বিশ্বকাপ ফুটবল | The Daily Ittefaq

কেমন খেলবে আফ্রিকানরা?

কেমন খেলবে আফ্রিকানরা?
নেয়ামত উল্লাহ১৪ জুন, ২০১৮ ইং ১২:২৯ মিঃ
কেমন খেলবে আফ্রিকানরা?
সার্বিক শক্তিমত্তার বিচারে আফ্রিকান দলগুলো ইউরোপীয় কিংবা লাতিন আমেরিকান দলগুলোর চেয়ে বেশ পিছিয়েই আছে। বিশ্বকাপে আফ্রিকান দলগুলোর যাত্রা থেমে যায় প্রথম কিংবা দ্বিতীয় রাউন্ডেই; খুব বেশি ভালো খেলে ফেললে কোয়ার্টার ফাইনাল। অথচ আফ্রিকান দলগুলো একসময় এতই অসাধারণ ছিল যে ব্রাজিলীয় ফুটবল কিংবদন্তি পেলে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, ২০০০ সালের আগেই বিশ্বকাপ জিতবে আফ্রিকার কেউ। পেলের বেঁধে দেয়া সময়ের ১৮ বছর পেরিয়ে গেছে, সেমিফাইনালেই উঠতে পারেনি কোনো আফ্রিকান দল। তবে সামপ্রতিক সময়ে সাদিও মানে, কিংবা মোহামেদ সালাহদের মতো আফ্রিকান ফুটবলারের উত্থান নতুন করে ভাবাচ্ছে ফুটবলবোদ্ধাদের। তবে কি এবার ইতিহাস নতুন করে গড়বে আফ্রিকান কেউ? শিরোপাটা তুলতে পারবে? কিংবা নিদেনপক্ষে সেমিফাইনাল? তবে রাশিয়া বিশ্বকাপে কোনো আফ্রিকান দল নিয়ে আশাবাদী হতে পারছেন না সাবেক নাইজেরিয়ান উইঙ্গার পিটার ওসাজে ওদেমউইঙ্গি। তিনি মনে করেন, এবারের বিশ্বকাপে নাইজেরিয়া কিংবা অন্য কোনো আফ্রিকান দলের পক্ষে শিরোপা জেতা বেশ কঠিনই হবে। আফ্রিকা থেকে বিশ্বকাপে উত্তীর্ণ হওয়া পাঁচ দলের কোনোটিই নেই বিশ্ব র‌্যাংকিংয়ের সেরা ২০-এ। ওদেমউইঙ্গির মতে, নিকট অতীতে আফ্রিকান ফুটবল শুধু পিছিয়েছেই। বিবিসিকে সাবেক ওয়েস্ট ব্রম উইঙ্গার বলেন, ‘আমাদের খেলার সার্বিক মান নেমে গেছে অবশ্যই। ’৯৪ বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা দল ছিলো নাইজেরিয়া। দরজায় কড়া নাড়ছিলাম আমরা। আমরা ১৯৯৬ অলিম্পিকে সোনা জিতেছিলাম ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার তারকাখচিত দলগুলোকে হারিয়ে। সে সময়টায় মনে হচ্ছিলো, ‘হ্যাঁ! এটা (বিশ্বকাপ) আসছে!’
 
