বিশ্বকাপ ফুটবল | The Daily Ittefaq

রাশিয়া ও ক্রোয়েশিয়া শেষ আটে

রাশিয়া ও ক্রোয়েশিয়া শেষ আটে
স্পোর্টস ডেস্ক০২ জুলাই, ২০১৮ ইং ০৯:২৯ মিঃ
রাশিয়া ও ক্রোয়েশিয়া শেষ আটে
গোলরক্ষক ইগর আকিনফিভ টাইব্রেকে দুটি পেনাল্টি ঠেকিয়ে রাশিয়াকে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে পৌছে দিলেন। তাতে কপাল পুড়লো সাবেক চ্যাম্পিয়ন স্পেনের। এ জয়ে রাশিয়া শেষ আটে প্রতিপক্ষ হিসেবে পেল ক্রোয়েশিয়াকে।
 
গতকাল রবিবার বিশ্বকাপের শেষ ষোলয় রাশিয়ার মতো ক্রোয়েশিয়াও টাইব্রেকে জিতে শেষ আটে খেলা নিশ্চিত করে। রাশিয়া ও স্পেনের মতো ক্রোয়েশিয়া এবং ডেনমার্কের খেলাটিও নির্ধারিত সময়ে ১-১ ছিল। ক্রোয়েশিয়া দুই গোলরক্ষকের বল ঠেকানোর নৈপুণ্যের মধ্যেও নাটকীয় পেনাল্টি শুটআউটে ৩-২ গোলে জয়ী হয়।
 
নিঝনি নোভগোরদে চতুর্থ মিনিটের মধ্যেই হয় গোলদুটি। ম্যাথিয়াস জোরগেনসেনের গোলে ডেনমার্ক এগিয়ে যায়। কিন্তু চতুর্থ মিনিটেই তা শোধ করে দেন মারিও মানজুকিচ। এরপর আর গোল না হলে অতিরিক্ত সময়ে গড়ায় খেলা।
 
ক্রোয়েশিয়া ১১৪তম মিনিটে পেনাল্টি পেলেও দলের সবচেয়ে বড় তারকা লুকা মোড্রিচ তা ডেনমার্ক গোলরক্ষকের হাতে তুলে দেন। শেষ পর্যন্ত বিজয়ী বেছে নিতে ট্রাইব্রেকে গড়ানো খেলাটিতে জয়ী হয় ক্রোয়েশিয়া। খেলার ধরণ অনুযায়ী ক্রোয়েশিয়া শ্রেয়তর হিসেবেই পরের রাউন্ডে গেল।
 
এদিকে যত অবিশ্বাস্যই ঠেকুক না কেন, জার্মানি, আর্জেন্টিনার পর স্পেনকেও বিদায় নিতে হলো। স্বাগতিক রাশিয়া গতকাল রবিবার সারাক্ষণ চাপে থেকেও খেলাটিকে ১-১ রেখে ১২০ মিনিট পার করে। এরপর টাইব্রেকে ৪-৩ গোলে স্পেনকে হারায়। অথচ ৭৯ ভাগ সময় স্পানিশদের পায়ে ছিল বল। কিন্তু দলটি কোন ভাবেই অধিকাংশ সময় ১০ জনের রক্ষণভাগে পরিণত হওয়া রাশিয়াকে হারাতে পারেনি।
 
স্পেনের একতরফা আক্রমনকে নির্ধারিত ৯০ মিনিটের পর অতিরিক্ত সময়েও ঠেকিয়ে রাখার পর টাইব্রেকে গোলরক্ষক আকিনফিভের কৃতিত্বে শেষ আট নিশ্চিত হয় আয়োজকদের। আকিনফিভ দুই ঘন্টার লড়াইয়ে কয়েকবার স্পানিশ আক্রমন দেন। এরপর টাইব্রেকে রুখে দেন কোকে ও আসপাসের শট দুটি।
 
চলতি বিশ্বকাপের প্রথম টাইব্রেকে রাশিয়ার পক্ষে গোল চারটি করেন ফয়দর স্মলভ, সের্গেই ইগনাশেভিচ, আলেকজান্ডার গোলোভিন ও ডেনিস চেরিশভ। স্পেনের হয়ে আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা, জেরার্ড পিকে ও সার্জিও র্যামোস। কিন্তু কোকে ও আসপাসের ব্যর্থতায় কপাল পুড়ে ২০১০ বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়নদের।
 
