বিশ্বকাপ ফুটবল | The Daily Ittefaq

ফাইনালে চোখ ক্রোয়েশিয়ার, অন্যরকম খেলার প্রত্যয়ে ডেনমার্ক

ফাইনালে চোখ ক্রোয়েশিয়ার, অন্যরকম খেলার প্রত্যয়ে ডেনমার্ক
স্পোর্টস ডেস্ক০১ জুলাই, ২০১৮ ইং ১২:৪২ মিঃ
ফাইনালে চোখ ক্রোয়েশিয়ার, অন্যরকম খেলার প্রত্যয়ে ডেনমার্ক
ক্রোয়েশিয়ার অধিনায়ক লুকা মদ্রিচ (মাঝে)।
শতভাগ জয়ের রেকর্ড নিয়েই শেষ ষোলোয় পা রেখেছে ক্রোয়েশিয়া। যার ফলে ফিফা র্যাংকিংয়ে ৩ নম্বর স্থানে উঠে এসেছে পূর্ব ইউরোপের দলটি। ক্রোটদের বর্তমান লক্ষ্য গ্রুপ পর্ব থেকে পাওয়া আত্মবিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নেওয়া। অন্যদিকে গ্রুপ পর্বে খুবই নিরস ফুটবল খেলেছে ডেনমার্ক। দ্বিতীয় পর্বে সে ভাবমূর্তিকে ঝেড়ে ফেলে ক্রোয়েশিয়াকে চমকে দেওয়ার ব্যাপারে প্রত্যয়ী ডেনিশরা।
 
নিজনি নভগরদ স্টেডিয়ামে আজকের ম্যাচটিই ক্রোয়েশিয়ার প্রথম ম্যাচ নয়। আর্জেন্টিনাকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন মদ্রিচ-রাকিটিচরা এই একই ভেন্যুতে। আজকের ম্যাচ জিতে গেলে সাবেক বিশ্বচ্যামিপয়ন সেপন অথবা স্বাগতিক রাশিয়ার বিপক্ষেও এই ভেন্যুতেই সেমিফাইনালে জায়গা করে নেওয়ার জন্য লড়বে তারা।
 
স্বাধীনতা লাভের প্রায় সাত বছর পর ১৯৯৮ এর আসরে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলতে আসে ক্রোয়েশিয়া। প্রথম আসরেই তৃতীয় হয়ে সবাইকে চমকে দেয় দলটি। অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার লুকা মদ্রিচের নেতৃত্বে আর্জেন্টিনাকে ছাড়াও নাইজেরিয়া এবং আইসল্যান্ডকে হারানো দলটি এখন ১৯৯৮-এর সাফল্যকেও ছাড়িয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে।
 
নেদারল্যান্ডের বিপক্ষে ২-১ গোলে জিতে সেবার তৃতীয় স্থান নিশ্চিত করেছিল ক্রোয়েশিয়া। সে স্মৃতি রোমন্থন করে দলটির ডিফেন্ডার দেজান লভরেন বলেন, ‘আমার তখন নয় বছর বয়স ছিল। আমার মনে আছে আমার মা কিভাবে আনন্দে চিৎকার করছিলেন যখন আমরা গোল করেছিলাম।’ তিনি মনে করেন সে সাফল্যকে পেছনে ফেলার মতো সামর্থ্য ক্রোয়েশিয়ার এই দলটির আছে। তবে কিছুটা ভাগ্যেরও সহায়তা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
 
তিনি বলেন, ‘আমরা সেটাকে অবশ্যই ছাড়িয়ে যেতে পারি।  তবে সেজন্যে কিছুটা ভাগ্যেরও সহায়তা প্রয়োজন আমাদের। পরের পর্বে আমাদের সামনে ভালো প্রতিপক্ষ আছে, এটা কঠিনই হবে।’
 
দলের আরেক মিডফিল্ডার ইভান রাকিটিচও কথা বললেন একই সুরে। তিনি বলেন, ‘ঈশ্বর চাইলে আমরাও তেমন ফলাফল অর্জন করতে পারি, হয়ত তারচেয়েও বেশি কিছু! আমি বলব না এটা আমাদের চাপে ফেলে দিচ্ছে। আসরটিকে উপভোগ করতে হবে আমাদের। আমরা বিশ্বকে দেখিয়ে দিতে চাই আমাদের দলটা কত ভালো দল, আমরা দেশের জন্য কতটা কঠিনভাবে লড়াই করি। আশা করি বিশ বছর পর অন্যরাও আমাদের নিয়ে একই সুরেই কথা বলবে।’
 
অন্যদিকে ডেনিশরা বিশ্বকাপে এসেও তাদের অপরাজিত যাত্রা টিকিয়ে রাখতে পেরে আছে বেশ খোশমেজাজেই। ফ্রান্সের বিপক্ষে ড্রয়ের ফলে তাদের অপরাজিত থাকার এ যাত্রা উন্নীত হয়েছে ১৭-তে।  ডেনমার্কও ১৯৯৮ বিশ্বকাপটি কাটিয়েছিল স্বপ্নের মতো। সেবার কোয়ার্টার ফাইনালে খেলেছিল তারা। কোচ অ্যাগে হ্যারেইদের অধীনে ডেনিশরা তাদের সে সাফল্যকে ছুঁতে বেশ মরিয়াই।
 
তবে টুর্নামেন্টে মাত্র দুই গোল করা ডেনমার্ক তাদের কৌশলে পরিবর্তন আনতে পারে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে। এ ম্যাচে আরও আক্রমণাত্মক এবং মনোরম ফুটবল খেলার কথা দিয়েছেন ডেনমার্ক কোচ। টটেনহাম মিডফিল্ডার ক্রিশ্চিয়ান এরিকসেনই যে কোচের আক্রমণাত্মক কৌশলের নিউক্লিয়াস হবেন, তা বলাই বাহুল্য।
 
ডেনমার্ক মিডফিল্ডার থমাস ডেলানি বলেন, ‘আমরা জানি প্রতিপক্ষ হিসেবে আমরা এখনো ভয়ঙ্কর প্রতিপক্ষ হয়ে উঠতে পারিনি। আমরা টিকিটাকা খেলার চেষ্টা করে ৫-০ ব্যবধানে হারার মতো দল নই। কিন্তু ফ্রান্সের বিপক্ষে আমরা যা করেছি সেরকম খেলতে দেখে অভ্যস্ত নয় আমাদের দর্শকরা। আমরা খুব কম সময়ই তেমন খেলি। এবং ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটা বেশ ভিন্ন এক প্রদর্শনীই হবে।’
 
ইত্তেফাক/মোস্তাফিজ
 
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৩৩
যোহর১১:৫২
আসর৪:১৩
মাগরিব৫:৫৭
এশা৭:১০
সূর্যোদয় - ৫:৪৭সূর্যাস্ত - ০৫:৫২