কিন্তু আর সব আফ্রিকান দলের মত নাইজেরিয়ার অপেক্ষাও আর শেষ হয়নি। বিশ্বকাপ চূড়ান্ত পর্বে এটা নাইজেরিয়ার ষষ্ঠ পদচারণা। ১৯৯৪ সালে প্রথমবারের মত বিশ্বকাপ আঙিনায় পা রাখার পরে শুধুমাত্র একটাই বিশ্বকাপ (২০০৬) মিস করেছিলো সুপার ঈগলরা। রাশিয়ায় গ্রুপ ডি’তে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার সামনে পড়েছে নাইজেরিয়া। বিশ্বকাপে এ নিয়ে চতুর্থবারের মত আলবিসেলেস্তেদের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে নাইজেরিয়া, যদিও হেরেছে সবকটিতেই। গ্রুপ ডি’তে তাদের বাকি ম্যাচ এবং ক্রোয়েশিয়া নবাগত আইসল্যান্ড। সামপ্রতিক সময়ে সুপার ঈগলদের শক্তির জায়গাটা হয়ে দাঁড়িয়েছে মিডফিল্ড। ক্যাপ্টেন জন ওবি মিকেলের নেতৃত্বে মিডফিল্ডে যোগ দেবেন লেস্টার সিটির উইলফ্রেড এনদিদি; অ্যাটাকিং মিডফিল্ডে থাকবেন আর্সেনালের অ্যালেক্স ইয়োবি এবং ম্যানচেষ্টার সিটির কেলেচি ইলেনাচো। এমন এক মিডফিল্ড নাইজেরিয়াকে পরের রাউন্ডে তুলে দেয়ার জন্য যথেষ্ট শক্তিশালী। তবে গ্রুপের বাস্তবতা বিচারে তা বেশ কঠিনই। যদি নাইজেরিয়া রাউন্ড অফ সিক্সটিনে উঠে যেতে পারে, তারা প্রতিপক্ষ হিসেবে পাবে সি গ্রুপের কোনো এক দলকে। সি গ্রুপের দলগুলো হচ্ছে: ফ্রান্স, পেরু, ডেনমার্ক এবং অস্ট্রেলিয়া। ঠাসবুনটের গ্রুপপর্ব যদি পেরিয়েই যায়, তবে একটু দূরের আশা করতেই পারে সুপার ঈগলরা।
 
১৯৯০ সালের পর এ প্রথম বিশ্বকাপে খেলছে আফ্রিকার আরেক দেশ মিসর। বাছাইপর্বের শেষ ম্যাচে ৯৪ মিনিটের পেনাল্টি থেকে সালাহ’র গোল বিশ্বকাপ নিশ্চিত করে ফারাওদের। লিভারপুলের হয়ে অসাধারণ এক মৌসুম কাটিয়েছেন সালাহ। প্রিমিয়ার লিগের গোল্ডেন বুট জিতেছেন, উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে নিয়ে গেছে দলকে। সে ম্যাচে পাওয়া চোট কাটিয়ে যদি খেলতে পারেন প্রথম ম্যাচ থেকেই তবে বিশ্বকাপেও যে দলের প্রধান ভরসার নাম হয়ে উঠবেন তা বাজি ধরেই বলা যায়। তিন দশক ধরে কোচিংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত আর্জেন্টাইন হেক্টর কুপার কখনো বিশ্বকাপের স্বাদ পাননি। ২৮ বছর ধরে বিশ্বকাপে না খেলা মিসরকে যেভাবে নিয়ে এলেন বিশ্বকাপে তাতে মনে হচ্ছে মিসরের জন্য কুপারের চেয়ে যথাযথ কোচ আর কেউ হতেই পারতেন না।
 
২০১৮ বিশ্বকাপে মিসরের গ্রুপ তুলনামূলক সহজই বলা চলে। গ্রুপ এ-তে রাশিয়া, সৌদি আরব, উরুগুয়ের যে কাউকেই হারনোর সক্ষমতা আফ্রিকান দলটি রাখে। তবে পরের রাউন্ডে মিসরের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হচ্ছে ক্রিশ্চিয়ান রোনালদোর পর্তুগাল অথবা স্পেন। তাই এটা অনেকটা অনুমিতই যে, অতিমানবীয় কিছু করে না বসলে দ্বিতীয় রাউন্ডেই শেষ হয়ে যেতে পারে ফারাওদের এবারের বিশ্বকাপ-যাত্রা।
 
