌ বেনসৌদা আফগানিস্তানে ঘটা যুদ্ধাপরাধ নিয়ে একটি পূর্ণ তদন্তের অনুরোধ করেন। এই যুদ্ধাপরাধ মার্কিন সামরিক বাহিনী বা গোয়েন্দা কর্মকর্তা  যেকেউ করে থাকতে পারে। এই বিষয়ে বল্টনের ঘোর আপত্তি রয়েছে। ২০১৬ সালে নেদারল্যান্ডসের হেগ ভিত্তিক আইসিসি জানায়, মার্কিন সামরিক বাহিনী এবং সিআইএ আফগানিস্তানে আটক বন্দিদের নির্যাতনের মাধ্যমে যুদ্ধাপরাধ করতে পারে।
 
বল্টন জানান, আফগানিস্তান বা আইসিসি’র সংবিধিতে স্বাক্ষরকারী কোন দেশ এই তদন্তের অনুরোধ করেনি। 
 
তবে, আইসিসি’র আইনজীবীদের স্বাধীনভাবে এধরণের কাজ করার সক্ষমতা রয়েছে। তবে, যেকোন অভিযোগ নিয়ে  কাজ করার আগে তা অবশ্যই বিচারকদের একটি প্যানেল থেকে অনুমোদিত হতে হবে।
হুমকির জবাবে আইসিসি তাদের কাজ অবারিতভাবে তাদের কাজ চালিয়ে যাবে
দ্বিতীয় যে বিষয় নিয়ে বল্টন বক্তব্যে কথা বলেছেন সেটি হচ্ছে, সম্প্রতি আইসিসি’তে ইসরাইলের বিরুদ্ধে গাজায় ও পশ্চিম তীরে মানবতা-বিরোধী অপরাধের অভিযোগ এনেছে ফিলিস্তিন। তবে ইসরাইল এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে ও বলেছে, এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। 
 
বল্টন বলেন, ফিলিস্তিনিদের এই পদক্ষেপের কারণে মার্কিন প্রশাসন ওয়াশিংটনে ফিলিস্তিনের কূটনৈতিক মিশন বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। 
 
আইসিসি’র বিরুদ্ধে তার দীর্ঘ বক্তৃতায় বল্টন আরও বলেন, আদালতটি ‘আমেরিকান সার্বভৌমত্ব ও মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তার জন্য একটি হুমকি। আদালতটিতে ভারসাম্যতার অভাব রয়েছে। বল্টন দাবি করেন, আদালতের করা বিচারগুলো নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। এর অপরাধের সংজ্ঞা অস্পষ্ট ও তারা নৃশংসতামূলক অপরাধের বিচার করতে ব্যর্থ হয়েছে। 
 
বল্টন বলেন, আমরা আইসিসি’কে সহযোগিতা করবো না। আমরা আইসিসি’কে কোন প্রকার সহায়তা প্রদান করবো না। আমরা আইসিসি’তে যোগ দেবো না। আমরা আইসিসি’কে একা একাই মরতে দেবো। কেননা সব মিলিয়ে, আইসিসির সকল উদ্দেশ্য ও ইচ্ছা আমাদের কাছে মৃত।
 
হুমকির জবাবে আইসিসি কি বলেছে?
হুমকির জবাবে আইসিসি জানিয়েছে, তারা অবারিতভাবে তাদের কাজ চালিয়ে যাবে।
 
এক বিবৃতিতে আইসিসি জানিয়েছে, আদালতটি ১২৩ দেশ সমর্থিত একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান।
 
বিবৃতিতে বলা হয়, একটি আইনের আদালত হিসেবে আইসিসি, আইনের শাসনের ধারণা ও নীতি মেনে, অবারিতভাবে তাদের কাজ চালিয়ে যাবে। -বিবিসি ও রয়টার্স
 
ইত্তেফাক/ জেআর
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৩০
যোহর১১:৫৩
আসর৪:১৭
মাগরিব৬:০২
এশা৭:১৫
সূর্যোদয় - ৫:৪৬সূর্যাস্ত - ০৫:৫৭