বিশ্ব সংবাদ | The Daily Ittefaq

ভূমিকম্প সম্পর্কে কিছু বিস্ময়কর তথ্য

ভূমিকম্প সম্পর্কে কিছু বিস্ময়কর তথ্য
ইত্তেফাক ডেস্ক১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং ০৫:০৩ মিঃ
ভূমিকম্প সম্পর্কে কিছু বিস্ময়কর তথ্য
প্রতি বছরই পৃথিবীতে ছোট-বড় বহুসংখ্যক ভূমিকম্পের ঘটনা ঘটে। অনেক সময় এই ভূমিকম্প ভয়াবহ দুর্যোগের কারণে পরিণত হয়। তবে ভূমিকম্প সম্পর্কে সঠিক তথ্য থাকলে এবং সচেতনতা ও প্রস্তুতি থাকলে অনেকাংশে-ই কমিয়ে আনা সম্ভব হয় ক্ষয়ক্ষতি। ভূমিকম্প সম্পর্কে এমন অনেক তথ্য রয়েছে যা সম্পর্কে বেশিরভাগ মানুষেরই কোন ধারণা নেই। ভূমিকম্প সম্পর্কে এমন  চমকপ্রদ তথ্যগুলো সবার জানা উচিত।
 
সারা পৃথিবীতে বছরে কয়েক লাখ ভূমিকম্প হয়
 
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা জিওলজিক্যাল সার্ভের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর কয়েক লাখ ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এর মধ্যে গড়ে ১৭টি বড় ধরনের ভূমিকম্প রিখটার স্কেলে সাত মাত্রার বেশি। আট মাত্রার ভূমিকম্প হয় বছরে গড়ে একবার। মৃদু ভূমিকম্পগুলো অনেক সময়ই বুঝতে পারে না সাধারণ মানুষ। কারণ এসব ভূমিকম্প মৃদু এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে হওয়ায় তা মানুষকে খুব একটা প্রভাবিত করে না। ভূমিকম্পের কারণে দিনের দৈর্ঘ্য পরিবর্তন
 
জাপানের উত্তর-পূর্বে ২০০৯ সালের ১১ মার্চ একটি বড় ধরনের ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল যার মাত্রা ছিলো ৮ দশমিক ৯। এর ফলে পরিবর্তন ঘটে পৃথিবীর ভরের বণ্টনে এবং তার প্রভাবে সামান্য দ্রুত গতিতে পৃথিবী ঘুরতে থাকে। সে কারণেই দিনের দৈর্ঘ্য কমে গিয়েছিল। মজার বিষয় হলো, সেই দিনটি অন্য দিনে চেয়ে ১.৮ মাইক্রো সেকেন্ড ছোট ছিল।
 
ভূমিকম্পের কারণে সরে যায় শহর
 
যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকো শহর প্রত্যেক বছর গড়ে দুই ইঞ্চি করে লস অ্যাঞ্জেলসের দিকে সরে যাচ্ছে। শহরের এই অবস্থান পরিবর্তনের কারণ হচ্ছে সান অ্যানড্রেয়াস ফল্টের দুটো দিক ক্রমশ একটি অপরটিকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে। এই গতিতে চলতে থাকলে এই দুটো শহর কয়েক লাখ বছর পর একত্রিত হয়ে যাবে। দুই শহরের মধ্যের দূরত্বের তারতম্যের পেছনেও নাকি রয়েছে ভূমিকম্পের। ২০১০ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি  ৮.৮ ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিলো চিলির কনসেপসিওন শহরে। ঐ ভূমিকম্পে পৃথিবীর শক্ত উপরিভাগে ফাটল ধরে এবং শহরটি ১০ ফুট পশ্চিমে সরে যায়।
 
ভূমিকম্পের আগে স্থির পানি থেকে গন্ধ বের হয়
 
বিজ্ঞানীরা বলছেন, ভূমিকম্পের আগে পুকুর, খাল-বিল, হ্রদ, জলাশয়ের স্থির পানি থেকে দুর্গন্ধ আসতে পারে। এমনকি সেই পানি সামান্য উষ্ণও হয়ে পড়তে পারে। পৃথিবীর অভ্যন্তরের প্লেট সরে যাওয়ার কারণে মাটির নিচ থেকে যে গ্যাস নির্গত হয় তার কারণেই নাকি এটা হয়ে থাকে।
 
ভূমিকম্পের পরেও পানিতে ঢেউ উঠতে পারে
 
ভূমিকম্পের পরেও পুকুরে কিংবা সুইমিং পুলের পানিতে ঢেউ দেখা দিতে পারে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, ভূমিকম্প শেষ হয়ে যাওয়ার পরও কয়েক ঘণ্টা ধরে অভ্যন্তরীণ এই পানিতে তরঙ্গ অব্যাহত থাকতে পারে।
 
বদলে যায় বাড়িঘরের নকশা
 
ভূমিকম্পের কারণে যাতে বাড়িঘর ধসে না যায় সে বিষয়টি মাথায় রেখেই ইনকা আমলের স্থাপত্য ভবন ও জাপানি প্যাগোডা নির্মিত হয়েছিল। ৫০০ বছর আগে ইনকার স্থাপত্য কর্মীরা যখন মাচু পিচু শহর নির্মাণ করে তারা বাড়িঘর নির্মাণের সময় আদিকালের জ্ঞান কাজে লাগিয়ে ছিলেন। যাতে ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি থেকে ঘরবাড়ি রক্ষা করা যায়।
 
বেশিরভাগ ভূমিকম্পেরই উত্স প্রশান্ত মহাসাগর
 
পৃথিবীতে যতো ভূমিকম্প হয় তার অধিকাংশ, ৯০ শতাংশই হয় রিং অব ফায়ার এলাকাজুড়ে। এই এলাকাটি প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে।
 
ভূমিকম্পে খাটো হয়ে যায় এভারেস্ট
 
নেপালে ২০১৫ সালের ২৫ এপ্রিল আঘাত হানে ৭.৮ মাত্রার ভূমিকম্প। এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। আশ্চর্যজনক তথ্য, ঐ ভূমিকম্পের কারণে কমে গিয়েছিল হিমালয়ের অনেক পর্বতের উচ্চতা। মাউন্ট এভারেস্টের উচ্চতা কমে গিয়েছিল এক ইঞ্চির মতো। -বিবিসি
 
ইত্তেফাক/আরকেজি
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৩২
যোহর১১:৫২
আসর৪:১৪
মাগরিব৫:৫৮
এশা৭:১১
সূর্যোদয় - ৫:৪৭সূর্যাস্ত - ০৫:৫৩