২০০২-এর পর এবারই প্রথমবারের মত বিশ্বকাপে খেলতে আসা সেনেগালকে ভাবা হচ্ছে বিশ্বকাপের অন্যতম প্রতিভাবান দল। দলটিতে আছেন লিভারপুলের হয়ে চ্যামিপয়ন্স লিগের অন্যতম সেরা পারফর্মার লিভারপুল উইঙ্গার সাদিও মানে, ন্যাপোলির ডিফেন্ডার কালিদু কৌলিবালি, মোনাকোর কেইটা বালদে, এভারটনের ইদ্রিসা গানা গুয়েদের মত খেলোয়াড়। দলের কোচ হিসেবে আছেন ২০০২ বিশ্বকাপে সেনেগালকে নেতৃত্ব দেয়া আলিউ সিসে। দলে তারকার ছড়াছড়ি থাকা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় খেলার অভিজ্ঞতা খুবই কম দলটির। ‘তেরেঙ্গা’দের সাফল্যের পথে প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়াতে পারে এটি। শেষ ষোলতে জায়গা করে নিতে গ্রুপ এইচে সেনেগাল লড়বে জাপান, পোল্যান্ড এবং কলম্বিয়ার বিপক্ষে। গ্রুপে কোনো পরিষ্কার ফেভারিট না থাকায় ২০০২ বিশ্বকাপের পুনরাবৃত্তি কিংবা তার চেয়েও ভালো কিছু উপহার দেওয়ার সুযোগ থাকছে সেনেগালের সামনে। স্বপ্নের মত বিশ্বকাপ বাছাই কেটেছে আরেক আফ্রিকান দল মরক্কোর। মরক্কোর পোস্টে এ সময় ঢুকেছে মাত্র একটি গোল, পরাজয় বরণ করেছে মাত্র একটি ম্যাচে।
 
১৯৯৮ সালের পর এই প্রথম বিশ্বকাপ খেলতে আসা মরক্কো নিজেদের খানিকটা দুর্ভাগাই ভাবতে পারে। গ্রুপ বি-তে তাদের প্রতিপক্ষ স্পেন,পর্তুগাল এবং ইরান। কাগজে-কলমে দারুণ ব্যালান্সড দল স্পেন আর ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগালই ফেভারিট গ্রুপটিতে। তবে মেদহি বেনাটিয়ার নেতৃত্বে মরক্কো রক্ষণ বেশ জমাট। পুরো বাছাইপর্বে মাত্র এক গোল হজম করা তো আর চাট্টিখানি কথা নয়! কিন্তু দলটির সমস্যা তাদের আক্রমণভাগে। বাছাইপর্বে তাদের ছয় ম্যাচের তিনটিই শেষ হয়েছে গোলশূন্য ড্রয়ে। তবে দলটির কোচিংয়ের দায়িত্বে আছেন ফরাসি কোচ হার্ভে রেনার্ড, যিনি তার কোচিং ক্যারিয়ারে জাম্বিয়া আর আইভোরি কোস্টের হয়ে জিতেছেন আফ্রিকান নেশন্স কাপ। হয়তো আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় তার অভিজ্ঞতা দলটির সমস্যা দূর করায় সাহায্য করতে পারে।
 
নিজেদের ফুটবল ইতিহাসের পঞ্চম বিশ্বকাপ খেলতে রাশিয়ায় পা রেখেছে আরেক আফ্রিকান দল তিউনিসিয়া। কাগজে-কলমে এরাই সবচেয়ে দুর্বল আফ্রিকান দল। গ্রুপ জিতে আফ্রিকান দেশটির প্রতিপক্ষেরা হচ্ছে: ইংল্যান্ড, বেলজিয়াম এবং নবাগত পানামা। রাশিয়া বিশ্বকাপে তিউনিসিয়ার সব আশা হতে পারতেন মিডফিল্ডার ওয়াহবি খাজরি, নাইম স্লিতি, এবং স্ট্রাইকার ইউসেফ মসাকনি ত্রয়ী। কিন্তু কাতারি লিগে খেলতে গিয়ে চোট পেয়ে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেছেন ইউসেফ। দলে ইউসেফের গুরুত্ব বুঝাতে কোচ নাবিল মালৌল বলেন,‘ইউসেফকে ছাড়া তিউনিসিয়ার খেলা অনেকটা মেসি ছাড়া আর্জেন্টিনার খেলার মত।’ ইউসেফের ইনজুরি দলটির পরের রাউন্ডে যাওয়ার নিভু নিভু আশার আলোটিকেও দপ করে নিভিয়ে দিয়েছে। আর তাই, প্রথম রাউন্ড থেকেই দলটির বিদায় অনেকটা অনুমিতই বলা চলে।
 
ইত্তেফাক/কেকে
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
১৯ অক্টোবর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৪২
যোহর১১:৪৪
আসর৩:৫২
মাগরিব৫:৩৩
এশা৬:৪৪
সূর্যোদয় - ৫:৫৭সূর্যাস্ত - ০৫:২৮