বিশ্ব সংবাদ | The Daily Ittefaq

রোহিঙ্গা নির্যাতনের প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে আইসিসি

রোহিঙ্গা নির্যাতনের প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে আইসিসি
অনলাইন ডেস্ক১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং ১২:৪৭ মিঃ
রোহিঙ্গা নির্যাতনের প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে আইসিসি
 
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের কৌসুলিরা মিয়ানমারের মুসলিম রোহিঙ্গাদের হত্যা, যৌন নির্যাতন এবং জোরপূর্বক বিতাড়নের অভিযোগে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে। মঙ্গলবার তারা এই তদন্ত শুরু করে। মিয়ানমারের সেনাবাহিনী যে অভিযান চালিয়েছে তার বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের প্রথম পদক্ষেপ এটা।
 
আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, প্রাথমিক তদন্ত পরবর্তীতে আনুষ্ঠানিক তদন্তে রূপ নিতে পারে আইসিসির মাধ্যমে। এর নজির রয়েছে ২০০২ সালে যুদ্ধাপরাধ এবং মানবাধিকারের বিরুদ্ধে অপরাধের যে তদন্ত শুরু হয় সেটা। এই তদন্তের পরে সেটা অভিযোগ গঠন করা যেতে পারে।
 
আইসিসির কৌসুলি ফাতৌ বেনসৌদা এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি এই প্রক্রিয়ার পরবর্তী পদক্ষেপ শুরু করবো এবং পরিস্থিতির পূর্ণাঙ্গ প্রাথমিক পরীক্ষা নিরীক্ষা শুরু করবো।’
 
কীভাবে শুরু হল আইসিসির হস্তক্ষেপ
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত বা আইসিসি জানিয়েছে, রোহিঙ্গাদের মিয়ানমার থেকে জোর করে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়া এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট মানবতা-বিরোধী অপরাধের অভিযোগ তদন্ত করার কর্তৃত্ব আদালতের রয়েছে। ৭ সেপ্টেম্বরে নেদারল্যান্ডস-এর দ্য হেগ শহরে অবস্থিত আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রি-ট্রায়াল চেম্বার তাদের এ রায় দিয়েছে। তিন সদস্য বিশিষ্ট প্রি-ট্রায়াল চেম্বারের তিনজন বিচারকের মধ্যে দুইজন একমত পোষণ করলেও একজন ভিন্নমত দেখিয়েছেন।
 
চলতি বছরের এপ্রিল মাসে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রধান কৌসুলি আদালতের কাছে জানতে চেয়েছিলেন যে, রোহিঙ্গাদের যেভাবে মিয়ানমার থেকে বিতাড়ন করা হয়েছে সেটির তদন্ত করার এখতিয়ার আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের রয়েছে কিনা। সে প্রেক্ষাপটে আইসিসির প্রি-ট্রায়াল চেম্বার রায় দিয়েছে যে, মিয়ানমার আন্তর্জাতিক আদালতের সদস্য না হলেও রোহিঙ্গারা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের কারণে ঘটনার একটি অংশ বাংলাদেশে সংঘটিত হয়েছে। ফলে আইসিসি মনে করেছে রোম সনদ অনুযায়ী ঘটনার তদন্ত করার ক্ষমতা আদালতের রয়েছে।
 
এ রায়ের ফলে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রধান কৌসুলি রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের প্রাথমিক তদন্ত চালিয়ে যেতে পারবেন। তবে আদালত জানিয়েছে যে, এ ধরণের তদন্ত একটি যৌক্তিক সময়ের মধ্যে শেষ করতে হবে।
 
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের অাগস্ট মাসে মিয়ানমারে সামরিক বাহিনীর অভিযান শুরুর পর সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা ঘরবাড়ি ফেলে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছে। নতুন এবং পুরাতন মিলিয়ে ক্যাম্পে বসবাসকারী রোহিঙ্গাদের সংখ্যা এখন প্রায় ১০ লাখের বেশি। বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের অনেকেই মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে হত্যা, বাড়িঘর পুড়িয়ে দেয়া, লুটপাট, অপহরণ আর ধর্ষণের অভিযোগ করেছেন।-বিবিসি।
 
ইত্তেফাক/মোস্তাফিজ
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২৩ অক্টোবর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৪৩
যোহর১১:৪৩
আসর৩:৪৯
মাগরিব৫:২৯
এশা৬:৪২
সূর্যোদয় - ৫:৫৯সূর্যাস্ত - ০৫:২৪