বিশ্বকাপ ফুটবল | The Daily Ittefaq

ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ জার্সি: ঘণ্টাপ্রতি মাত্র ২৩ টাকা পেয়েছে বাংলাদেশি শ্রমিকরা

ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ জার্সি: ঘণ্টাপ্রতি মাত্র ২৩ টাকা পেয়েছে বাংলাদেশি শ্রমিকরা
অনলাইন ডেস্ক০৩ জুন, ২০১৮ ইং ১৭:২৩ মিঃ
ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ জার্সি: ঘণ্টাপ্রতি মাত্র ২৩ টাকা পেয়েছে বাংলাদেশি শ্রমিকরা
রাশিয়া বিশ্বকাপ দরজায় কড়া নাড়ছে। সবুজ গালিচায় বল গড়ানোর আগে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দলগুলো তাদের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এদিকে  রাশিয়া বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী কয়েকটি দেশের অফিশিয়াল জার্সি এবার তৈরি হয়েছে বাংলাদেশের পোশাক কারখানায়। যার মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় ইংল্যান্ডের জার্সি। থ্রি লায়ন্সদের সাদা রঙের জার্সি বানিয়ে দিতে ঘণ্টাপ্রতি শ্রমিকরা পেয়েছেন মাত্র ২৩.৪১ টাকা। ব্রিটিশ দৈনিক দ্যা টেলিগ্রাফের একটি প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
 
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইংল্যান্ডের জন্য বিশ্বখ্যাত ব্র্যা- নাইকির এই জার্সি তৈরি হয়েছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার পাশে সাভার ইপিজেড এলাকার বস্ত্র কারখানায়।  সেখানকার শ্রমিকদের বেশীরভাগই নারী। শ্রমিকরা প্রতি সপ্তাহে প্রায় ৬০ ঘন্টা ধরে জার্সি প্রস্তুতির কাজ করেছেন। দৈনিক মজুরি ছিল ১৯০.১৬ টাকা অথচ ইংল্যান্ডের বাজারে সেই পোশাকই ১৮ হাজারের কিছু বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। ফুটবলারদের পোশাক ছাড়াও সমর্থকদের চাহিদার কথা মাথায় রেখেও তৈরি হয়েছে পোশাক।
 
 
২০১৬ সালে ইংল্যান্ডের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএ) নাইকির সঙ্গে ৪৫২ কোটির টাকায় ১২ বছরের চুক্তি করেছে। তারপর থেকে থ্রি লায়ন্সদের ফুটবল কিট সরবরাহ করে নাইকি। আন্তর্জাতিক বাজারে নাইকির সেই সব পোশাক চড়া দামে বিক্রি হলেও শ্রমিকরা পাচ্ছেন ঘন্টা পিছু মাত্র ২৩টাকা। কেন এত কম টাকা দেওয়া হয় তাদের, সেই নিয়ে ইতিমধ্যেই বিশ্ব জড়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
 
 
দেশটির সংসদ সদস্য ও ডিজিটাল, কালচার, মিডিয়া ও স্পোর্ট কমিটিতে লেবার দলীয় সদস্য জো স্টিভেন্স পুরা ঘটনার তদন্ত দাবি করেছেন। তিনি বলেন, বিশ্বকাপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়ে নজর রাখা এফএর দায়িত্ব। এমনকি ফুটবল কিট, যা আমাদের পুর দেশকে গর্বিত করে তা নিয়েও তাদের দেখতে হবে। কেননা মানুষকে শোষন করে এসব ফুটবল সামগ্রী তৈরি হলে গর্ব করাটা অনেক কঠিন হয়ে যায়।
 
দ্যা ক্লিন ক্লোথ ক্যাম্পেইন থেকে বলা হয়, শ্রমিকদের যে মজুরি তাতে তাদের মৌলিক চাহিদা পূরণ হয় না, আর পরিবার নিয়ে সুস্থভাবে বেঁচে থাকাও কঠিন। ফুটবল সামগ্রীর জন্য ভক্তরা যথেষ্ট দাম দেন তাতে নাইকি শুধু ব্যবসা করে যায় অথচ শ্রমিকদের নূন্যতম মজুরিও দেন না। ভক্তদের উচিত নাইকির এই বৈষম্যমূলক ব্যবসায়িক নীতি পরিবর্তনে চাপ দেয়া।
 
 
বাংলাদেশের গার্মেন্টস শ্রমিকদের মাসে নূন্যতম বেতন ৫ হাজার ৩১৯ টাকা। ইংল্যান্ডের জন্য মোজা নাইকি উৎপাদন করে বুলগেরিয়ায়। তাদের ব্যাপারে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে নাইকি বলেছে, তারা ‘নৈতিক ও পরিবেশবান্ধব’ উপায়ে তাদের ব্যবসা করে আসছে।স্থানীয় শ্রমিকদের বিদ্যমান মজুরি বা নূন্যতম মজুরি পরিশোধের দায়িত্ব পোষাক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের।
 
ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন কর্মকর্তারা বলেছে, ইংল্যান্ড দলের ব্যবহৃত পণ্যগুলো যথাযথ আইন অনুসারে উৎপাদিত হওয়ার নিশ্চিতকরন চিঠি তারা পেয়েছে।
 
ইত্তেফাক/রেজা
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৩৪
যোহর১১:৫১
আসর৪:১১
মাগরিব৫:৫৪
এশা৭:০৭
সূর্যোদয় - ৫:৪৮সূর্যাস্ত - ০৫:৪৯