মস্কোর লুঝনিকি স্টেডিয়ামে নির্ধারিত সময়ের ফল ছিল ১-১। যদিও সের্গেই ইগনাশেভিচের আত্নঘাতি গোলে দ্বাদশ মিনিটেই পিছিয়ে পড়েছিল রাশিয়া। তবে ৪১ মিনিটেই তা শোধ করে দেন স্ট্রাইকার আরটেম জিউবা। বাকিটা ইতিহাস। লুঝনিকির ৮০ হাজার দর্শকের অধিকাংশের সমর্থন নিয়ে স্বাগতিকরা শক্তিশালী স্পেনকে রুখে দেয়।
 
স্পেন অধিকাংশ সময় বল নিজেদের দখলে রেখেও রাশিয়াকে কাবু করতে পারেনি। এর মধ্যে কোচ ফার্নান্দো হিয়েরো শুরুর একাদশে রাখেননি আন্দ্রেস ইনিয়েস্তাকে। এটি ছিল ১২ বছরের মধ্যে তার স্পেন দলে প্রথম একাদশে না থাকার ঘটনা। আক্রমনভাগে দিয়েগো কস্তা অন্যদিনের মতো বল পাননি। স্পেন দলও মধ্যমাঠে বল দেয়া নেয়াতেই বেশি সময় কাটায়।
 
রাশিয়া সর্বশেষ কোয়ার্টারে খেলেছিল ১৯৯৬ সালে। সেবার তারা সেমিফাইনাল পর্যন্ত পৌছায়।
 
এবারের বিশ্বকাপের ৩২ দলের মধ্যে ফিফা র্যাংকিংয়ে সবার পেছনে (৭০) থেকে আসর শুরু করেছিল রাশিয়া। সমর্থকদেরও খুব একটা আস্থা ছিল না দলটির ওপর। এর মধ্যেই তারা শেষ ষোলয় ওঠে পরাস্ত করে বিশ্বের ১০ নম্বরের দলটিকে।
 
ইগনাশেভিচের আত্নঘাতি গোলটি হলো চলতি বিশ্বকাপের ১০ম। স্পেনের অ্যাসেনসিওর নেয়া ফ্রিকিকের সময় ইগনাশেভিচ স্পানিশ অধিনায়ক সার্জিও র্যামোসকে আটকাতে গেলে দুজনেই মাটিতে পড়ে যান। তার মধ্যেই বলটি স্বাগতিক ডিফেন্ডারের পায়ে লেগে জালে চলে যায়।
 
রুশরা অবশ্য ভড়কে না গিয়ে পাল্টা লড়াই চালাতে থাকে। এরই সুবাদে ৪১ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোলটি শোধ করে দেন স্ট্রাইকার জিউবা। রাশিয়ার কর্নার ঠেকাতে গিয়ে জেরার্ড পিকে বক্সে লাফিয়ে উঠলে বল তার হাতে লাগলে রেফারি পেনাল্টির নির্দেশ দেন। ঠান্ডা মাথায় বল জালে পাঠিয়ে বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে তিন গোল দেয়াদের কাতারে উঠে আসেন জিউবা।
 
এ লড়াইয়ে পাচ গোল দিয়ে এখনও শীর্ষে আছেন ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইন। চার গোল নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে বেলজিয়ামের রোমেলো লুকাকু। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর গোলও চারটি। কিন্তু পর্তুগাল বিদায় নেয়ায় তার আর সুযোগ নেই। জিউবার মতোই তিন গোলে আছেন তার স্বদেশী চেরিশভ, স্পেনের কস্তা, ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপে ও উরুগুয়ের এডিসন কাভানি।
 
ইত্তেফাক/কেকে
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৩২
যোহর১১:৫১
আসর৪:১২
মাগরিব৫:৫৬
এশা৭:০৯
সূর্যোদয় - ৫:৪৭সূর্যাস্ত - ০৫:৫১