বিশ্ব সংবাদ | The Daily Ittefaq

পরিবেশ রক্ষায় ভূমিকা রাখবে খাদ্যাভাস

পরিবেশ রক্ষায় ভূমিকা রাখবে খাদ্যাভাস
ইত্তেফাক ডেস্ক১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং ০২:৪১ মিঃ
পরিবেশ রক্ষায় ভূমিকা রাখবে খাদ্যাভাস
পরিবেশের রক্ষার জন্য বেশির ভাগ দেশের পক্ষ থেকে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। পরিবেশ বিপর্যয় প্রতিরোধে জনসংখ্যা বিস্ফোরণ, বন নিধন ও মরুকরণ, রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার, পানিদূষণ, মাটিদূষণ, বায়ুদূষণ এবং গ্রিনহাউজ প্রতিক্রিয়ার মতো বিষয়গুলোকে বিশেষ গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হয়। তবে সম্প্রতি একদল গবেষক জানিয়েছেন, পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভাস। তাদের মতে,  স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গঠন করতে পারলে তা পানি বাঁচাতে কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে।
 
ঐ গবেষণায় উঠে এসেছে, শরীরের গঠন অনুপাতে নিয়মিত স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে উঠলে তা পরিবেশ সংরক্ষণে বিপ্লব ঘটাতে পারে। তাদের দাবি, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের কারণে একজন মানুষের ‘ওয়াটার ফুটপ্রিন্ট’ সর্বোচ্চ শতকরা ৫৫ ভাগ কমিয়ে আনা সম্ভব। ইতালি, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যের মানুষের খাদ্যাভ্যাসের ওপর গবেষণা করে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন গবেষকরা।
 
যুক্তরাজ্যে মানুষের খাদ্য গ্রহণের (দেশে উত্পাদিত ও রপ্তানিকৃত) বিপরীতে ‘ওয়াটার ফুটপ্রিন্টের’ পরিমাণ জনপ্রতি দিনে ২,৭৫৭ লিটার। জার্মানিতে এই পরিমাণ জনপ্রতি দিনে ২,৯২৯ লিটার এবং ফ্রান্সে গড়ে ৩,৮৬১ লিটার। মাংস ও সব ধরনের খাদ্য উপাদানসহ নিয়মিত স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের ফলে খাবার উত্পাদনে পানির ব্যবহার ১১-৩৫ ভাগ পর্যন্ত কমানো যেতে পারে। অন্যদিকে, খাদ্য তালিকায় মাংস বাদ দিয়ে মাছ ও তেলবীজ জাতীয় খাদ্যকে প্রাধান্য দিয়ে খাদ্য তালিকা তৈরি করলে পানি ব্যবহারের মাত্রা ৩৩-৩৫ ভাগ পর্যন্ত কমানো যেতে পারে। আর স্বাস্থ্যকর নিরামিষাশী আহারের ফলে পানি ব্যবহারের হার ৩৫-৫৫ ভাগ পর্যন্ত কমানো যেতে পারে।
 
একদিনে একজন মানুষের মোট ব্যবহূত পানি ও তার জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের পণ্য ও সেবা উত্পাদনে যে পরিমাণ পানি ব্যবহূত হয় তার যোগফলকে ঐ ব্যক্তির ‘ওয়াটার ফুটপ্রিন্ট’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। শুধু খাদ্যাভাসে পরিবর্তনের মাধ্যমেই মানুষের ‘ওয়াটার ফুটপ্রিন্ট’ কমিয়ে আনা সম্ভব। গবেষকরদের মতে, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস মানুষকে সুস্থ রাখার পাশাপাশি খাদ্য উত্পাদনে ব্যবহূত পানির পরিমাণ কমানোর পেছনেও ভূমিকা রাখতে সক্ষম। আর যদি সব মানুষ নিয়ম অনুযায়ী স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলে তাহলে তা পানির ওপর বাড়তি চাপ কমিয়ে পক্ষান্তরে পরিবেশের ওপর চাপ কমাতে ভূমিকা রাখবে।
 
ইউরোপিয়ান কমিশনের জয়েন্ট রিসার্চ সেন্টারের গবেষক ডেভি ভ্যানহাম বলেন, মূল বার্তাটি হচ্ছে, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসে অভ্যস্ত হলে শুধু যে আপনি সুস্থ থাকবেন তাই নয়, তখন আপনার প্রয়োজনীয় খাদ্য উত্পাদনে গড়ে আগের চেয়ে কম পানি প্রয়োজন হবে। তাতে আপনার ‘ওয়াটার ফুটপ্রিন্ট’ কমে যাবে।-বিবিসি
 
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৩২
যোহর১১:৫১
আসর৪:১২
মাগরিব৫:৫৬
এশা৭:০৯
সূর্যোদয় - ৫:৪৭সূর্যাস্ত - ০৫:৫১