বিশ্বকাপ ফুটবল | The Daily Ittefaq

সেরা সাফল্য আনতে চায় ক্রোয়েশিয়া

সেরা সাফল্য আনতে চায় ক্রোয়েশিয়া
স্পোর্টস রিপোর্টার০৭ জুলাই, ২০১৮ ইং ০৯:২১ মিঃ
সেরা সাফল্য আনতে চায় ক্রোয়েশিয়া
১৯৯৮ সালে স্বাধীন দেশ হিসেবে প্রথম বিশ্বকাপ খেলতে এসেই দুনিয়াকে চমকে দিয়েছিলো ক্রোয়েশিয়া। আবির্ভাবেই সেমি-ফাইনালে চলে গিয়েছিলো তারা। জার্মানিকে ৩-০ গোলে হারিয়েছিলো কোয়ার্টার ফাইনালে। সেই থেকে অবশ্য আর সেমি-ফাইনালে ওঠা হয়নি এই দলটির। আজ আবার ক্রোয়েশিয়ার সামনে সেই সাফল্যের হাতছানি। আজ স্বাগতিক রাশিয়ার বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে সেই সেমি-ফাইনালের স্বপ্ন নিয়েই মুখোমুখি হবে ক্রোয়েশিয়া।
 
জ্লাতকো দালিচের এই দলটা ইতিমধ্যে প্রমাণ করেছে, এবার বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা দল তারা। দারুণ মিডফিল্ড, আক্রমণভাগ ও জমাট ডিফেন্স নিয়ে এই দলটি যে বড় বড় নামে ভয় পায় না, তার প্রমাণ তারা রেখেছে। প্রথম পর্বে আর্জেন্টিনাকে গুঁড়িয়ে দিয়ে তারা দেখিয়ে দিয়েছে, এই দলটিকে কেন ক্রোয়েশিয়ার সোনালি প্রজন্ম বলা হচ্ছে। তবে দ্বিতীয় পর্বে তাদেরই আবার ডেনমার্কের বিপক্ষে জিততে পেনাল্টি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে। ক্রোয়েশিয়ান দলটির খেলোয়াড়রা মনে করছেন, তারা প্রমাণ করেছেন, তারা আরও বড় কিছুর যোগ্য। সেই বড় কিছুর পথেই তারা ছুটতে চান বলে বলছিলেন ডিফেন্ডার দোমাগোজ ভিদা। তিনি বলছিলেন, ‘আমরা এই বিশ্বকাপে দেখিয়েছি, আমাদের আরও বড় কিছু স্বপ্ন দেখার অধিকার আছে। আমরা আসলেই ভালো খেলছি। আমাদের এমন কিছু খেলোয়াড় আছে, যাতে করে আমরা অবশ্যই শেষ পর্যন্ত যাওয়ার স্বপ্ন দেখতে পারি।’
 
 ক্রোয়েশিয়ার এই দলটিতে অভিজ্ঞতা বা তারকার কমতি নেই। আছেন লুকা মর্ডিচ বা ইভান রাকিটিচের মতো তারকা। তবে ক্রোয়েশিয়ার আগের ম্যাচে সেই অধিনায়ক মর্ডিচই ভিলেন হয়ে উঠেছিলেন। পেনাল্টি মিস করে দলকে ফেলে দিয়েছিলেন বিপাকে। তবে এই ঘটনার পরও দলের খেলোয়াড়রা আছেন মর্ডিচের পেছনে। যেমন ইন্টার মিলানের উইঙ্গার ইভান পেরিসিচ বলছিলেন, ‘সে (মর্ডিচ) আমাদের অধিনায়ক, সে আমাদের নেতা। আমরা সবাই তার পেছনে আছি।’ রিয়াল মাদ্রিদের মর্ডিচ সম্ভবত এই টুর্নামেন্টের এখন পর্যন্ত সেরা মিডফিল্ডার। এই দলটির বিভিন্ন পজিশনে গভীরতা রীতিমতো ঈর্ষা করার মতো।
 
দালিচের ক্রোয়েশিয়া দলের ১৬ জন খেলোয়াড় ইউরোপের সেরা পাঁচটা লিগে খেলেন। এর মধ্যে মোনাকোর গোলরক্ষক ড্যানিয়েল সুবাসিচ ইতিমধ্যে ডেনমার্কের বিপক্ষে তিনটি পেনাল্টি ঠেকিয়ে নায়ক হয়ে গেছেন। এ ছাড়া শক্তিশালী আন্তে রেবিচ সকলকে বেশ মুগ্ধ করেছেন। তবে দলের খেলোয়াড়রা বলছেন, এইসব তারকার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ তাদের জন্য কোচ দালিচের দর্শন। তিনিই এই দলটাকে বদলে দিয়েছেন বলে তারা দাবি করছেন। যেমন- পেরিসিচ বলছিলেন, ‘প্রত্যেক কোচের কিছু নতুন আইডিয়া থাকে। সম্ভব দল হিসেবে আমাদের থেকে সেরাটা বের করে এনে এই কোচ আমাদের নতুন একটা যুগে প্রবেশ করিয়েছেন।’ অবশ্য এর মধ্যে দলে হালকা কিছু ঝামেলার গন্ধও তৈরি হয়েছে। এসি মিলানের স্ট্রাইকার নিকোলা কালিনিচকে বিশ্বকাপ চলা অবস্থায় বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ আছে যে, তিনি নাইজেরিয়ার বিপক্ষে বদলি হিসেবে নামতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন।
 
তবে দলের পরিবেশ সুন্দর আছে বলেই দাবি করছেন রেবিচ, ‘আমি মনে করি, আমাদের দলের পরিবেশ খুবই সুন্দর আছে। আমরা দেড়মাসের মতো একসাথে আছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত সামান্যতম ঝামেলা কোথাও হয়নি।’ আর এসব ঝেড়ে ফেলে এখন আরো সামনে চোখ দিতে চাইছেন খেলোয়াড়রা। রেবিচ বলছিলেন,তাদের আরও ভালো কিছু অর্জনের সামর্থ্য আছে,‘আমি মনে করি, আমাদের দল হিসেবে আরো ভালো করার যোগ্যতা আছে। আমি মনে করি, আমরাই শেষ পর্যন্ত টুর্নামেন্টের সুর ঠিক করে দেবো।’
 
ইত্তেফাক/এএম
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৩২
যোহর১১:৫২
আসর৪:১৪
মাগরিব৫:৫৮
এশা৭:১১
সূর্যোদয় - ৫:৪৭সূর্যাস্ত - ০৫:৫৩